Abhishek Banerjee: অনুব্রত মণ্ডল বা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, সকলের নিশানাতেই একজন, অভিষেক বিরোধী ঝড় পরিণত হয়েছে সাইক্লোনে
কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে এখন অভিষেক-বিরোধী ঝড়। তাঁকে সরানোর দাবিতে সরব হচ্ছেন একের পর এক নেতা। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, "অভিষেককে কিছুদিনের জন্য আলাদা করে দেওয়া উচিত।" বিকাশ রায়চৌধুরী বলছেন, "সেনাপতির প্রতি আমাদের ভরসা নেই।" ঋতব্রত তৃণমূলের শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সন্তোষ কুমার সিং বলছেন, "অভি

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে এখন অভিষেক-বিরোধী ঝড়। তাঁকে সরানোর দাবিতে সরব হচ্ছেন একের পর এক নেতা। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, "অভিষেককে কিছুদিনের জন্য আলাদা করে দেওয়া উচিত।" বিকাশ রায়চৌধুরী বলছেন, "সেনাপতির প্রতি আমাদের ভরসা নেই।" ঋতব্রত তৃণমূলের শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সন্তোষ কুমার সিং বলছেন, "অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যেদিন সরে যাবে দেখবেন, সেদিনটা দেখবেন। কী হয় দেখে নেবেন।" সম্প্রতি আই প্য়াকের নাম করে ঘুরিয়ে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেই নিশানা করছেন অনুব্রত মণ্ডলও। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বা অনুব্রত মণ্ডলের মতো প্রবীণ তৃণমূল নেতারও এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূলের মধ্যে যে অভিষেক বিরোধী ঝড় বইছিল, তা এখন পরিণত হয়েছে সাইক্লোনে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, "অভিষেককে কিছুদিনের জন্য আলাদা করে দেওয়া উচিত। সাইড করে দেওয়া উচিত। রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। দিদি যদি সংশোধন করে, মানুষের দাবির প্রতি যদি দিদি আস্থা দেখায়, অর্থাৎ অভিষেককে যদি সাইড করে দেয় দল থেকে, তাহলে হয়তো আবারও সমস্ত নেতা-নেত্রী, MLA, MP আবার ফিরতে পারে দিদির পাশে।" বীরভূমে তৃণমূলের এই অবস্থা কেন হল? সিউড়ির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, "আমার তো মনে হয় ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের) প্রতি তো অনেকের শ্রদ্ধা, ভালবাসা সবই আছে। কিন্তু সেনাপতি, তাঁর প্রতি আমাদের ভরসা নেই।" ঋতব্রত তৃণমূলের পদ পয়েয়েছেন সন্তোষ কুমার সিং। তিনিও সওয়াল করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, "আমাদের পরিষ্কার কথা যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে কর্পোরেট তৃণমূলের নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জানেন ৮০ টার উপর বিধায়কের নাম কেটে দিয়েছিল। যদি ২০০ সিটও এবারে তৃণমূল পেত, তাহলেও ৮০ থেকে ৯০ জন বিধায়ক প্রথম মিটিংয়েই যেত না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন সরে যাবেন, সেদিন দেখবেন। কী হয় দেখে নেবেন। সরকারটাকেই পুরো কব্জায় করে নিয়েছিল।" অনুব্রত মণ্ডল এক সময় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম কাছের। কিন্তু বর্তমানে ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা কমিটিতে নাম রয়েছে সেই অনুব্রতর। তিনিও আইপ্যাকের নাম করে ঘুরিয়ে নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। কেষ্ট বলেন, "মমতা ব্যানার্জির ভুলের জন্য হল। আইপ্যাক হয়ে গিয়েছে ফেকপ্যাক। ওই তো শেষ করল। পঞ্চায়েতে টাকা খেল। পুরসভায় টাকা খেল। বিধানসভায় টাকা খেল। ওই তো শেষ করল দলটাকে। একটা উত্তরপ্রদেশের ছেলে, সে কী জানবে মুরারই সম্পর্কে? একটা রাজস্থানের ছেলে, কী জানবে নানুর, লাভপুরের ব্যাপারে? দিদির হাতে থাকলে দলটা যেতই না। আমি কারও নাম করতে রাজি নই। ছোট থেকে তো ও রাজনীতি করেনি। দেওয়ালও লেখেনি, মিছিলও করেনি। সেটা আমরা করেছি। সেই ভাবে তো ওঁকে করতে হয়নি।" ঘুরে ফিরে তৃণমূলের নেতাদের নিশানায় একজনই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ভাঙা-গড়া, বিদ্রোহ বা ঘনিষ্ঠদের দূরে সরে যাওয়া। এই সবের মধ্যে থেকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর কোনও ইঙ্গিতই দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।