Abir Chatterjee: আগে শ্যুটিংয়ে যেতে দেরি হত, এখন ভাবি, ছোটরা কী শিখবে আমায় দেখে: আবির চট্টোপাধ্যায়
তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন পরেই ছবি মুক্তি। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে, স্বাধীনতা সংগ্রামী সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রে দেখা যাবে, আবির চট্টোপাধ্যায়কে (Abir Chatterjee)। সিনেমায় নিজের চরিত্র থেকে শুরু করে, দায়িত্ব, চাপ.. এবিপি লাইভ বাংলার (ABP Live Bangla) সঙ্গে মনখোলা আড্ডায় আ

তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন পরেই ছবি মুক্তি। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে, স্বাধীনতা সংগ্রামী সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রে দেখা যাবে, আবির চট্টোপাধ্যায়কে (Abir Chatterjee)। সিনেমায় নিজের চরিত্র থেকে শুরু করে, দায়িত্ব, চাপ.. এবিপি লাইভ বাংলার (ABP Live Bangla) সঙ্গে মনখোলা আড্ডায় আবির চট্টোপাধ্যায়। 'আবির থাকা মানেই, হিট', এটা একটা বাড়তি চাপ পুজো মানেই, আবির চট্টোপাধ্যায়ের সিনেমা মুক্তি পাবেই। পুজোর ছবি নাকি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি, কোন দায়িত্বটা বেশি? আবির হেসে উত্তর দিলেন, 'সৃজিতের পুজোর ছবি। সৃজিতের ছবির এমনিই একটা ফ্যানবেস রয়েছে। আর ওঁর পুজোর ছবির সাফল্যের মাত্রা আরও ঈর্ষণীয়। এবারে সৃজিতের পুজোর সিনেমায় একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আমায় দেওয়া হয়েছে। ফলে জোড়া দায়িত্ব।' ইন্ডাস্ট্রির একটা অলিখিত ধারণা রয়েছে যে, পুজোর ছবিতে আবির থাকা মানেই, হিট! কথা শেষ করতে না দিয়ে আবির হেসে বললেন, 'এটা একটা বাড়তি চাপ। তবে আমি এখন অভ্যাস করছি, কীভাবে এই চাপগুলো না নেওয়া যায়। এগুলো কীভাবে এড়িয়ে যেতে হয়, সেই স্কিলটাও সেট করতে হবে। এর একটা অন্যতম উপায়, কাজটা মন দিয়ে করা আর বাকিটা পরিচালকের ওপর ছেড়ে দেওয়া। বাকিটা দর্শক বুঝবেন।' এত বছর টলিউডে কাটিয়েও আবির চাপ সামলানো শিখছেন? অভিনেতা বলছেন, 'আসলে বয়স আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে, চাপটা বাড়ে, দায়িত্ব বাড়ে। আগে আমিও ছোট ছিলাম, এতটা দায়িত্ব নিতে হত না। একটা সময় পর্যন্ত আমার টাইম ম্যানেজমেন্ট খুব খারাপ ছিল। দেরি করে শ্যুটিংয়ে যেতাম। এখন মনে হয়, আমায় দেখে ছোটরা কী শিখবে? সিনিয়র অভিনেতারা আমার জন্য ফ্লোরে অপেক্ষা করছেন, এটা ভীষণ খারাপ। এখন তাই আর এই ভুলটা করি না। আর হ্যাঁ, আমি এখন বুঝি মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন।' 'সব্যসাচী মল্লিকের মতো চরিত্র আমার কাছে বিরল সম্মান' কেন ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra) ছবিটি আবিরের আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছিল? অভিনেতা বলছেন, 'প্রথমত, ছবির বিষয়বস্তু। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় লেখক শুধু বাংলায় কেন, গোটা বিশ্বে খুব কম আছেন। তাঁর 'পথের দাবি' লেখা, সেই সময়ের রাজনীতি, ব্যান.. সবকিছুকে নিয়ে গল্প। এই সিনেমা আমাদের পূর্বসুরিদের কথা বলে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি, বাংলার লেখকদের, বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কী ভূমিকা ছিল.. সেটা এই সময়ে দাঁড়িয়ে খুব বলা প্রয়োজন। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। সবাইকে একবার মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে, স্বাধীনতা কোন পথে এসেছে আর সেখানে বাঙালির কী ভূমিকা ছিল। এটা আত্মাভিমান নয়, গৌরব।' আবির জানালেন, শুধু ছবির বিষয়বস্তু নয়, সব্যসাচীর চরিত্রও যথেষ্ট আকর্ষণ করেছিল তাঁকে। নায়কের কথায়, 'এই লোকটা (সব্যসাচী মল্লিক) কী পারে না? বহু ভাষায় কথা বলতে পারেন। একাধিক ছদ্মবেশ রয়েছে ছবিতে। ২ হাতে গুলি চালাতে পারেন। তিনি বিপ্লব ঘোষণা করেছিলেন যে, নরমপন্থা নয়। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিপ্লব। এই সময়ে দাঁড়িয়ে এগুলো শুনলে, গল্পকথা বলেই মনে হয়। কিন্তু তখন এটাই স্বাভাবিক ছিল, সাহসিকতা ছিল। ভয়ঙ্কর অত্যাচার গত সেই সময়ে, কিন্তু তাতে কোনও ভয় পাননি। সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রটাকে অতিমানবীয় মনে হতেই পারে। সত্যিই তো অতিমানবীয় একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়েই স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু আমরা কি এখন সেই স্বাধীনতার মর্যাদা দিতে পারছি? সব্যসাচী মল্লিকের মতো একটা চরিত্র পাওয়া, আমার কাছে বিরল সম্মান।' আরও পড়ুন: Tota Roy Choudhury: শুধুমাত্র টাকার জন্য সিনেমা করে দর্শকদের বিরক্তির পাত্র হব না: টোটা রায়চৌধুরী