Abishek Porel: জেল থেকে বেরনোর পর প্রথম মাঠে নেমেই ম্যাচের সেরা, নতুন জীবন শুরু অভিষেকের
সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন চিকিৎসক পড়ুয়া এক তরুণী। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিষেক পোড়েল। ৩৬ দিন কারাগারে ছিলেন চন্দননগরের ক্রিকেটার। বারবার তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছিল। অবশেষে

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন চিকিৎসক পড়ুয়া এক তরুণী। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিষেক পোড়েল। ৩৬ দিন কারাগারে ছিলেন চন্দননগরের ক্রিকেটার। বারবার তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছিল। অবশেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে জামিন দেয় আদালত। মুক্তি পান অভিষেক। তার ২৭ দিনের মাথায় রঞ্জি ট্রফির প্রত্যাবর্তনেই ম্যাচের সেরা হলেন অভিষেক পোড়েল। দিল্লির বিরুদ্ধে ব্যাটে দুরন্ত শতরান, উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে অনবদ্য় কিপিং দিয়ে ম্যাচে ফারাক গড়ে দিলেন চন্দননগরের বাঁহাতি। ৯ উইকেটে দিল্লিকে হারিয়ে রঞ্জি অভিযান শুরু হল বাংলার। জামিন পাওয়ার পরে তাঁকে আগলে রেখেছিলেন বাংলার সিনিয়র দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। জেলমুক্তির পরই অভিষেককে ফিরিয়ে নেন বাংলা দলে। প্রস্তুতিতে যাতে খমাতি না থাকে, তার জন্য সল্ট লেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে চড়া রোদেও প্র্যাক্টিস করাতেন। সঙ্গী ছিলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচেই অভিষেককে সুযোগ দেন লক্ষ্মীরতন। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন অভিষেক। ২ রানে তাঁর সহজ ক্যাচ পড়েছিল প্রথম ইনিংসে। আয়ূষ বাদোনির বলে স্লিপে লোপ্পা ক্যাচ ফেলেন দেন সনৎ সাঙ্গওয়ান। তারপর নিজেকে নতুন অঙ্গীকারে বেঁধে ফেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ৭০ বলে হাফসেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করেন ১৩৭ বলে। ১১টি চার, ১টি ছক্কা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২২৮ বলে ১৪৯ রান করেন। যা এই ম্যাচে সর্বোচ্চ। ৩৬ দিনের জেলজীবন তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে বলে এবিপি লাইভ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন অভিষেক। বলেছিলেন, 'মাঝে মধ্যে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তাম। দুর্বল সময়ে হনুমান চল্লিশা পাঠ করতাম। মনে জোর পেতাম। জেলটাকে জেল হিসাবে ভাবা বন্ধ করে দিতে একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। জেলের জীবন আমাদের স্বাভাবিক জীবনের মতো এত দ্রুত নয়। মন্থর গতির। মনে হতো, একদিন তো সূর্য উঠবেই। মনে মনে ভাবতাম, ছাড়া পেলে মাঠে ফিরব। ক্রিকেটকে জীবনের সর্বস্ব দেব। আমি খুব নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। অনেক লড়াই করেছি। খারাপ স্মৃতি ভুলে মাঠে ফিরে নতুন করে শুরু করতে চেয়েছি। এখনও আমার দিন শুরু হয় হনুমান চল্লিশা পাঠ করে, দিন শেষও হয় তা দিয়ে।' ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। জীবনের নতুন অধ্যায়ে ক্রিকেটেই নিমজ্জিত থাকতে চান চন্দননগরের তরুণ ক্রিকেটার। [yt]https://www.youtube.com/watch?v=PKwLsAu-z10[/yt]