Agnimitra Paul: "অ্যান্টি স্কিড রং করা হয়েছে, তাও কেন স্কিড করল...", চিংড়িহাটা ব্রিজে বাইক দুর্ঘটনা নিয়ে কী বললেন পুরমন্ত্রী?
কলকাতা: চিংড়িহাটা ব্রিজে বাইক দুর্ঘটনা। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রামধনু রং করার পর বৃষ্টির সময় চিংড়িহাটা ব্রিজে পর পর ৩ টে বাইক হড়কে পড়ে যায়। আর এই বিষয়টাকেই হাতিয়ার করে মমতা তৃণমূল। তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে তীব্র কটাক্ষ করে। তারপর এ

কলকাতা: চিংড়িহাটা ব্রিজে বাইক দুর্ঘটনা। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রামধনু রং করার পর বৃষ্টির সময় চিংড়িহাটা ব্রিজে পর পর ৩ টে বাইক হড়কে পড়ে যায়। আর এই বিষয়টাকেই হাতিয়ার করে মমতা তৃণমূল। তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে তীব্র কটাক্ষ করে। তারপর এই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন মন্ত্রীও। আরও পড়ুন: রামধনু রংয়ের উড়ালপুলে হড়কে পড়ল বাইক, অগ্নিমিত্রাকে নিশানা মমতা-তৃণমূলের, বিজেপি কী বলছে? এদিন এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "এটা হয়েছে চিংড়িঘাটার ব্রিজে। একটি মোটরসাইকেল স্কিড করেছে এবং সেই মোটরসাইকেল আরেকটা মোটর সাইকেলে গিয়ে ধাক্কা মেরেছে। সেও পড়ে গিয়েছে। বিষয়টা কেন হয়েছে সেটা কিন্তু আমরা এখনও জানি না। আমার ইঞ্জিনিয়ারদের আমি পাঠিয়েছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও বলা হয়েছে। আমিই বলেছি। KMDA-এর ইঞ্জিনিয়ার, KMDA-এর সিইও, কলকাতা পুলিশের সিপি, ডিজি পুলিশ, আমাদের ডিজি ফায়ার এবং PWD; এই পুরো বিষয়টা দেখছে।" কী রং ব্যবহার করা হয়েছিল? সেটাও স্পষ্ট করে এদিন জানিয়ে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। এই রংয়ের খরচ কোথা থেকে করা হয়েছিল, সেটাও জানিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "রং যেটা ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা কিন্তু অ্যান্টি-স্কিড রং ব্যবহার করা হয়েছে। এটা কিন্তু তেল রং ব্যবহার করা হয়নি। তারপরেও কেন স্কিড করল সেটা আমি বলতে পারব না। সেটা ইঞ্জিনিয়ার বলবে। বিষয়টা করা হয়েছিল কোনও সরকারি টাকা থেকে নয়। এটা CSR থেকে করা হয়েছিল। রাজ্যটাকে সুন্দর দেখানোর জন্য। সেখানে যদি মনে হয় যে পুলিশের যে মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে চোখে ব্রাইট লাগছে বা হয়তো স্কিড করছে, তাহলে আমরা বদলে দেব। তৃণমূল এখন যদি বলে যে এইটা কেন করছেন? ওটা করা হয়েছে কেন? ওদের মুখে কি মানায়?" যদিও এই রাস্তা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। তিনি বলেন, "আমাদের শহরের রাস্তায় কী ধরনের রং হবে কিংবা হবে না, সেটা এই বিষয়ে দেশের যে নীতি নির্ধারক সংস্থা, ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস, তাদের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, যে রাস্তার উপর এমন রং করা উচিত নয়। এই রং করার মধ্যে অনেকগুলো বিপদ রয়েছে। বড় বিপদ হচ্ছে এটা, এই ধরনের রং যখন রাস্তায় দেওয়া হলে ও সেই রাস্তা কোনও কারণে ভিজে থাকলে সেই অবস্থায় রাস্তায় গাড়ির হড়কে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এর ফলে, স্কিড রেজিস্ট্যান্স সাধারণত কমে যায়। দ্বিতীয় যে অসুবিধাটা হয়, সেটা হয় চালকদের। রাস্তায় এমন একাধিক রং থাকলে চালকদের গাড়ি চালানোর সময় মনঃসংযোগে অসুবিধা হয়। আর সেই কারণে তাঁদের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বেশি সময় লাগে ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। আর সেই কারণেই রাস্তার নিরাপত্তার বিষয়টা দেখলে রাস্তায় এত রং না দেওয়ায় উচিত। আর যদি করতেই হয়, রাস্তার ধারের অংশে এমন রং ব্যবহার করা যায়, যেখান দিয়ে মানুষ হাঁটে বা সাইকেল চলে। উড়ালপুলে কখনওই এমন করা উচিত নয়।"