Anubrata Mondal: 'দিদির সঙ্গের মধুর সম্পর্ক ছিল, কেন ভাটা পড়ল উনিই বলতে পারবেন : অনুব্রত মণ্ডল
উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ইঙ্গিত মিলেছিল গতকালই। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার তাঁকেই ফের বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। একশো শতাংশ ভালভাবে কাজ করব, বললেন অনুব্রত মণ্ডল। যদিও শরীর খারাপ থাকায় এদিন 'ঋতব্রত-তৃণম

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ইঙ্গিত মিলেছিল গতকালই। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার তাঁকেই ফের বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। একশো শতাংশ ভালভাবে কাজ করব, বললেন অনুব্রত মণ্ডল। যদিও শরীর খারাপ থাকায় এদিন 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরের বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে অবশ্য কটাক্ষ করেছে 'কালীঘাট-তৃণমূল'। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, অরূপ বিশ্বাস থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য - ভোটে ভরাডুবির পর থেকে একে একে সকলেই 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর সঙ্গ ছেড়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুব্রত মণ্ডলের নাম। অর্থাৎ এবার প্রিয় দিদির হাত ছাড়লেন তাঁর স্নেহের কেষ্ট-ও। জাতীয় কর্মসমিতি, রাজ্য কমিটির পর শনিবার তপসিয়ার বোট ক্লাবে জেলা কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠকে বসেছিল 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবির। সেই বৈঠকেই বীরভূমের জেলা সভাপতি হিসেবে অনুব্রত মণ্ডলের নাম চূড়ান্ত হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিনের বৈঠকে যোগ দিতে না পারলেও, 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরের সিদ্ধান্তে তিনি যে খুশি তা খোলাখুলি জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। উইকেন্ডে ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, রাজ্যজুড়ে জারি সতর্কতা, তুমুল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের অনুব্রত মণ্ডল বলেছেন, 'ভালই করেছে। দলটা চাঙ্গা হবে। আজকে ওয়ার্কিং কমিটি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোটা রাজ্যের ওপরে, সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। অনুব্রত মণ্ডল - বীরভূমের একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। একসময় বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল মানেই ছিল শেষ কথা। অন্যদিকে তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিকবার হুমকি-হুঁশিয়ারির অভিযোগ উঠলেও, এমনকী গরুপাচার মামলায় তাঁকে গ্রেফতারের পরও কেষ্টর পাশেই দাঁড়াতে দেখা গেছে তৃণমূল নেত্রীকে। অনুব্রত জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল। অনুব্রতর কথায়, 'মধুর সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কে কী করে ভাটা পড়ল, সেটা মমতা ব্যানার্জিই বলতে পারবে। আমি বলতে পারব না। আমার সঙ্গে দিদির সম্পর্ক এখনও ভাল।' অনুব্রত এও বলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বললে তিনিও বলবেন। অনুব্রতর কথায়, 'উনি কথা বললে আমি কথা বলব। কথা বলতে আপত্তি কী আছে।' আইপ্যাক নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর কথায়, 'আইপ্যাক দলটাকে শেষ করেছে। ২০০৯-এ তো আইপ্যাক ছিল না। একটা UP-র ছেলে তার কী নলেজ আছে মুরারই সম্পর্কে? একটা রাজস্থানের ছেলে তার লাভপুর-নানুর সম্পর্কে কী আইডিয়া আছে? তারা দল চালাবে। তারা টাকা তুলতে এসেছিল।' নতুন করে বীরভূমের দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুব্রত বলছেন, 'আমি তো আগেও ছিলাম। বরাবরই ছিলাম। জেল থেকে আসার পরও ছিলাম। তারপর সরাল... কেন সরাল বলতে পারব না। আবার দলের হয়ে কাজ করব।' ২০১১ সাল থেকে, বীরভূমে ভোট মানেই চোখ বন্ধ করে অনুব্রত মণ্ডলের ওপর ভরসা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ছবিটা বদলে যায় এবারের বিধানসভা ভোটের আগে। প্রকাশ্য মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলের এই ছবিটাই বলে দিচ্ছিল বীরভূম তৃণমূলে 'অল ইজ নট ওয়েল'। ভোটে ভরাডুবির পর এদিন 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরে যোগ দিয়ে ফের একবার আইপ্যাককে নিশানা করেছেন তিনি।