Arunachal Pradesh: অরুণাচলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, কাটা পড়তে পারে ২৩ লক্ষের বেশি গাছ, পরিবেশগত ছাড়পত্রের অপেক্ষা
নয়াদিল্লি: বনভূমি সাফ করে জলবিদ্য়ুৎ প্রকল্প গড়ার পরিকল্পনা। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে অনুমতি চাইল ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন, যা একটি সরকারি সংস্থা। পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত মূল্য়বান, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত অরুণাচলপ্রদেশের ৩২৭৮ হেক্টর বনভূমিকে ‘কমলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে

নয়াদিল্লি: বনভূমি সাফ করে জলবিদ্য়ুৎ প্রকল্প গড়ার পরিকল্পনা। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে অনুমতি চাইল ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন, যা একটি সরকারি সংস্থা। পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত মূল্য়বান, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত অরুণাচলপ্রদেশের ৩২৭৮ হেক্টর বনভূমিকে ‘কমলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে’র জন্য ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। (Kamala Hydroelectric Project) সরকারি নথি অনুযায়ী, ‘কমলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প’ থেকে ১৭২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সুবনসিরি নদীর ডান তীরের উপনদী, ‘কমলা’র জল ব্যবহার করা হবে প্রকল্পে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের যে বনভূমি উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে, তারা এই ধরনের কাজে অনুমতি প্রদান করে। আগামী ২৩ অক্টোবর বনভূমি হস্তান্তরের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখবে তারা। বনভূমিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ার যে প্রস্তাব, সেই অনুযায়ী, ক্রা দাদী, কুরুম কুমে এবং কমলে জেলার বনভূমিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরিতে অনুমতি মিললে কেটে ফেলতে হতে পারে ২৩.৪ লক্ষ গাছ। যে ২৩ লক্ষ ৪০ হাজার ২১৩টি গাছ কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৫.০৮ লক্ষ হাপোলি বনবিভাগের আওতায় পডডে। ৮.৩১ লক্ষ গাছ পড়ে দাদী বনবিভাগের আওতায়। বনভূমিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার ক্ষতিপূর্ণ হিসেবে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ৭০১৮ হেক্টর জমি প্রস্তাব করা হয়েছে। বনভূমিকে অন্য কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সম পরিমাণ অরণ্য বহির্ভূত জমি বের করতে হয়। অরুণাচলে বন আচ্ছাদনের হার এমনিতেই বেশি। তাই অন্য যে রাজ্যে বন আচ্ছাদনের হার কম, ক্ষতিপূরণ বাবদ সেখানে বনভূমি নয় এমন জমিতে বনায়ন বাধ্যতামূলক। সমতুল্য কোনও অরণ্য বহির্ভূত জমি না পাওয়া গেলে, সেক্ষেত্রে দ্বিগুণ আয়তনের জমির বনায়ন করতে হবে। মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত বনায়ন কর্মসূচির ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে এফসিএ (FCA)-এর ভাষ্য অনুযায়ী, যদি সমতুল্য কোনো অরণ্যবহির্ভূত জমি পাওয়া না যায়, তবে যে বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে (diverted forest land), তার দ্বিগুণ আয়তনের একটি বনায়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা অবক্ষয়িত জমিতে গড়ে তুলতে হবে। মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত বনায়ন কর্মসূচির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ‘কমলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প’টি সুবনসিরি নদী অববাহিকার জন্য পরিকল্পিত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ক বিশেষ কমিটি গত বছর জানুয়ারি মাসে প্রকল্পকে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের সুপারিশ করে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, বন বিষয়ক নীতিগত ছাড়পত্র পেলেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলবে। শিলংয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর জানায়, জাতীয় উদ্য়ান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাতি চলাচলের করিডরের অন্তর্ভুক্ত নয় প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত ওই এলাকা। তবে প্রকল্পটি হলে যে বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থলের উপর প্রভাব পড়বে, তাও উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে। বিশেষজ্ঞরা জানান, জলমগ্ন এলাকা আরও প্রশস্ত হলে বন্য়প্রাণীদের এক তীর থেকে অন্য তীরে যাওয়ার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই বন্যপ্রাণ সুরক্ষা বা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশও করা হয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং জলধারার সংমিশ্রণে ‘কমলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে’ ২১৬ মিটার উঁচু কংক্রিটের গ্র্যাভিটি বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে খরচ হবে ২৪০০ কোটি টাকা। জলাধার এবং বাঁধের উপরের এলাকা মিলিয়ে প্রায় ২৯৬০.৪৯ হেক্টর বনভূমি ঢুকে যাবে প্রকল্পে। ‘কমলা’ নদী উপত্যকাটি একটি পাহাড়ি অঞ্চল। ঘন অরণ্যে আবৃত গোটা এলাকা। সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের ফলে ১২৬টি গ্রামের ৫৪৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যে ৩২৭৮ হেক্টর বনভূমিতে প্রকল্প গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৪৩৯ হেক্টর অতি ঘন বনভূমি, ১১১৯ হেক্টর মাঝারি ঘনত্বের। ঋতু পরিবর্তনের নিরিখে জমি জরিপ করে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১৫৫ প্রজাতির গাছকে শনাক্ত ও নথিভুক্ত করা গিয়েছে সেখানে।