Ashutosh Ranka Press Meet: 'গত ৭২ ঘণ্টায় এই দেশ স্বৈরতন্ত্রের নগ্ন রূপ দেখেছে, যা ১৯৭৫ সালকেও ছাপিয়ে যায়', তোপ আশুতোষ রাঙ্কার
নয়া দিল্লি: গতকল আটকের পর আজ ছাড়া পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির ৩ নেতাকে। তার মধ্যে অভিজিৎ দীপকে তাঁর ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরেছেন। তারপর আজ সাংবাদিক বৈঠক করলেন দলের অন্য দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাঙ্কা বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা ১৯৭৫ সালের এম

নয়া দিল্লি: গতকল আটকের পর আজ ছাড়া পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির ৩ নেতাকে। তার মধ্যে অভিজিৎ দীপকে তাঁর ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরেছেন। তারপর আজ সাংবাদিক বৈঠক করলেন দলের অন্য দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাঙ্কা বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা ১৯৭৫ সালের এমার্জেন্সিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। আরও পড়ুন: 'প্রয়োজন না থাকলে...' বিক্ষোভের আবহেই ব্যারিকেড সরাতে কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের এদিন আশুতোষ বলেন, "নরেন্দ্র মোদি ভারতের লজ্জা। কাল, পরশু; গত কয়েক দিনে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির এমন ভূমিকা অত্যন্ত লজ্জাজনক। গত ৭২ ঘণ্টায় এই দেশ স্বৈরতন্ত্রের নগ্ন রূপ দেখেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাতে চেয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে মারধর করা হয়েছে।" আশুতোষ রাঙ্কার কথায় এদিন শোনা যায় ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথাও। তিনি বলেন, "নরেন্দ্র মোদি দেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হতে চান। তাঁর সেই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জরুরি অবস্থা সম্পর্কে আমরা এত দিন শুধু শুনেছি। বাবা-মায়ের মুখে সেই সময়ের নানা ঘটনা ও অভিজ্ঞতার কথা জেনেছি। কিন্তু গত ৭২ ঘণ্টায় নরেন্দ্র মোদি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতিকেও ছাপিয়ে যাওয়ার মতো। কারণ, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ও দেশে ট্রেন বাতিল করার প্রয়োজন পড়েনি। অথচ আজকের এই স্বৈরাচারী শাসক এতটাই ভীত, এতটাই কাপুরুষ যে, গতকাল দেশের শয়ে শয়ে ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।" আশুতোষ এদিন স্পষ্ট করে বলেন, যে লড়াই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইকে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ নিজেদের বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি বলেন, "নরেন্দ্র মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও মূল্যে তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করবেন। তিনি যেন প্রমাণ করে দিয়েছেন, রাজার প্রাণ তোতাপাখির মধ্যে আছে।" আশুতোষ এদিন দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণের কথাও তুলে ধরেন। গতকাল যখন তাঁদের আটক করা হয়, সেই সময় অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমা মারা যায়। রাঙ্কার অভিযোগ, এই ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তকেও সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রদর্শনীর বিষয় করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। রাঙ্কা এদিন আরও স্পষ্ট করে দেন যে লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে, যদিও দেশের শাসক এই লড়াইয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে।