Bardhaman Terrorist Arrest: পিলখানার সাধারণ জীবনযাপন থেকে সটান বর্ধমানের অভিজাত এলাকায় বসবাস, কীভাবে এত টাকা এল হামিমের হাতে ? নেপথ্যে কি বিদেশি ফান্ডিং ?
ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কমলকৃষ্ণ দে, বর্ধমান : হাওড়ার পিলখানার একটি সাধারণ ঘর থেকে আচমকা বর্ধমানের অভিজাত আবাসনে এসে থাকা শুরু করেছিলেন হামিম মণ্ডল। আচমকা হাতে কী করে এত টাকা এল তার? তাহলে কি তার পিছনে ছিল কোনও ফরেন ফান্ডিং? তদন্তে STF. হামিমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। 'বাবার সূত্র

ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কমলকৃষ্ণ দে, বর্ধমান : হাওড়ার পিলখানার একটি সাধারণ ঘর থেকে আচমকা বর্ধমানের অভিজাত আবাসনে এসে থাকা শুরু করেছিলেন হামিম মণ্ডল। আচমকা হাতে কী করে এত টাকা এল তার? তাহলে কি তার পিছনে ছিল কোনও ফরেন ফান্ডিং? তদন্তে STF. হামিমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। 'বাবার সূত্রে পেয়েছি টাকা', জেরায় দাবি হামিমের, দাবি STF-এর। একদম সাধারণ থেকে বিলাসবহুল এলাকায় বসবাস, কোথা থেকে টাকা আসত হামিম এবং অর্পিতার কাছে? জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট এবং ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা পেমেন্টের কাজ করতে হতো হামিমকে, জানা গিয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে। পিলখানায় অতি সাধারণ জীবনযাপন ছিল হামিমের। বাবা-মা যথেষ্ট সাধারণ। হামিম নিজে চাকরি করত একটি কারখানায়। জামাকাপড়ে বার কোড লাগানোর কাজ করত সে। আয়ও ছিল যথেষ্টই সাধারণ। আচমকা পিলখানা থেকে বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপে বসবাস। কোথা থেকে টাকা পেত হামিম? পিলখানায় যেখানে হামিম ও তার পরিবার থাকত সেটি জবরদখল করা জায়গা। সেখান থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর বর্ধমানের অভিজাত এলাকায় বসবাস শুরু করে হামিম ও তার পরিবার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রেনেসাঁ টাউনশিপের বাসিন্দাদের আয় (গড়) হামিমের পরিবারের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। পিলখানায় বসবাস, তারপর উচ্ছেদ, তিনমাসের মধ্যে অভিজাত এলাকায় বসবাস শুরু, সন্দেহ হওয়াই স্বাভাবিক এবং এসটিএফ- এর আধিকারিকরা হামিমকে জিজ্ঞাসাও করেন যে এখানে থাকতে গেলে যে অগ্রিম টাকা দিতে হয় কিংবা বাড়ি ভাড়া নিলেও যে পরিমাণ টাকা দিতে হয়, তা হামিম বা তার পরিবার পেল কীভাবে? বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিম জানায় তার বাবা এই টাকা জোগাড় করেছে। হানিট্র্যাপ করে অপহরণ, রাজনৈতিক নেতাদের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ, কী কী কাজ ছিল হামিমের বান্ধবী অর্পিতার ? বিদেশ বা পাকিস্তান, দুবাই কোথাও থেকে হামিমের কাছে টাকা এসেছে এমন কিছু এখনও বেঙ্গল এসটিএফ- এর কাছে স্বীকার করেনি হামিম। আপাতত হামিমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের দিকে নজর রাখছে বেঙ্গল এসটিএফ- এর তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের শাহজাদ গোষ্ঠী হোক বা দুবাই থেকে যে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হতো হামিম ও অর্পিতাকে, তার কিছুটা পূরণ হলেই, প্রাথমিক ভাবে ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পেমেন্ট হওয়ার কথা। আর তাই হামিম এবং অর্পিতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেটও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের নজর এড়াতে ব্যাঙ্কে লেনদেন এড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গি হামিম মণ্ডল। আর ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। দু'জনের বিরুদ্ধেই একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাও চমকে দেওয়ার মতো। প্রাথমিক জেরায় হামিম জানিয়েছে, শাহজাদ ভাট মডিউলে জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট করা, রেইকি করা, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নজরে রাখা - এইসব কাজের জন্যই এসেছিল সে। দুবাই থেকে আইএসআই- এর তরফে আসত নির্দেশ। অন্যদিকে, অর্পিতার কাজ ছিল হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণ করা এবং হাই প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গতিবিধি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা। কাদের কোন তথ্য, কোথায় পাচার করেছে অর্পিতা, তারই খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই অর্পিতার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, অর্পিতার ফোনে ছিল অনেক স্পেশাল অ্যাপ। সেইসব অ্যাপের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করত অর্পিতা। ভয়েস চ্যাটের মাধ্যমেও চলত যোগাযোগ। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের মাধ্যমেই হামিমের সঙ্গে আলাপ অর্পিতার, এমনটাই বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে খবর। হামিমের মতোই পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে, শাহজাদ ভাটের গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল অর্পিতার। তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। অর্পিতার তালিকায় কারা ছিল, কাদের তথ্য সে সংগ্রহ করেছে, কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, আদৌ সেগুলো পাচার হয়েছে কিনা এবং হয়ে থাকলে কোথায় হয়েছে - সবদিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আজ বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে অর্পিতাকে। আপাতত বর্ধমান থানায় তাকে জেরা করছেন বেঙ্গল এসটিএফ- এর আধিকারিকরা। হামিমকে জেরা করে ও তার ফোনের সূত্র ধরেই অর্পিতার নাম সামনে এসেছিল এবং এরপর অর্পিতার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।