Baruipur Incident: বারুইপুরকাণ্ডে প্রভাসই মূল অভিযুক্ত, গভীর রাতে শুধু তাকেই নিয়ে যাওয়া হল কেন? পুলিশ জানাল…
কলকাতা: বারুইপুরকাণ্ডে এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মণ্ডল। প্রভাসই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে দাবি পুলিশের। বলা হয়েছে, ঘটনার দিন প্রভাসই নাবালিকাকে নিয়ে আসে। প্রভাসই নাবালিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও খুন করে। এমনকি প্রভাসই নাবালিকার দেহ পুকুরে ফেলেছিল বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের দাবি, বার বার বিভ্রান্তিকর বয়ান দিচ্

কলকাতা: বারুইপুরকাণ্ডে এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মণ্ডল। প্রভাসই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে দাবি পুলিশের। বলা হয়েছে, ঘটনার দিন প্রভাসই নাবালিকাকে নিয়ে আসে। প্রভাসই নাবালিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও খুন করে। এমনকি প্রভাসই নাবালিকার দেহ পুকুরে ফেলেছিল বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের দাবি, বার বার বিভ্রান্তিকর বয়ান দিচ্ছিল প্রভাস। সেই জন্যই প্রভাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে যাওয়া হয়। পুনর্নির্মাণের সময়ে পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পালানোর সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও করে। আত্মরক্ষার্থে প্রভাসকে পাল্টা গুলি করা হয়। (Prabhas Mondal Encounter) গতকাল রাত পৌনে ১টা নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে, গুলি ছুড়ে সে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পাল্টা পুলিশ গুলি ছুড়লে মারা যায় প্রভাস। পুলিশ জানিয়েছে, ১২ বছরের নাবালিকাকে যে ভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, তার মূল অভিযুক্ত এবং মূল পরিকল্পনাকারীই প্রভাস। তদন্তে নেমে জানা গিয়েছে, প্রভাসই সঙ্গে করে নিয়ে যায় নাবালিকাকে। গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে, এক এক সময়, এক এক রকম বিভ্রান্তিকর দাবি করে। (Baruipur Incident) আরও পড়ুন: অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে অটোয় উঠলেন প্রসূতি, রাস্তাতেই চার-চারটি সন্তান প্রসব, বাঁচল না একটিও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, কখনও নিজেকে শুধু দর্শক বলে দাবি করে প্রভাস। পরে জানায়, অন্য একজন মেয়েটিকে নিয়ে আসতে বলে। এর পর আরও কয়েক জনের নাম নেয়। তবে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে। এর পর এক এক করে অন্য অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা হয়। সকলকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে বোঝা যায়, ইচ্ছাকৃত ভাবে বার বার বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করছে প্রভাস। সে-ই মূল অভিযুক্ত। অন্য তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে সে-ই গোটা ঘটনা ঘটায়। সে মেয়েটিকে নিয়ে আসে, আটকে রাখে, গণধর্ষণ হয় তার পর। মারা গিয়েছে ভেবে এর পর বস্তায় বেঁধে জলে ফেলে দেওয়া হয় মেয়েটিকে। এই গোটা ঘটনার মূল হোতা হিসেবে প্রভাসকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। আরও পড়ুন: মেজাজ হারিয়ে সপাটে চড় কষালেন মমতা, বাড়ির সামনে হুলস্থুল ঠিক কী ঘটেছিল ওই দিন, তার জন্যই গভীর রাতে প্রভাসকে অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি পুলিশের। সেখানেই পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। পুলিশকে লক্ষ্য় করে গুলি চালায় সে। পাল্টা পুলিশ গুলি চালালে, তার পাঁজরে এবং পেটে গুলি লাগে। সেখান থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য একা প্রভাসকে কেন অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হল, তার উত্তরে জানা গিয়েছে, বার বার বিভ্রান্তিকর বয়ান দিচ্ছিল প্রভাস। পুলিশ বুঝতে পারে, সে-ই মূল অভিযুক্ত। পুরো বিষয়টা তার কাছ থেকে জানার জন্যই, আলাদা করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রভাসের মৃত্যুতে নিহত নির্যাতিতার বাবা বলেন, "আমি খুশি। দাদার কাছে কাল গিয়েছিলাম। দাদা ভরসা রাখতে বলেন। দাদার উপর পূর্ণ ভরসা আছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে ভরসা করি। এটুকুই বলব।" গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, "ফোনে দাদা বলেছিলেন, তুমি শুধু দেখো। তার পর তোমার বাড়ি যাব।" প্রভাসের দেহ নিতে রাজি নন প্রভাসের মা। প্রভাসের স্ত্রীর দাবি, গোড়া থেকেই অপরাধপ্রবণ মানসিকতা প্রভাসের। তাঁকেও প্রচুর অত্যাচার করেছে।