Bengali Trekkers Missing: ট্রেকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ ৮ বাঙালি পর্যটক? ভয়ঙ্কর তুষারধসে আটকে বিছিন্ন যোগাযোগও?
নয়া দিল্লি: উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তুষারধসের জেরে বিপর্যস্ত ট্রেকিং অভিযান। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও খোঁজ নেই আট ট্রেকারের। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচজনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরুষ ও মহিলা, সকলেই গিয়েছিলেন কেদারতাল ট্রেকিংয়ে। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল তুষারপাত এবং একে

নয়া দিল্লি: উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তুষারধসের জেরে বিপর্যস্ত ট্রেকিং অভিযান। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও খোঁজ নেই আট ট্রেকারের। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচজনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরুষ ও মহিলা, সকলেই গিয়েছিলেন কেদারতাল ট্রেকিংয়ে। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল তুষারপাত এবং একের পর এক তুষারধসের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে, NDTV- এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেল এমনটাই। কীভাবে বিপদের মুখে পড়লেন ট্রেকাররা? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ১২ জনের একটি দল। এই দলে ছিলেন সাতজন ট্রেকার, একজন গাইড, একজন রাঁধুনি এবং তিনজন পোর্টার। বন দফতরের অনুমতি নিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁদের যাত্রা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথেই আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। প্রবল তুষারপাত, হিমবাহের গতিবিধি এবং তুষারধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় ফেরার রাস্তা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দলের সদস্যরা ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে। ৩০ অক্টোবর ট্রেকিং সংস্থার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন আটকে পড়া সদস্যরা। কাচ্চি ঢাং এলাকার কাছে তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সাহায্যও চেয়েছিলেন। কিন্তু তার পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই ১২ জনের দলের মধ্যে তিন পোর্টার এবং একজন রাঁধুনি নিরাপদে ফিরে আসতে পেরেছেন। কিন্তু বাকি আটজনের কোনও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচজন পশ্চিমবঙ্গের, দু'জন উত্তরপ্রদেশের এবং একজন উত্তরকাশীর বাসিন্দা গাইড। নিখোঁজদের খোঁজে ৩১ অক্টোবর থেকেই শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। প্রথমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পায়ে হেঁটে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন উদ্ধারকারীরা। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের সাহায্যে আকাশপথেও তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বরফের আস্তরণ এতটাই বেশি যে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ট্রেকারদের কিংবা তাঁদের শিবিরের কোনও চিহ্ন মেলেনি। ১ নভেম্বরও হেলিকপ্টারে দু'দফায় আকাশপথে তল্লাশি চালানো হয়। হর্ষিল থেকে কেদারতাল এলাকায় পৌঁছে অনুসন্ধান চালান এসডিআরএফের কর্মীরা। কিন্তু সেই অভিযানও কার্যত ব্যর্থ হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকায় কিছুক্ষণের জন্য উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতেও হয়। সোমবার, ২ নভেম্বর নিখোঁজ আটজনের সন্ধানে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এসডিআরএফ এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর বিশেষ দলকে স্থলপথে অনুসন্ধানে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের সাহায্যেও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আটকে পড়া ট্রেকারদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে। ফলে সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ, হাড়হিম করা ঠান্ডা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কতক্ষণ তাঁরা টিকে থাকতে পারবেন, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষত নিখোঁজদের মধ্যে বাংলার পাঁচজন থাকায় তাঁদের পরিবারের উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে। তিন দিন ধরে চলছে অপেক্ষা। এখন একটাই প্রার্থনা, দ্রুত উদ্ধার করা হোক আটকে পড়া প্রত্যেককে।