Bipattarini Puja 2026 : কীভাবে বিপত্তারিণীর ব্রত পালন করলে বিপন্মুক্ত থাকবে পরিবার ? নৈবেদ্যই বা দেবেন কীভাবে ?
ঘর-গৃহস্থের সঙ্কট-বিপদ মোচনের জন্য বিপত্তারিণীর ব্রত পালন করবেন। তাতে নিষ্ঠা না থাকলে হয় ? কিন্তু, কীভাবে এই ব্রত পালন করতে হয় ? জানিয়েছিলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয়-পণ্ডিত জয়ন্ত কুশারী। Bipadtarini Puja প্রতি বছর নিষ্ঠা সহকারে এই ব্রত পালন করেন হিন্দুধর্মাবলম্বী মহিলারা। পরিবারের প্রত্যেকে যাতে বিপন্মুক্ত

ঘর-গৃহস্থের সঙ্কট-বিপদ মোচনের জন্য বিপত্তারিণীর ব্রত পালন করবেন। তাতে নিষ্ঠা না থাকলে হয় ? কিন্তু, কীভাবে এই ব্রত পালন করতে হয় ? জানিয়েছিলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয়-পণ্ডিত জয়ন্ত কুশারী। Bipadtarini Puja প্রতি বছর নিষ্ঠা সহকারে এই ব্রত পালন করেন হিন্দুধর্মাবলম্বী মহিলারা। পরিবারের প্রত্যেকে যাতে বিপন্মুক্ত থাকেন সেই লক্ষ্যে পুজোয় শামিল হন তাঁরা। কিন্তু, অনেক সময়ই দেখা যায় এই ব্রত পালনে নিয়মের কিছুটা খামতি রয়ে যাচ্ছে। কীভাবে পালন করতে হয় বিপত্তারিণীর ব্রত ? কী কী নিয়ম মানতে হয় যাতে সংসারকে বিপন্মুক্ত রাখা যায়। এনিয়ে আলোকপাত করেন সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী। বিপত্তারিণী হলেন মা দুর্গা । পৌরাণিক দেবী। আপদ এবং বিপদ দু'টোতেই রক্ষা করেন দুর্গা। বিপত্তারিণী ব্রত পালনের নিয়ম- বিপত্তারিণীর ব্রত যিনি নেবেন তিনি আগেরদিন একবার খাবেন এবং নিরামিষ খেতে হবে। আগের দিন সকালে উঠে স্নান সেরে ভিজে কাপড়ে গোটা মুগ ভেজাবেন। একটা পাত্রে এমনভাবে ভেজাবেন যে জল এবং বাতাস তার মধ্যে খেলে যায়। যাতে পরের দিন সকালে সেই মুগটার অঙ্কুরোদগম হয়। এমনভাবে ভেজাতে হবে যাতে তা জলে হাবুডুবু না খায়। একবারই নিরামিষ খেতে হবে। সেটা হবিষ্য হলে ভাল হয়। অথবা, তিনি নিরামিষ খাবেন। রাতে লুচি, পরোটা, সেঁকা রুটি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এই ব্রত যিনি পালন করবেন পরের দিন সকালেই উঠেই পুরোহিতের তত্ত্বাবধানে ঘট স্থাপন করতে হবে। আম্র পল্লব দিয়ে ঘট স্থাপন করবেন পুরোহিত। এক্ষেত্রে পঞ্চপল্লবও ব্যবহার করতে পারি। যেহেতু বিপত্তারিণী দুর্গা পৌরাণিক দেবী, তাই- বট, অশ্বত্থ, পাকুড়, যজ্ঞ ডুমুর এবং আম...বৈদিক পঞ্চপল্লব দিয়ে অথবা আম্রপল্লব দিয়ে এই ঘট স্থাপন করতে হয়। যেমনভাবে ঘটস্থাপন হয়, অর্থাৎ- মাটি, আল্পনা দিতে হবে, মাটির ওপর পঞ্চশস্য এবং পাঁচ কড়াই মাটির ওপর দিতে হবে। ঘটটা হতে হবে দেবী ঘট অর্থাৎ তামার ঘট। সোনা-রুপোর ঘটও হতে পারে। কিন্তু, তামার ঘটই এক্ষেত্রে প্রশস্থ। এই ঘটটা এমন হতে হবে যাতে তাতে অন্ততপক্ষে ১.২৫ লিটার জল ধরে। শাস্ত্রে বলছে, অত্যন্ত ছোট হতে পারবে না, আবার বিরাটও হওয়া যাবে না। ঘটের ওপর সড়া তাতে গোবিন্দভোগ চাল বা আতপ চাল দিতে হবে। একটি ডাব দিতে হবে। ঘটে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকতে হবে। স্বস্তিকের দু'পাশে দই ও আতপচাল মাখিয়ে দিতে হবে। তার ওপর আলতাপাতা গেঁথে দিতে হবে। ঘটটির গ্রীবাবন্ধন করতে হবে। জলের মধ্যে নবরত্ন অথবা পঞ্চরত্ন দিতে হবে। এই নবরত্ন বা পঞ্চরত্ন একেবারে জুয়েলারি দোকানেরই হতে হবে। অর্থাৎ, দশকর্মা ভাণ্ডারের পুঁথিগুলো নবরত্নের পঞ্চরত্ন নয়। যদি কেউ অসমর্থ হন, তাহলে অন্তত একটা সোনার আংটি সুতো দিয়ে বেঁধে জলের মধ্যে ডুবিয়ে দিতে হবে। নবরত্ন বা পঞ্চরত্ন না দিতে পারলে কাঞ্চন দিলেও হবে। এক্ষেত্রে সুতো বেঁধে আংটি ডুবিয়ে দিতে হবে। পরে, যখন ঘট বিসর্জন হয়ে যাবে, তখন যিনি আংটি দিয়েছেন তিনি আবার তা পরে নিতে পারবেন। তাও না হলে, জব দিলেই সমস্ত অভাব মিটে যাবে। ঘটে এই তিনটি না দেওয়া গেলে, জব তো দিতেই হবে। সিদ্ধি দিতে হবে। তার ওপরে সড়াই ভর্তি আতপ চাল, গোবিন্দ ভোগ চাল, তার ওপরে ডাব। তার পরে এই ঘটিকে বাঁধতে হবে। গ্রীবাবন্ধন করতে হবে। যেহেতু নারীদেবতা, তাই গামছা বা লাল শালু দিয়ে অবগুণ্ঠন দিতে হবে। এরপরে তাতে চাঁদমালা দিতে হবে। বেলপাতা, বেলপাতার মালা, দুর্বার মালা, অপরাজিতার মালা, জবার মালা দিতে হবে। যদি মা-কে পদ্মের মালা নাও দিতে পারা যায়, পদ্মফুল অবশ্যই দিতে হবে। এই গেল ঘটস্থাপন। নৈবেদ্য দেবেন কীভাবে ? আগের দিনে ভিজিয়ে রাখা গোটা মুগের ওপর একটা বারকোশে বা পরাত থালায় ১৩ ভাগা অঙ্কুরোদ্গম হওয়া গোটা মুগ দিতে হবে। তার ওপরে দিতে হবে আখের গুড়। তার ওপরে ১৩ প্রকারের কুচো ফল যেভাবে নৈবেদ্য হয় সেভাবে দিতে হবে। পান পাতা, ছোট এলাচ, লবঙ্গ এবং সুপারি দিতে হবে। এছাড়াও আম, জাম-কাঁঠাল-সহ ১৩ রকমের ফল দিতে হবে। লুচি ও সুজি দিতে হবে। ঘিয়ে ভাজা লুচিই ভাল। নাহলে, তেলেভাজাও দেওয়া যেতে পারে। ছোট ছোট ফুচকার মতো করে লুচি তৈরি করতে হবে। তার ওপরে সুজি। এই সুজি ঘিয়ে ভাজতে হবে, কিন্তু চিনি দেওয়া যাবে না। আখের গুড় দিয়ে সেই সুজি করতে হবে। এরকম ১৩ ভাগ। একে বলে ১৩ বাঁটা। এছাড়া ১৩ রকমের ফুল দিতে হবে মা-কে। জবা, অপরাজিতা, পদ্ম...এগুলো তো থাকবেই। তাছাড়া আরও ১০ রকমের ফুল থাকবে। ১৩ প্রকারের গোটা ফল দিতে হবে। তার মধ্যে এলাচ, লবঙ্গ, সুপারি অবশ্যই এবং আম, কাঁঠাল,আনারস ইত্যাদি করে ১৩ রকমের ফল মা-কে দিতে হবে। এগুলোর পৃথক পৃথক উৎসর্গ বাক্য আছে, যেগুলো মহাবাক্য বলে। এই মহাবাক্য সহকারে ১৩ বাঁটা, ১৩ ফুল, ১৩ ফল উৎসর্গ করতে হবে। তাগা-ধারণ ও ব্রতকথা শুনতে হবে- এছাড়া ১৩ খেয়া লাল সুতো দিয়ে একটি তাগা বানাতে হবে। তাতে ১৩টি গ্রন্থি থাকবে। মাঝের গ্রন্থিতে ১৩টি দুর্বা থাকবে। এরকম একটি তাগা ব্রতী তো পরবেনই, এর পাশাপাশি পরিবারের অন্যরাও পরতে পারেন। নারী বা পুরুষ যে-ই হোক না কেন, এই বিপত্তারিণীর তাগাল ডান হাতে বাঁধতে হবে। পরে কেউ এটি বাঁ হাতে পরে নিতে পারেন। মন্ত্র বল পুরোহিত ব্রতীকে তাগা ধারণ করাবেন। এই পুজো হয়ে যাওয়ার পর ব্রতকথা শুনতে হবে। তারপরে আরতি, তারপরে যদি কেউ হোম করেন। হোম আবশ্যক নয়। ব্রতকথা, পুষ্পাঞ্জলি এবং আরতি অবশ্যই করতে হবে।