Birbhum Tulu Mondal: বালি পাচার থেকে ওভারলোডিং, পার্কিং লট জুড়ে বেআইনি কারবার... টুলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ থামছেই না
ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, পার্থপ্রতিম ঘোষ, বীরভূম : দেখতে দেখতে গত ১৫ বছরে বীরভূমে গড় গড়ে তুলেছিলেন টুলু মণ্ডল। এতটাই তাঁর প্রতিপ্রত্তি, এতখানি তাঁর প্রভাব যে, একের পর এক সম্পত্তির পাশাপাশি মহম্মদ বাজারে নিজের নামে বিশাল এই পার্কিং লট গড়ে তুলেছিলেন টুলু মণ্ডল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি নামে পার্কিং

ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, পার্থপ্রতিম ঘোষ, বীরভূম : দেখতে দেখতে গত ১৫ বছরে বীরভূমে গড় গড়ে তুলেছিলেন টুলু মণ্ডল। এতটাই তাঁর প্রতিপ্রত্তি, এতখানি তাঁর প্রভাব যে, একের পর এক সম্পত্তির পাশাপাশি মহম্মদ বাজারে নিজের নামে বিশাল এই পার্কিং লট গড়ে তুলেছিলেন টুলু মণ্ডল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি নামে পার্কিং লট হলেও, এখানে চলত টুলু মণ্ডলের নানা প্রকারের বেআইনি কাজকর্ম। অভিযোগ, এই যে পার্কিং লট... এখানেই নাকি বেআইনিভাবে প্রচুর স্টোন চিপস আর বালি মজুত করতেন টুলু মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে দাবি, টুলু মণ্ডলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, 'যতরকম বেআইনি কাজ, টুলু মণ্ডল সেই সব কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমরা বললে মিথ্যে গাঁজার কেস দিত, কাউকে জেল খাটাত, কাউকে দেশ ছাড়া করে দিত, কাউকে পাড়া ছাড়া করে দিত। কাউকে মেরেও ফেলত। এখান থেকে কালোবাজারি অপারেট করত। টুলু মণ্ডল হচ্ছে একটা চোর, এটা সবাই জানে, এটা হিডেন ট্রুথ।' বাড়ি ভাঙচুর, পেট্রল পাম্পে তাণ্ডব, লরি আটকে রাখা, এমনকী খুনের মামলা... টুলুর নামে অভিযোগের পাহাড় শুধু পাথর নয়, বেআইনি বালির কারবারেও টুলু মণ্ডল জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে FIR করতে বলে, মহম্মদ বাজার থানার IC-কে চিঠি লিখেছেন মহম্মদ বাজারের BLLRO. শুধু পাথর কিংবা গরু পাচার নয়, বেআইনি বালির কারবারেও টুলু মণ্ডল জড়িত বলে অভিযোগ। চলতি বছরের ৬ জুলাই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে FIR করতে বলে, মহম্মদ বাজার থানার IC-কে চিঠি লিখেছেন মহম্মদ বাজারের BLLRO. চিঠিতে অভিযোগ করা হচ্ছে, রাস্তার ধারে বিপুল পরিমাণে বালি মজুত করেছে নিজামউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু। চিঠিতে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতে বলার পাশাপাশি, মজুত করা বালির ওপরও কড়া নজরদারি রাখার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ শ্রমিক থেকে এলাকার পাথর সম্রাট। টুলু মণ্ডলের রকেট গতির উত্থানের নেপথ্যে শুধু DCR কারচুপি নয়, পাথর বোঝাই লরির ওভারলোডিং থেকেও টাকা কামাতেন তিনি। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরই DCR গেটগুলি থেকে সরানো হয়েছে টুলু মণ্ডলের লোকেদের। শুধু ডুপ্লিকেট DCR বানানো বা পাথরের ওজনে কারচুপি নয়, অভিযোগ ওভারলোডিং থেকেও পকেট ভরতেন পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। বৈধ উচ্চতার পরেও পাথর বোঝাই করা বা ওভারলোড করার অনুমতি দিয়েও বাড়তি টাকা আদায় করা হত বলে অভিযোগ। এমনকী এও অভিযোগ যে, এই ভাবেই এক দশকের বেশি সময় ধরে বীরভূমের পাথর ব্যবসা থেকে রাজস্ব আদায় কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল।