TMC News: ‘জ্ঞানেশ কুমারকে চোর বললে আপনাদের গায়ে লাগছে কেন?’ আক্রমণে কুণাল, মমতা-তৃণমূলের মিছিল আটকানো হল
কলকাতা: শহরে মমতা-সর্বভারতীয় তৃণমূলের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। পুলিশের দাবি, আগে থেকে মিছিলের কথা জানানো হয়নি। রাজাবাজার মোড় থেকে মিছিল এগোতে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আর তার পরই রাজাবাজার মোড় কার্যত দুর্গে পরিণত হল। বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে নামে কলকাতা পুলিশের

কলকাতা: শহরে মমতা-সর্বভারতীয় তৃণমূলের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। পুলিশের দাবি, আগে থেকে মিছিলের কথা জানানো হয়নি। রাজাবাজার মোড় থেকে মিছিল এগোতে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আর তার পরই রাজাবাজার মোড় কার্যত দুর্গে পরিণত হল। বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে নামে কলকাতা পুলিশের বিরাট বাহিনী। ব্যারিকেড বসিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। মহিলা পুলিশের পাশাপাশি, নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। দুপুর ২টো নাগাদ কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে সেখানে পৌঁছয় মিছিল। সেখানে এগোত বাধা দেওয়া হয় সকলকে। সেই অবস্থাতেই বক্তৃতা শুরু করেন কুণাল, দোলা সেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা। ব্যারিকেড না পেরোতে দেওয়া হলেও, কুণালের দাবি, তাঁদের মিছিলের উদ্দেশ্যপূরণ হয়েছে। (Mamata-TMC Rally) SIR-এ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। দাবি উঠছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের। বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A শিবির থেকে বাম সংগঠন, ককরোচ জনতা পার্টি দফায় দফায় আন্দোলন করছে। I.N.D.I.A শিবিরের সেই আন্দোলনে যোগ দেন মমতা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রাও। রাহুল গাঁধীর সঙ্গে মিছিলে দেখা গিয়েছে অভিষেক, ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্রদের। আবার সাকেত গোখলেদের নিয়ে রাজধানীতে ধর্নায় বসেন মমতাও। দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। উঠতে হয় প্রিজন ভ্যানেও। বিরোধীদের সঙ্গে কৌশল বৈঠকেও যোগ দেন মমতা। সেই সময়ই কলকাতায় পথে নামার কথা জানিয়ে দেয় মমতা-তৃণমূল। মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিল হবে বলে জানানো হয়। (TMC News) সেই মতো এদিন পথে নামেন মমতা-তৃণমূলের যুব সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। কুণালের নেতৃত্বে মিছিল পৌঁছয় রাজাবাজারে। ম্যাটাডোরে চেপে এসে শুরু হয় বক্তৃতা। মমতা-তৃণমূলের দাবি, মিছিল নিয়ে কথা হয়েছিল পুলিশের সঙ্গে। কিন্তু পুলিশের দাবি, মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি মমতা-তৃণমূলকে। সেই মতো রাজাবাজার ঘিরে ফেলা হয় ব্যারিকেড দিয়ে। পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি, নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। জানিয়ে দেওয়া হয়, যা করার তা ব্যারিকেডের মধ্যেই যা কর্মসূচি করতে হবে। সেই নিয়ে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান না কুণালরা। সেখানেই ভাষণ দেন নেতানেত্রীরা একে একে। অর্থাৎ ব্যারিকেডের বাইরে যেতে পারেনি না মমতা-তৃণমূলের কর্মসূচি। যদিও কুণালের দাবি, তাঁদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। এদিন মিছিলে স্লোগান তোলেন কুণাল। তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'জ্ঞানেশ কুমার ভোট চোর', 'ভোট চোর গদ্দি ছোড়'। কুণাল বলেন, "যেভাবে কাল রাত থেকে হুমকি দিল রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ নামানো হল, চার পাশের রাস্তায় রুটমার্চ করানো হয়েছে...তাদের প্ররোচনায় পা দেব না আমরা। আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল। এরা ভয় পেয়েছে। দিল্লি ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সরকার। জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চোর বলেছি। আপনাদের গায়ে লাগছে কেন? লেঠের বাহিনী নামিয়ে, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে দেখে নেওয়ার কথা...এ তো হল্লা রাজার সেনা! তোরা যুদ্ধ করে করে করবি কী তা বল! যারা পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখিয়ে বলে এগোতে দেব না, তারা কাপুরুষের রাজনীতি করছে।" মিছিল থেকে দোলা বলেন, "এই পাঁচ মাসে একটা মিটিং-মিছিলের অনুমতিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তাঁর দলকে দেয়নি এখনকার শাসক দল। প্রত্যেকবার আদালতে যেতে হয়েছে। আজও যুদ্ধপরিস্থিতি। গতকাল প্রশাসনিক প্রধান কারা না কারা ঘোষণা করেছেন এক পাও এগোতে দেওয়া হবে না। দেখে মনে হচ্ছে, হল্লা রাজা চলেছে যুদ্ধে। জলকামান, কেন্দ্রীয় বাহিনী...সামান্য ছাত্রযুবদের মিছিল। আমি-কুণালদা এসেছি সিনিয়র হিসেবে পাশে থাকতে। দু'-দশ পা এগোতে পেরেছি। তার বেশি নয়। ওরা এই মতলবেই আছে যে পুজোর সময় ছাত্রযুবদের জেলে পুরে রেখে দেবে, বেমক্কা পিটিয়ে হাসপাতাল পাঠাবে।" যদিও কলকাতা পুলিশের কমিশনাররে দাবি, এই মিছিল সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তাই কার মিছিল, কত লোক আসবে, কোথা থেকে শুরু, কোথায় শেষ, তার কিছুই জানা নেই তাঁদের। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোর সময় রাজপথে নামছেন। ওঁর যদি পারমিশন থাকে, তাহলে অবশ্যই পারেন। আমার কাছে যতদূর খবর, পুলিশ ওঁর মিছিলে অনুমতি দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তো ওই দু'চার জন আছেন! তার বাদে তো কেউ নেই। তাঁরা আস্তে আস্তে সঙ্গ ছাড়তে শুরু করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুঝতে হবে, যাঁদের লোভে উনি মিছিল করছেন...মুসলিমরা, তারাও সঙ্গ ছেড়ে দেবে। চিন্তার কিছু নেই।"