ধর্মান্তরিত হলেই মিলবে না সংরক্ষণের সুবিধা! পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কোটা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
নয়া দিল্লি: ধর্ম পরিবর্তন করলেই কি আগের সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়? এই প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস (মুসলিম)’ বা পিছিয়ে পড়া মুসলিম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত সংরক্ষণের সুবিধা

নয়া দিল্লি: ধর্ম পরিবর্তন করলেই কি আগের সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়? এই প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস (মুসলিম)’ বা পিছিয়ে পড়া মুসলিম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। শুধু ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তাঁর যে সামাজিক পরিচয় ছিল, তার ভিত্তিতে এই সংরক্ষণ দাবি করা যাবে না বলে জানাল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, মাদ্রাজ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখে তামিলনাড়ু সরকারের আবেদন খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ জানায়, হিন্দু সামাজিক কাঠামো থেকে অন্য ধর্মের সামাজিক কাঠামোয় চলে গেলে আগের সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্য একটি স্বীকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। কী মামলায় এই রায়? এই মামলার সূত্রপাত তামিলনাড়ু সরকারের ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একটি নির্দেশকে ঘিরে। ওই নির্দেশে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (BC), অতি পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (MBC), ডিনোটিফায়েড কমিউনিটি (DNC) এবং তফসিলি জাতি (SC)-র অন্তর্ভুক্ত কিছু মানুষ হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁদের ‘ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিম’ (BCM) শ্রেণিতে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। তামিলনাড়ুতে ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিমদের জন্য পৃথক ৩.৫ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়। মাদ্রাজ হাই কোর্ট নির্দেশটি অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। শেষ পর্যন্ত হাই কোর্টের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কী? শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি ধর্ম পরিবর্তন করলেই নির্দিষ্ট কোনও স্বীকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সদস্য হয়ে যান না। সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির স্বীকৃতি এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি যে সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সেই পরিচয় একাই নতুন ধর্মীয়-সামাজিক কাঠামোয় সংরক্ষণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। অর্থাৎ, ধর্মান্তরের আগের সামাজিক পরিচয়ই অন্য একটি সংরক্ষিত শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মূলত তামিলনাড়ু সরকারের নির্দেশ এবং ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিম শ্রেণিতে সংরক্ষণের যোগ্যতা নিয়েই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সংরক্ষণ নীতি নিয়ে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়? ভারতে সংরক্ষণের সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া, সাংবিধানিক বিধান এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণির স্বীকৃতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ধর্মান্তরের পরে কোনও ব্যক্তির সংরক্ষণের যোগ্যতা কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি বিতর্ক রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সেই বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরল। তবে এই সিদ্ধান্তকে সব ধর্মান্তরিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের সংরক্ষণ বাতিল বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মামলাটি মূলত তামিলনাড়ুর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তি এবং ধর্মান্তরের আগের সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবি নিয়ে।