Jio IPO: প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য জিওর শেয়ার ঘিরে বিরাট সাড়া, চাহিদা ৩০ গুণ বেশি, আগ্রহী একাধিক বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী
নয়া দিল্লি: রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর ডিজিটাল ও টেলিকম ব্যবসা Jio Platforms-এর প্রস্তাবিত আইপিও বাজারে আসার আগেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (Institutional Investors) মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির ৮ হাজার ১১০ কোটি টাকার অ্যাঙ্কর বুক অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য রেখে দেওয়া শেয়ারের জ

নয়া দিল্লি: রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর ডিজিটাল ও টেলিকম ব্যবসা Jio Platforms-এর প্রস্তাবিত আইপিও বাজারে আসার আগেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (Institutional Investors) মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির ৮ হাজার ১১০ কোটি টাকার অ্যাঙ্কর বুক অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য রেখে দেওয়া শেয়ারের জন্য ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি দর জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অর্থাৎ, অফারে থাকা অর্থের তুলনায় চাহিদা ৩০ গুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, সোভেরেইন ওয়েলথ ফান্ড, দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা সংস্থা এবং পেনশন ফান্ড—সব দিকের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এই সাড়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনও ভারতীয় আইপিওর ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এত বিপুল অঙ্কের দর আসা নজিরবিহীন। তবে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে; আইপিওর চূড়ান্ত বরাদ্দ ও অন্যান্য বিবরণ প্রকাশের পর ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে। BlackRock, GIC ও Norges-সহ বিশ্বের বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ Jio Platforms-এর অ্যাঙ্কর বুক ঘিরে আগ্রহ দেখানো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির তালিকায় রয়েছে BlackRock, Capital Group, Fidelity Investments, T. Rowe Price, Schroders, JPMorgan Asset Management, Franklin Templeton, Invesco এবং Janus Henderson-এর মতো প্রথম সারির অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। এ ছাড়াও একাধিক দেশের সোভেরেইন ওয়েলথ ফান্ড এই ইস্যুতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরের GIC, নরওয়ের Norges Bank Investment Management, আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (ADIA) এবং কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (QIA)। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, এই ইস্যুতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একাধিক দর এসেছে। যদিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পরিমাণ বিপুল, তবুও চূড়ান্ত বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোন সংস্থা কতটা অংশ পাবে, তা নির্ভর করবে আইপিওর নির্দিষ্ট শর্ত এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ার উপর। বিশ্বের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির এই আগ্রহ Jio Platforms-এর সম্ভাব্য বাজার প্রবেশের গুরুত্ব তুলে ধরছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সংস্থাটির ব্যবসা, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং মূল্যায়নকে কীভাবে দেখছেন, তা বোঝার ক্ষেত্রেও এই সাড়া গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রথম সারির মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা সংস্থার অংশগ্রহণ শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারীরাই নন, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও Jio Platforms-কে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতের প্রথম সারির ১০টি মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাই এই ইস্যুতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে SBI Mutual Fund, ICICI Prudential Mutual Fund, HDFC Mutual Fund, Aditya Birla Sun Life Mutual Fund, Nippon India Mutual Fund এবং Kotak Mahindra Mutual Fund-এর মতো বড় সংস্থা। বিমা ও পেনশন ক্ষেত্রের একাধিক প্রতিষ্ঠানও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে Life Insurance Corporation of India (LIC), HDFC Life, SBI Life, SBI Pension, HDFC Pension এবং ICICI Prudential। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিদেশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী, সোভেরেইন ওয়েলথ ফান্ড এবং পেনশন ফান্ডের দর মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ফান্ড এবং বড় ফ্যামিলি অফিসগুলিও আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ কোনও আইপিওর বাজারগত গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বিপুল চাহিদা থাকলেই যে তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। টেলিকমের গণ্ডি পেরিয়ে Jio-র বিস্তৃত ডিজিটাল ব্যবসা Jio Platforms-এর ব্যবসা একসময় মূলত টেলিকম পরিষেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও বর্তমানে তা আরও বিস্তৃত হয়েছে। মোবাইল সংযোগের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড, ক্লাউড পরিষেবা, বিনোদন এবং বিভিন্ন সংস্থার জন্য ডিজিটাল ও এন্টারপ্রাইজ সলিউশনও এর ব্যবসার অংশ। এই বহুমুখী ব্যবসার পরিসরই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টেলিকম পরিষেবার পাশাপাশি ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে আয় ও ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা আয় ও মুনাফায় প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে প্রতিযোগিতা, গ্রাহক বৃদ্ধি, বিনিয়োগের খরচ এবং ব্যবসায়িক কৌশলের উপর। Reliance Industries থেকে আলাদা হয়ে সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ বর্তমানে Reliance Industries Ltd-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা Jio-র ব্যবসার পরোক্ষ অংশীদার হওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু Jio Platforms আলাদা সংস্থা হিসেবে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি এই ব্যবসার শেয়ার কেনার সুযোগ পেতে পারেন। এই সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি তাই শুধু একটি বড় আইপিও নয়, বরং ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংস্থার আর্থিক ফলাফল, ঋণের পরিমাণ, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পরিকল্পনা, আইপিওর মূল্যায়ন এবং ঝুঁকির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা জরুরি। এখন নজর আইপিওর পরবর্তী ঘোষণায় ৮ হাজার ১১০ কোটি টাকার অ্যাঙ্কর বুকের বিপরীতে ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি দর আসার খবর Jio Platforms-এর সম্ভাব্য আইপিওকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রথম সারির অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, সোভেরেইন ওয়েলথ ফান্ড এবং ভারতের বড় মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা সংস্থার আগ্রহ এই ইস্যুকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। এখন নজর থাকবে আইপিওর অফিসিয়াল বিবরণ, শেয়ারের মূল্যায়ন, ইস্যুর সময়সূচি এবং চূড়ান্ত বরাদ্দের উপর। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হলেও, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংস্থার আর্থিক অবস্থা ও আইপিওর শর্ত বিশ্লেষণ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।