Facebook: ফেসবুকে বড় স্ক্যাম, ১৬ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ব্যক্তি, এই লিঙ্ক দেখলে ভুলেও খুলবেন না!
নয়া দিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় লটারি জেতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন সিঙ্গাপুরের ৭১ বছরের এক বৃদ্ধ। ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখে লটারিতে বিপুল টাকা জেতার আশায় প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন তিনি। অভিযোগ, ৩ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.২ কোটি টাকা জেতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ধাপ

নয়া দিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় লটারি জেতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন সিঙ্গাপুরের ৭১ বছরের এক বৃদ্ধ। ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখে লটারিতে বিপুল টাকা জেতার আশায় প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন তিনি। অভিযোগ, ৩ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.২ কোটি টাকা জেতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ২১,৬৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। শেষ পর্যন্ত অবসর জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে এখন দৈনন্দিন খরচ চালাতেও সমস্যায় পড়েছেন ওই বৃদ্ধ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের পদবি ইয়াং। অগস্টের শেষ সপ্তাহে ফেসবুকে লটারি জেতার নিশ্চিত সুযোগ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। বিজ্ঞাপনে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও প্রথমে কথা বলতে পারেননি। এর কয়েক দিন পর, সেপ্টেম্বরের শুরুতে, উল্টে তাঁর কাছেই ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, সিঙ্গাপুরের লটারি সংস্থা সিঙ্গাপুর পুলসের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে। সেই সূত্রে লটারির ফল প্রকাশের আগেই বিজয়ী নম্বর জেনে দেওয়া সম্ভব। তবে এই নম্বর পেতে হলে আগাম টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পুরস্কারের নম্বরের জন্য ১,৯৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার, দ্বিতীয় পুরস্কারের জন্য ১,৬৮৮ ডলার এবং তৃতীয় পুরস্কারের জন্য ১,৩৮৮ ডলার চাওয়া হয়েছিল। এত টাকা দিতে পারবেন না জানালে প্রতারকরা বিকল্প প্রস্তাব দেয়। তাঁকে বলা হয়, অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার এবং লটারির পাঁচ সেট নম্বরের জন্য আরও ৫০০ ডলার দিলেই চলবে। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে টাকা দেন বৃদ্ধ। তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়, এই নম্বরের মাধ্যমে ৩ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার জেতার সুযোগ রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর লটারির ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ইয়াংয়ের দেওয়া কোনও নম্বরেই পুরস্কার ওঠেনি। প্রতারকদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তাঁরা নতুন গল্প ফাঁদে। দাবি করা হয়, নম্বরগুলির চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। পরে এক ‘ভিতরের লোক’-এর সাহায্যে লটারির টিকিটের নম্বর বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। পরের দিনই বৃদ্ধের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি প্রথম পুরস্কার জিতেছেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ৩ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলারের একটি চেকের ছবিও পাঠানো হয়। কিন্তু সেই টাকা হাতে পেতে হলে আরও টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরস্কারের টাকা পাওয়ার জন্য প্রথমে আরও ১,৪৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার দিতে বলা হয় ইয়াংকে। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর ৫,৮৫০ ডলার ‘হ্যান্ডলিং ফি’ হিসেবে দাবি করা হয়। প্রতারকদের বক্তব্য ছিল, এত বড় অঙ্কের টাকা স্থানান্তর করলে অর্থ পাচার সংক্রান্ত সন্দেহ তৈরি হতে পারে, তাই এই ফি প্রয়োজন। এর দু’দিন পর আবার ৭,৮৪০ সিঙ্গাপুর ডলার চাওয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে পুলিশে অভিযোগ জানান বৃদ্ধ। কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার আশায় এরপরেও তিনি আরও ৩,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার পাঠান। সব মিলিয়ে তাঁর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৬৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। এই প্রতারণার ফলে বৃদ্ধের অবসর জীবনের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। তার উপর তাঁর পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। বর্তমানে তিনি কর্মহীন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, এখন দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও পাউরুটির মতো সামান্য খাবার কিনেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।