El Nino: ইতিহাস গড়ল এল নিনো! প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি, ২০২৭-এ ভারতের আবহাওয়ায় বড় প্রভাবের আশঙ্কা
কলকাতা: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো (El Niño)। ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। উপলব্ধ রেকর্ডে এই প্রথম এমন তাপমাত্রার কথা জানিয়েছে ইন্ডিয়

কলকাতা: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো (El Niño)। ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। উপলব্ধ রেকর্ডে এই প্রথম এমন তাপমাত্রার কথা জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে, মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-র তথ্যের ভিত্তিতে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায়, ভারতও যার বাইরে নয়। কী এই এল নিনো? কেন বাড়ছে উদ্বেগ? এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রের জল অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। সমুদ্রের এই উষ্ণতা বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিবাহী মেঘের চলাচলে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বহু দূরের দেশগুলির তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের উপরেও। বর্তমান এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড স্তরে পৌঁছতে পারে। ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনোর সম্ভাবনাও রয়েছে। কতটা বাড়তে পারে সমুদ্রের তাপমাত্রা? প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার পরিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীরা ‘নিনো ৩.৪’ অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার গড় বিচ্যুতি পর্যবেক্ষণ করেন। অর্থাৎ, স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় জল কতটা বেশি উষ্ণ, তা হিসাব করা হয়।- জুন ২০২৬: স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।- আগস্ট ২০২৬: স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।- অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬: পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বিচ্যুতি ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে, ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর সময় নথিভুক্ত ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিচ্যুতির রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি। তবে এটি পূর্বাভাস, চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ নয়। ভারতে কী প্রভাব পড়তে পারে? এল নিনোর প্রভাব নিয়ে ভারতের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অক্টোবরের পূর্বাভাসেও আগামী কয়েক মাসে দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ উপদ্বীপীয় দক্ষিণ এশিয়ার বহু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতের প্রতিটি রাজ্যেই বৃষ্টি কম হবে বা তাপমাত্রা একইভাবে বাড়বে। এল নিনোর পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি, স্থানীয় আবহাওয়া এবং অন্যান্য জলবায়ুগত প্রক্রিয়াও বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করে। ২০২৭ সালেও কি প্রভাব থাকবে? বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, শক্তিশালী এল নিনোর পরিস্থিতি ২০২৭ সালের গোড়া পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। ফলে আগামী কয়েক মাসে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার অন্যান্য পরিবর্তনের দিকে নজর রাখবেন বিজ্ঞানীরা। তবে এল নিনোর প্রভাবে ভারতের কোন অঞ্চলে কতটা পরিবর্তন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রে বৃষ্টির ঘাটতি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নজরে রাখা জরুরি। আগামী দিনের পরিস্থিতি বুঝতে NOAA, WMO এবং ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ হবে।