Chorbagan Stampede: ‘৪০-৪৫ মিনিট ধরে চাপা পড়ে বান্ধবী, টেনে বের করা যাচ্ছিল না, কেউ সাহায্য় করতে আসেনি’, চোরবাগানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যুবকের
কলকাতা: উৎসব বদলে গেল বিভীষিকায়। চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে গেলেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আরও অনেকে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। প্রত্যক্ষদর্শীরা গোটা পরিস্থিতির জন্য অব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। তাঁদের দাবি, পুলিশ, অ্যাম্ব

কলকাতা: উৎসব বদলে গেল বিভীষিকায়। চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে গেলেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আরও অনেকে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। প্রত্যক্ষদর্শীরা গোটা পরিস্থিতির জন্য অব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। তাঁদের দাবি, পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স কিছু ছিল না মণ্ডপের আশেপাশে। মাইকে যে ঘোষণা হচ্ছিল, তাতে আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন মানুষজন। ভিড় সামলাতে দেখা যায়নি কাউকে। যত সময় এগোচ্ছে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে আসছে। (Chorebagan Sarbojanin Puja Stampede) শনিবার সন্ধেয় বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন এক যুবক। চোরবাগানে ঢোকার সময় ভিড়ের মধ্যে পড়েন তাঁরা। এবিপি আনন্দে ওই যুবক বলেন, "আমার সঙ্গে তিন বান্ধবী ছিল। লোকে ভর্তি ছিল। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল খুব। সামনের দিকে মানুষজন ছিলেন। পিছন থেকে হঠাৎ ধাক্কা আসে। সামনের সকলে পড়ে যান। একে উপরের উপর পড়তে থাকেন সকলে। সামনের লোকজন উঠতে পারছিলেন না। বের করা যাচ্ছিল না টেনে। পিঠের উপর গিয়ে পড়েছিলেন অনেকে।" (Chorbagan Stampede) আরও পড়ুন: 'ওলা-উবরে বডি নিয়ে যাচ্ছি আমরা, নেই পুলিশ-অ্যাম্বুল্যান্স', চোরবাগান পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা, অব্যবস্থার অভিযোগ ওই যুবক আরও বলেন, "আমার সঙ্গে তিনজন ছিল। চাপা পড়েছিল তিনজনই। আমার বান্ধবী সবচেয়ে নীচে ছিল। আরও দু'জন চাপা পড়ে। কিছুতেই...প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে...শ্বাস নিতে পারছিল না। আমি টেনে বের করতে পারছিলাম না। আমার হাত, হাতের ঘড়ি ধরে টানছিলেন অনেকে। শেষে স্থানীয়রা প্যান্ডেলের একটি অংশ ভেঙে ফেলেন স্থানীয়রা। তার পর বের করা যায়।" ওই যুবক জানিয়েছেন, তাঁর বান্ধবীরা কোনও রকমে বেঁচে গিয়েছেন প্রাণে। তবে আহত হয়েছেন। পায়ে লেগেছে একজনের। অন্যজন প্যানিক করছেন। ওই যুবকের কথায়, "অনেক লোক...আমি তুলে নিয়ে যেতে পারছি না। বৃষ্টি হচ্ছে। কেউ আসছে না দেখলাম। স্থানীয়রা দেখলাম তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ সাহায্য় করতে আসছেন না।" আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, ১৮জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় নেবে কে? চরম গাফিলতির দায় কার? ভিড় সামলাতে ব্যর্থ পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা? এই ব্যর্থতার দায় নেবে পুলিশ-প্রশাসন? লালবাজারে হেল্পলাইন পরিষেবা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। যোগাযোগ করা যাবে 18003455678, 03322141310 নম্বরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। সব রকম পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন।