Cockroach Janta Party: ‘কুৎসিত-কদাকার, বাড়ির বউ হওয়ারও যোগ্য নয়’, NEET-আন্দোলনকারীদের আক্রমণ বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের
নয়াদিল্লি: NEET-আন্দোলনকারীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য বিজপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের নর্দমার কীট বলে উল্লেখ করলেন তিনি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মেয়েদের ‘কুৎসিৎ’, ‘বাড়ির বউ হওয়ার যোগ্য’ নয় বলেও আক্রমণ করলেন। সেই নিয়ে পাল্টা তাঁকে বিঁধল ‘ককরোচ জনতা পার

নয়াদিল্লি: NEET-আন্দোলনকারীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য বিজপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের নর্দমার কীট বলে উল্লেখ করলেন তিনি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মেয়েদের ‘কুৎসিৎ’, ‘বাড়ির বউ হওয়ার যোগ্য’ নয় বলেও আক্রমণ করলেন। সেই নিয়ে পাল্টা তাঁকে বিঁধল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। (Kangana Ranaut Attacks NEET Protesters) NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে উত্তাল হয়েছে গোটা দেশ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তার জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সেই আবহেই আন্দোলনকারীদের কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি-র তারকা সাংসদ কঙ্গনা। (Cockroach Janta Party) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন কঙ্গনা। তাঁর কথায়, “আমাদের ৭৫ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করা হয়েছে। তাঁর প্রয়াত মাকে আক্রমণ করা হয়েছে অশ্লীল ভাষা। আমরাও ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এরা কেমন পড়ুয়া? কী অশ্লীল ভাষা ওদের? কোন দিক থেকে পড়ুয়া মনে হয় ওদের? ভবিষ্যতে যদি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বা কৌঁসুলির প্রয়োজন পড়ে, ওদের মা-বাবা রাখতে পারবেন তো? নিজের খরচ চালানোরই ক্ষমতা নেই ওদের।” আরও পড়ুন: রাত ২টোয় কাজল পরেন, লিপস্টিক লাগান স্ত্রী, ডিভোর্স চেয়ে মামলা স্বামীর, আদালত বলল… কঙ্গনার দাবি, ১৬ বছর বয়স থেকে তিনি নিজের খরচ নিজে চালিয়েছেন, নিজের চেষ্টায় কেরিয়ার গড়ে তুলেছেন। কিন্তু NEET-আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের সেই ক্ষমতা নেই। তাঁর বক্তব্য, “সমাজের অংশ হিসেবে বলছি, এসব একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।” তবে সেখানেই থামেননি কঙ্গনা। সোশ্য়াল মিডিয়াতেও আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বেনজির ভাবে আক্রমণ করেন তিনি। লেখেন, ‘জীবনে এক জায়গায় এত কদর্যদা দেখিনি কখনও। Gen Z আন্দোলনের যে রিল দেখছি, তাতে বমি পাচ্ছে। যেভাবে কথা বলে ওরা, যে ভাষা ব্যবহার করে...জীবনে এক ফ্রেমে এত দৃষ্টিকটু কিছু দেখিনি, এত অমার্জিত মনে হয়নি কোনও কিছুকে’। আরও পড়ুন: ফের দাম বাড়ছে একাধিক জিনিসের, অগাস্ট মাস থেকেই, উৎসবের আগে জোর ধাক্কা আন্দোলনকারীদেরই নয় শুধু, তাঁদের অভিভাবকদেরও নিশানা করেন কঙ্গনা। তাঁর বক্তব্য, ‘কী বিশ্রী…এদের কারা জন্ম দিচ্ছেন? কারা বড় করছেন? ভারত বৈচিত্রে ভরা সুন্দর মানুজনের দেশ, যাঁরা মার্জিত এবং রুচিশীল। সাংস্কৃতিক পরিশীলতা ভারতের শিকড়ে প্রোথিত। তোমরা নিজেদের ককরোচ বলতে পারো, তেমন আচরণও করতে পারো। কিন্তু নিজেদের নোরামি, কদর্যতা, কুৎসিৎ আচরণের সাক্ষী করতে পারো না সকলকে। আমার তো রিলস দেখেই ভয় হচ্ছে। সেরে উঠতে হবে। ডিজিটাল ডিটক্স জরুরি’। বিশেষ করে আন্দোলনে যোগ দেওয়া মেয়েদের নিশানা করেন কঙ্গনা। তাঁর কথায়, ‘অল্পবয়সি হিন্দু তরুণীদের আচরণ সবচেয়ে হতাশাজনক। ওরা স্বাধীনচেতা, কর্মজীবী মহিলাদের অনুকরণ করতে চায়, কিন্তু সেই স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষমতা নেই। স্বাধীনচেতা, বিদ্রোহী মেয়েরা সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়, মতপ্রকাশ করে। নিজেদের মতো কেরিয়ার বেছে নেয়, নিজেদের জীবনের দায়িত্ব নিজেই নেয়। মা-বাবা অথবা পরিবারের উপর নির্ভরশীল নয়। আমি এদের নর্দমা-প্রজন্ম বলি। সমাজকে কিছু দেওয়ার ক্ষমতা নেই এদের। পড়াশোনাতেও ভাল নয়। এত কুৎসিত এবং কলুষিত যে গৃহবধূও হতে পারবে না’। কঙ্গনার মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হতে সময় লাগেনি। কঙ্গনা নিজে NEET-এর ফুল ফর্ম জানেন না বলে তাঁকে পাল্টা বেঁধেন অনেকে। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি ওঠে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস কঙ্গনার উদ্দেশে বলেন, “কঙ্গনা রনাউতের নিজের দলের লোকজনই ওঁকে গুরুত্ব দেন না বিশেষ। আমরা তাহলে গুরুত্ব দেব কেন? Gen Z হোক বা GEn Alpha অথবা তরুণ প্রজন্মের লোকজনও ওঁকে গুরুত্ব দেয় বলে মনে হয় না। এখন উনি সাংসদ। হিমাচল প্রদেশে ওঁর কেন্দ্রেরই অনেক ভিডিও রয়েছে, যেখানে উনি ভেবেছিলেন সাংসদ হলে বিশেষ কাজ করতে হয় না। ওঁর ভাষা নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার, পদের মর্যাদা বোঝা দরকার। আপনার চেয়ে Gen Z-রা দেশের জন্য অনেক বেশি করেছে। গণতন্তত্রের উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে ওরা। আপনি তা করতে পারেননি।” ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দেওয়ার পর ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। তবে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এখনও আন্দোলনকারীদের হেনস্থা করার খবর উঠে আসছে। সেই আবহে অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, এমন চললে ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।