CPM Bookstall: পশ্চিমবঙ্গে 'রাষ্ট্রবিরোধী', 'সনাতন বিরোধী' লেখা বরদাস্ত করা হবে না, বললেন শুভেন্দু অধিকারী, ‘উনি কে?’, পাল্টা সুজন চক্রবর্তী
কলকাতা: বামেদের বুকস্টল নিয়ে ফের হুঙ্কার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে 'রাষ্ট্রবিরোধী' বা 'সনাতন বিরোধী' কোনও লেখা বরদাস্ত করা হবে না। পুজোর সময় সিপিএম-এর বুকস্টলে পর পর যে হামলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্টল খাটিয়ে যেটা করার চেষ্টা হয়েছিল, তা প্র

কলকাতা: বামেদের বুকস্টল নিয়ে ফের হুঙ্কার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে 'রাষ্ট্রবিরোধী' বা 'সনাতন বিরোধী' কোনও লেখা বরদাস্ত করা হবে না। পুজোর সময় সিপিএম-এর বুকস্টলে পর পর যে হামলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্টল খাটিয়ে যেটা করার চেষ্টা হয়েছিল, তা প্রতিহত করে দিয়েছেন মানুষই। (Suvendu on CPM Bookstall) ক্ষমতার পালাবদলের পর এবারের দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চরমে ওঠে। একাধিক জায়গায় বামেদের বুকস্টলে হামলা হয়, চলে ভাঙচুর, এমনকি আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপি-র দিকে আঙুল তোলেন বামেরা। সেই আবহেই শুভেন্দুর ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে 'রাষ্ট্রবিরোধী' বা 'সনাতন বিরোধী' কোনও লেখা বরদাস্ত করা হবে না। (CPM Bookstall) আরও পড়ুন: ট্রেনে মৃত্যু ক্যান্সার রোগীর, ১২ ঘণ্টা লাগল দেহ সরাতে? শবদেহের পাশে বসেই আসতে হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের রবিবার সংবাদমাধ্যমে শুভেন্দু বলেন, "মানুষের লেখা, ইত্যাদি তার নিজস্ব অভিব্যক্তির উপর নির্ভর করে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বা সনাতন বিরোধী, কোনও ধর্মকে আঘাত করে লেখা আমরা করতে দেব না। স্টল খাটিয়ে যেটা করার চেষ্টা হয়েছিল, মানুষ সেটাকে প্রতিহত করেছে।" শুভেন্দুর এহেন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর যদি এমন কথা বলেন, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই, বরং উল্টো, তাহলে তার উত্তর দেওয়ারই প্রয়োজন বোধ করি না। ওঁর যা ইচ্ছে বলুন। কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী লেখা প্রকাশ করতে দেব না...কে উনি? উনি কে? কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়ে যা যা করার করেছেন। এখন সেই বিজেপি হয়েছেন। কিন্তু বিজেপি-র নেতাদের সঙ্গে তো কথা মিলছে না! তাঁদের নাকি মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে বুকস্টলে যা হয়েছে তাতে! আর উনি নাকি দারুণ ভরসা পেয়েছেন, লোক প্রতিরোধ করেছে! লোক বুলডোজারকে প্রতিরোধ করেছেন। কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি...বইকে আবর্জনা ভেবে আনা হয়েছিল। মানুষ তা রুখে দিয়েছেন।" আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ অরুণাচল প্রদেশ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, বিজেপি বিধায়ক, রাজ্য সভাপতির বাড়িতে হামলা, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক বামেদের বুকস্টলে হামলার বিষয়টি আদালতেও ওঠে। এবার শুভেন্দু খোদ হুঙ্কার দিলেন। এ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "মানুষ প্রতিহত করেছেন মানে কী? তাহলে পুলিশমন্ত্রী পুলিশ রেখেছেন কেন? তার মানে যার যেটা পছন্দ হবে না, সে প্রতিহত করবে? আর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সেটাকে জাস্টিফাই করা হবে! সিপিএম-এর সঙ্গে আমাদের তীব্র বিরোধ। কিন্তু সিপিএম বই বিক্রি করতে পারবে না, সিপিএম-এর স্টলে হামলা হবে, তৃণমূলকে স্টল করতে দেওয়া হবে না, SUCI-এর স্চলে হামলা হবে...এই কালচার কী ভাবে চলতে পারে? যার যার দর্শন, নী, দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের কাছে রাখব। বাকিটা মানুষের ব্যাপার। আর আইন ভেঙে কিছু হলে পুলিশ দেখতে পারে ব্যাপারটা। কিন্তু বুকস্টলে গিয়ে বিজেপি-র লোকেরা বলছে কী বই, কী বই! সুস্থ সমাজের কোনও সুস্থ মানুষ এ জিনিস সমর্থন করবে না।" এর আগে, বামেদের বুকস্টলে হামলা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন RSS নেতা জিষ্ণু বসু। এবার সেই বক্তব্য ব্যাখ্যা করলেন তিনি। বললেন, "বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের মতো কোনও একজন বিরোধিতা করতে এসেছে। তাকে অহেতুক তালগাছের মতো বড় করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভারতের নাগরিক, বিশেষত হিন্দু সমাজের আমার কাছে দু'টো ভাগ, একটা ভাগ, যাঁরা ভারতমাতা জয়ধ্বনি দেন, আর যাঁরা আগামী দিনে বারতমাতার জয়ধ্বনি দেবেন। তাই আমার কাছে কেউ শত্রু নন। আজ তিনি আমার মতের বিরোধী, এটুকুই মাত্র পার্থক্য। ভগবান কৃষ্ণের শিক্ষা অনুসরণ করেই আমাদের পূর্বপুরুষরা এতদিন সভ্যতা-সংস্কৃতি টিকিয়ে রেখেছেন।" ফেসবুকে লেখেন, 'বুড়ো আংলা দৈত্যকে কি মহিষাসুর বানানো বুদ্ধিমানের কাজ'? এর আগে জিষ্ণু বলেছিলেন, "কারও বুকস্টল বন্ধ করার মধ্যে কোনও পৌরুষ নেই। ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে যারা বিরোধীদের অত্যাচার করে, তারা কাপুরুষ।" অন্য দিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, "এরা যদি নীতিগত ভাবে বইয়ের স্টল ভাঙা বা আটকানোর বিরোধী হতেন, তাহলে একমাস আগে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে যখন হুমকি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তার পরই এঁরা প্রতিবাদ করতেন।" "ওদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই" বলে মন্তব্য করেছেন মমতা-তৃণমূলের বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দুমুখোপাধ্যায় বলেন, "বই নিয়ে এরকম করা...এটায় মানবিকতার সমর্থন নেই। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, বর্বরোচিত আচরণ এটা। এটা একেবারেই সহ্য করা যায় না। প্রশাসন নিয়ে কোনও কথা বলব না। কিন্তু যারা এই আচরণ করছে, খুবই নিন্দার যোগ্য। শাস্তি তো সরকার দেবে! আমি তার দাবিদার হতে পারি না। তবে হ্যাঁ শাস্তি হওয়াই উচিত।"