Cyclospora Outbreak : ভয়াবহ হারে ছড়াচ্ছে সাইক্লোস্পোরা ! আমেরিকায় ভরছে হাসপাতালের বেড, একাধিক মৃত্যু , কী থেকে সংক্রমণ?
আবার এক অসুখের প্রকোপে কাঁপছে আমেরিকা। একের পর এক আক্রান্তের হদিশ মিলছে। সোজা ভর্তি হতে হচ্ছে হাসপাতালে। ঘটেছে মৃত্যুও। অসুখের নাম Cyclosporiasis। এই অসুখের কারণ একটি পরজীবী। নাম,সাইক্লোস্পোরা ( Cyclospora) । এই প্যারাসাইট থেকেই হয় Cyclosporiasis। এবার এই অসুখ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, প্রাণের ভয়ে

আবার এক অসুখের প্রকোপে কাঁপছে আমেরিকা। একের পর এক আক্রান্তের হদিশ মিলছে। সোজা ভর্তি হতে হচ্ছে হাসপাতালে। ঘটেছে মৃত্যুও। অসুখের নাম Cyclosporiasis। এই অসুখের কারণ একটি পরজীবী। নাম,সাইক্লোস্পোরা ( Cyclospora) । এই প্যারাসাইট থেকেই হয় Cyclosporiasis। এবার এই অসুখ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, প্রাণের ভয়ে কাঁপছে মানুষ। হোটেল রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার করার সময় ভয় পাচ্ছে । বাধ্য হয়ে এড়িয়ে চলছে স্যালাড বা টাকো। এটি বিরল রোগ নয়, কিন্তু এবার এই অসুখের প্রাদুর্ভাব রেকর্ড মাত্রা স্পর্শ করেছে। পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। কিন্তু কী এই রোগ ? কীভাবে ছড়ায় ? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন, চিকিৎসক শুদ্ধসত্ত্ব চট্টোপাধ্যায়। চিকিৎসক জানালেন, এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব এবং খুব কম ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী ! তবে এবারের সংক্রমণে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তাই এই নিয়ে সতর্কতা ও আলোচনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কী এই সাইক্লোস্পোরিয়াসিস? Cyclosporiasis মূলত অন্ত্রের সংক্রমণ। Cyclospora cayetanensis নামে অতি ক্ষুদ্র এক পরজীবীই এই অসুখের কারণ। পরজীবীটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানীয় জলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে ভালোভাবে না ধোয়া কাঁচা ফল, শাকসবজি বা দূষিত জল থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ভরসার কথা এটাই, এই রোগ একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তির শরীরে সাধারণত ছড়ায় না। Cyclospora মূলত fecal-oral route-এ ছড়ায়। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তির মল কোনও ভাবে খাবার বা জলে মিশলে, এমনটা ঘটতে পারে। তাই লেটুস বা অন্যান্য পাতা বা বেরি জাতীয় ফল বা কাঁচা ফল ও সবজি বা অপরিষ্কার জলে ধোয়া খাবার এড়িয়ে চলতেই হবে। চিকিৎসক শুদ্ধসত্ত্ব চট্টোপাধ্যায় জানালেন, cyclospora আছে এমন কারও মলের সঙ্গে কোনো খাবার বা জন সংস্পর্শে এলে ( contaminated ) বিপদ। সাধারণত এই পরজীবি salad, lettuce শাক বা ড্রাই ফ্রুটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। বেরি বা যেসব ফল গাছ থেকে মাটিতে পড়ে, সেগুলো কোনও ভাবে সংক্রমিতের মলের সংস্পর্শে এলে রোগের বাহত হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, এইরকম খাবার কেউ যদি ভালো করে না ধুয়ে বা ভালো করে পরিষ্কার না করে বা ভেজে না খায় তাহলে সংক্রমণ ঘচবে। এছাড়া কাঁচা খাওয়া হয় এমন সবজি, পাতা, ফল এড়াতে হবে। এই রোগের উপসর্গ ফুড পয়জনিংয়ের মতোই। যেমন জলের মতো মল হওয়া watery diarrhea - র মতো। আর কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে? সংক্রমণের কয়েক দিন পর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন, বারেবারে পাতলা পায়খানা হওয়া, পেটব্যথা বা পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব বা বমি, ক্ষুধামান্দ্য, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, হালকা জ্বর হয়। এছাড়াও শরীর থেকে জল বেরিয়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। সোডিয়াম - পটাশিয়াম ইমব্যালেন্স হতে পারে। টানা এমন চলতে থাকলে বিভিন্ন অর্গান বিকল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। মানে যে কারণে কলেরায় ( cholera ) মৃত্যু ঘটে। সম্প্রতি মেক্সিকোতে বহুজনের Cyclospora সংক্রমণ ঘটেছে। ইউকে-তেও এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে আমেরিকার মিশিগানের কিছু সংক্রমিতের হদিশ মিলেছে। এমনকি একাধিক মৃত্যুও ঘটেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, গুরুতর ডিহাইড্রেশন ও তার থেকে হওয়া জটিলতা থেকেই তাঁদের মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সংক্রমণের উৎস হতে পারে মল দ্বারা দূষিত কৃষিজমিতে উৎপাদিত কাঁচা ফল বা সবজি, বিশেষ করে সালাদে ব্যবহৃত উপাদান। যদিও এ বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে। Cyclospora সাধারণভাবে human-to-human transmission হয় না। সংক্রমণ হয় দূষিত খাবার বা জলের মাধ্যমে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেই রোগ হবে, এমনটা নয় কিন্তু। Cyclospora থেকে বাঁচতে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ জল খান। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে পান করুন। কাঁচা স্যালাড, লেটুস বা বেরি জাতীয় ফল ভালোভাবে ধুয়ে খান। সম্ভব হলে খাবার রান্না করে বা সিদ্ধ করে খান। বিদেশ ভ্রমণের সময় রাস্তার কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলুন। উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে Cyclospora ধ্বংস হয়ে যায়, তাই রান্না করা খাবারে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কম। চিকিৎসক শুদ্ধসত্ত্ব চট্টোপাধ্যায় বলছেন, Cyclospora সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হলো Trimethoprim-Sulfamethoxazole (Co-trimoxazole)। ভারতে এটি Septran DS বা Bactrim DS নামে পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যাঁদের সাম্প্রতিক বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে তাদের সতর্ক থাকতে হবে।