Dharmendra Pradhan Resignation : 'জো ডর গয়া ও মর গয়া' ! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর বার্তা বিরোধীদের, পাল্টা আক্রমণ বিজেপিরও
দিল্লি: NEET প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে অবশেষে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তারপরেই একযোগে আক্রমণ শানালেন বিরোধীরা। অমিত শাহকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। 'যো ডর গয়া ও মর গয়া', বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষ করলেন অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরাও। পাল্টা বার্তা দিল বিজেপিও। জ

দিল্লি: NEET প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে অবশেষে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তারপরেই একযোগে আক্রমণ শানালেন বিরোধীরা। অমিত শাহকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। 'যো ডর গয়া ও মর গয়া', বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষ করলেন অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরাও। পাল্টা বার্তা দিল বিজেপিও। জানাল, সরকার শুরু থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পাশে ছিল। মাস খানেকের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন। অবশেষে NEET-এর প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলনের চাপে পড়ে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তার ইস্তফার পর কার্যত জয়ের উল্লাস ধরা পড়ল বিজেপি-বিরোধী শিবিরে। শুরু থেকেই NEET-এর প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। সংসদের ভিতরের পাশাপাশি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছেও ধর্না দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা। যা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে, মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধী শিবির। বিরোধীরা কে কী বললেন? বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানান, ''এখনও দুটি দাবি পূরণ বাকি রয়েছে। ছাত্রদের ওপর হাত তুলেছেন, মেরেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এবং প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।'' অমিত শাহকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ''আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ওপর যে হিংসা হয়েছে, তারজন্য আমরা সরাসরি অমিত শাহকে দায়ী করছি। তিনিই আমাদের পড়ুয়াদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পেলেট গান-সহ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন। ভারতের ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর আমাদের নিজেদের বাহিনীর গুলি চালানো আমরা মেনে নেব না।'' তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ''ডর গয়া না, যো ডর গয়া ও মর গয়া।'' ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে তিনি আরও জানান, '' ইস্তফা দিয়েছেন তাতে কী? ককরোচ পার্টি সিদ্ধান্ত নেবে। এটা ওদের আন্দোলন ছিল। আমরা সমর্থন করেছিলাম। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন। তারা বলছেন, তাদের ৩-৪টি দাবি এখনও বাকি রয়েছে।'' কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী জানান, '' আমি বিশ্বাস করি আজ, ২৫ জুলাই ২০২৬ হল সেই দিন যখন আমাদের দেশের মানুষ দেশকে বিজেপির থেকে ফেরৎ চাইতে শুরু করেছেন।'' আপ প্রধান ও দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, ''ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে হল। এটা পুরো গণতন্ত্রের বড় একটা জয়। আমাদের দেশে মানুষের গণতন্ত্রের ওপর থেকে ভরসাই উঠে গেছিল। মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল যে সরকার শোনেই না। এত বড় সংঘর্ষ হল এবং শেষপর্যন্ত জনতার কাছে সরকারের অহঙ্কারকে ঝুঁকতে হল।'' বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ বিজেপিরযদিও NEET প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে শুরু থেকেই দেশের জেন জি-র এই আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল মোদি সরকার। একাধিকবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসা, তরুণ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক ভিডিও বার্তা দেওয়া। মোদি জানান, ''আমি জানি প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।'' দোষীদের কঠোর শাস্তি, ফাস্টট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত, এমনকী, প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার সিদ্ধান্তও নেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্য়াতিসম্পন্ন পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন তুলে নেওয়ার সময়ও তাঁর পাশে ছিলেন মোদি মন্ত্রিসভার দুই সদস্য জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। তবে এসবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিরোধীরা। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় কারও মাথা ঝোঁকানো বা হারজিতের ব্যাপার নেই। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট জানান, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করাটাই সরকারের সব থেকে বড় দায়িত্ব। এখানে ইগো, কারও হার-জিত এ কোনওকিছুই নেই। ছাত্রছাত্রী তাদের যন্ত্রণা, তাদের খারাপ লাগা সেই বিষয়টাকে সরকার নিশ্চয়ই বোঝেন।''