Eden Gardens: আইপিএলের সেরা মাঠের পুরস্কার অর্থের ভাগ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ সিএবিতে! মঙ্গলবার বৈঠক ইডেনে
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: আইপিএল (IPL) ফাইনাল মিটে গিয়েছে প্রায় দু'মাস আগে। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (GT vs RCB) দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাতে প্রাপ্তিযোগ হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সেরও। আইপিএলের সেরা মাঠের স্বীকৃতি পেয়েছিল ক্রিকেটে

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: আইপিএল (IPL) ফাইনাল মিটে গিয়েছে প্রায় দু'মাস আগে। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (GT vs RCB) দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাতে প্রাপ্তিযোগ হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সেরও। আইপিএলের সেরা মাঠের স্বীকৃতি পেয়েছিল ক্রিকেটের নন্দনকানন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার হিসাবে পেয়েছিল ইডেন। ৩১ মে, আইপিএল ফাইনালের রাতে পুরস্কার মঞ্চে চেক গ্রহণ করেছিলেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। অথচ পুরস্কারের সেই টাকা এখনও হাতে পাননি সিএবি-র কিউরেটর কিংবা মাঠকর্মীরা! সেরা মাঠের স্বীকৃতি এসেছে যাঁদের জন্য়! এই খবর জানাজানি হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে সিএবি-র অন্দরে। উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। চলছে চাপানউতোরও। সিএবি সূত্রে খবর, আইপিএলের সেরা মাঠ হওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার হিসাবে দিয়েছিল, তার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০ লক্ষ টাকা সংস্থার অফিসকর্মীদের মধ্যে সমহারে বণ্টন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সিএবির অফিসের সকল কর্মী মোটামুটিভাবে মাথা পিছু ৩৮ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। সিএবি ঠিক করেছিল যে, এবারের পুরস্কার মূল্য সমস্ত করণিকদের মধ্যে সমানভাবে বিলি করা হবে। সে যে যেরকম পদেই থাকুক না কেন। যে কারণে সিএবি-র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার থেকে শুরু করে পিওন, সকলেই সমান অর্থ পেয়েছেন। সেই সমবণ্টন নীতিকে সমর্থন করছেন সিএবির প্রায় সকলেই। কিন্তু গোল বেঁধেছে বাকি ৬০ শতাংশ পুরস্কার অর্থ, অর্থাৎ ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে। যা কিউরেটর ও মাঠকর্মীদের পাওয়ার কথা। সেই টাকা থেকে কে কত পাবেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। ফলে যে মাঠের জন্য সেরার পুরস্কার পেয়েছে সিএবি, সেই মাঠের প্রস্তুতি ও পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এখনও পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থ পাননি। আইপিএল শেষ হওয়ার দু'মাস পরেও। কিন্তু কেন মাঠকর্মীরা পুরস্কার অর্থের ভাগ পাচ্ছেন না? খোঁজ নিতেই পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেল, এর নেপথ্যে একটি সুপারিশপত্র। যে সুপারিশপত্র তৈরি করেছেন সিএবি-র চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখানে সমবণ্টন নীতি নয়, বরং এক একজনের জন্য এক-একরকম টাকার অঙ্ক ঠিক করে দিয়েছেন স্বয়ং সুজন। পুরস্কার অর্থ ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠছে। আর সেই কারণেই আটকে রয়েছে কিউরেটর ও মাঠকর্মীদের পুরস্কারের ভাগ। সিএবি-র দৈনন্দিন কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত, এরকম একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সুপারিশপত্রে নিজের জন্য ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন স্বয়ং সুজন! বাকি কিউরেটরদের এক-একজনের জন্য এক-একরকম অর্থ সুপারিশ করেছেন। ঘটনা হচ্ছে, সিএবি-র প্রধান কিউরেটর সুজন। তাঁর অধীনে রয়েছেন ৯ জন সহকারী কিউরেটর। সঙ্গে ইডেনে রয়েছেন ১৬ জন মালি। সল্ট লেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে ১২ জন মালি। এছাড়া সিএবি নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য কয়েকটি মাঠেও রয়েছেন চুক্তিবদ্ধ মালি। যাঁরা আইপিএলের সময় ইডেনে এসেও কাজ করেন। সব মিলিয়ে মাঠকর্মীর সংখ্যা প্রায় ৭০। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সহকারী কিউরেটরদের জন্যও আলাদা আলাদা পুরস্কার অর্থ সুপারিশ করেছেন সুজন। সবচেয়ে কম টাকা সুপারিশ করেছেন মাঠকর্মীদের জন্য। অঙ্কটা মাথাপিছু আনুমানিক ১৫-১৬ হাজার টাকা মতো। আর তা নিয়েই অসন্তোষ। মাঠকর্মী-কিউরেটরদের মধ্যে ক্ষোভ। বলা হচ্ছে, কী করে কেউ নিজের নামে নিজেই এত বড় অঙ্কের টাকা সুপারিশ করতে পারেন? এ-ও বলা হচ্ছে যে, রোদ-ঝড়-জল উপেক্ষা করে যাঁরা মাঠ ও পিচ তৈরি করেন, পরিচর্যা করেন, তাঁদের জন্য সবচেয়ে কম অঙ্কের পুরস্কার অর্থ সুপারিশ করা হল কেন! বঞ্চনার অভিযোগ উঠছে। সিএবি-তে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পুরস্কার অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তীব্র মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। সেটা মেটাতে মঙ্গলবার সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও অন্য় পদাধিকারীরা বৈঠকে বসছেন। পুরস্কার অর্থ বণ্টনে বৈষম্য় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এবিপি লাইভ বাংলাকে সুজন বললেন, 'সকলের তো এক দায়িত্ব থাকে না। কেউ মাঠ ঝাঁট দেয়, ঘাস ছাঁটে, কেউ রোলার চালায়, জল দেয়। কেউ গ্রাউন্ড কভার করে। ইডেনের নিজস্ব মালিরা আছে। সিএবি-র অন্য মাঠেরও কর্মীরা রয়েছে। যারা আইপিএলের সময় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। সকলের পুরস্কার অর্থ তো এক হতে পারে না। পাশাপাশি আইপিএল ও বেঙ্গল টি-২০ লিগের সময় বাইরে থেকে বেশ কিছু ছেলেকে আমরা এনেছিলাম। আমি তাদেরও পুরস্কার অর্থের ভাগ দিতে বলেছি। এতে অন্যায় কোথায়?' আপনি কি নিজের জন্য নিজেই ৫ লক্ষ টাকা সুপারিশ করেছেন? সুজন বলছেন, 'বাজে কথা। আমাকে পুরস্কার অর্থ থেকে কত টাকা ভাগ দেওয়া হবে, সেটা সিএবিকে ঠিক করতে বলি। আমি নিজের জন্য কিছু বলিনি।' যোগ করলেন, 'পুরস্কার অর্থ বণ্টনে দেরি হচ্ছে বলেও মনে হয় না। এর আগেও আমরা যখন সেরা মাঠের পুরস্কার পেয়েছি, সেই অর্থ বণ্টনে আরও বেশি সময় লেগেছিল।' মঙ্গলবারের বৈঠকে কী হয়, জানতে আগ্রহী কিউরেটর, সহকারী কিউরেটর, মাঠকর্মী, মালি - সকলে। সমবণ্টনের দাবি জোরাল হচ্ছে মালিদের মধ্যে। বলা হচ্ছে, পুরস্কার অর্থ নিয়েও কেন বিভেদ থাকবে? আনন্দের খবরেও কেন ক্ষোভ জড়িয়ে যাবে? আইপিএলের সেরা মাঠের মুকুট মাথায় উঠল যাঁদের রোদে পোড়া পরিশ্রম, নিষ্ঠাকে সম্বল করে, তাঁরাই এখনও দিন গুনছেন, কবে পুরস্কার অর্থের প্রাপ্য ভাগ পাবেন। কবে পরিবারের সকলকে দেবেন খুশির খবর। আরও পড়ুন: অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন মনু ভাকেরকে হারিয়ে চমক এষার, শ্যুটিং বিশ্বকাপে জিতলেন সোনা