Goa Congress Defection: আরও একটি নতুন রাজনৈতিক দল, এবার কংগ্রেস ভেঙে? ১০০ কোটির অপারেশন, বলছে হাতশিবির, তৃণমূল-AAP থেকেও গেলেন অনেকে
নয়াদিল্লি: ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। অস্তিত্ব সঙ্কটে উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনাও। এবার কি কংগ্রেসেও ভাঙন ধরল? গোয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অন্তত এমনই প্রশ্ন উস্কে দিচ্ছে। কারণ সেখানে ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’ নামের নতুন একটি রাজনৈতিক দলের উদয় ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে নাম নথিভু

নয়াদিল্লি: ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। অস্তিত্ব সঙ্কটে উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনাও। এবার কি কংগ্রেসেও ভাঙন ধরল? গোয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অন্তত এমনই প্রশ্ন উস্কে দিচ্ছে। কারণ সেখানে ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’ নামের নতুন একটি রাজনৈতিক দলের উদয় ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে নাম নথিভুক্তিকরণের আবেদনও জানিয়েছে তারা। (Goa Congress Party) গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচনে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। আর তার আগেই অস্বস্তি বাড়ল কংগ্রেসের। গত সপ্তাহেই স্থানীয় সংবাদপত্রে ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র তরফে একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। বলা হয়, নাম নথিভুক্তিকরণের জন্য ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, তাদের সঙ্গে ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র কোনও যোগ নেই। তাদের ভোটে ভাগ বসাতে বিজেপি ওই নামসর্বস্ব, ডামি দলকে ময়দানে নামিয়েছে। (Goa Congress Defection) যে সময় ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র আগমন ঘটল, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ২৯ মে গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অমিত পাটকরকে সরিয়ে বর্ষীয়ান নেতা গিরীশ ছোন্ডকরকে পদে বসানো হয়। সেই নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অমিত। জানিয়েছিলেন, পদ কেড়ে নেওয়ার আগে একবার জানানো পর্যন্ত হয়নি তাঁকে। এর পরই কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগ থেকে ইস্তফা দেন দু’জন। দলের অনেকেই প্রকাশ্য়ে ক্ষোভ উগরে দেন। গিরীশের আমলে যে হারে দলত্যাগ হয়েছে, ২০২২ সালের নির্বাচনে যে ভরাডুবি হয়েছে, তার পরও কেন গিরীশকে ফিরিয়ে আনা হল, ওঠে তুলতে শুরু করেন অনেকেই। কারণ ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৪০টি আসনের মধ্যে ২০টিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেস ১১টি আসনে জয়ী হয়। ভোটের পর ওই ১১ জনের মধ্যে থেকে ৮ জন বিজেপি-তে যোগ দেন। ফলে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা এসে ঠেকে ৩-এ। The announcement of the so-called ₹100-crore political party comes as no surprise. As the Congress gains momentum across Goa and people rally behind our vision, the BJP has once again resorted to its old playbook, sponsoring another political outfit to split the secular vote… pic.twitter.com/3rbMxT8rUe — Girish Chodankar (@girishgoaINC) July 2, 2026 গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস যদিও দলে ভাঙনের কথা মানছে না। তাদের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষ ভোট কাটতে নামসর্বস্ব ওই রাজনৈতিক দলটির আমদানি করেছে বিজেপি-ই। গিরীশ বলেন, “১০০ কোটি টাকার দল। মানুষের ক্ষোভ, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা টের পেলেই পুরনো ফর্মুলায় ফিরে যায় বিজেপি: নতুন কোনও দলকে ভাসিয়ে দেয়, অথবা সমর্থন জোগায়। বছরের পর বছর মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, জমি কেলেঙ্কারি, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ দেখে বিজেপি-ও বুঝতে পারছে যে শাসনকার্যের দেখিয়ে ভোট চাওয়া যাবে না। গোয়ার মানুষ রাজনীতি সচেতন। বিজেপি-র স্বার্থরক্ষার্থে এই ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার ফাঁদে পা দেবেন না তাঁরা।” গিরীশের দাবি, গোয়ায় কংগ্রেসের ভোট কাটতে ‘১০০ কোটি টাকার অপারেশনে’ নেমেছে বিজেপি। তাঁর বক্তব্য, “গোয়াত ১০০ কোটি টাকার তথাকথিত ১০০ কোটি টাকার রাজনৈতিক দলের ঘোষণায় একটুও অবাক হইনি। গোয়ায় কংগ্রেস ভালসাড়া পাচ্ছে। মানুষ আমাদের উপর আস্থা রাখছেন। আর তাতেই বিজেপি ফের পুরনো খেলায় নেমেছে। অন্য একটি রাজনৈতিক দলকে স্পনসর করছে। কারণ ওদের নিজেদের পারফর্ম্যান্সের উপর বিশ্বাস নেই। ওই ১০০ কোটি টাকার পার্টির কথা এক সপ্তাহ আগেই জানতে পারি আমি। ঘোষণার চার দিন আগেই সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দিই। আবারও বলছি, কংগ্রেসের অন্দরে কোনও ভাঙননেই। দল ঐক্যবদ্ধ। আগের থেকে হাত অনেক বেশি শক্ত। এই গুজব, বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা সফল হবে না।” আরও পড়ুন: ইঞ্জেকশনে টয়লেট ক্লিনার ভরে স্যালাইনে মিশিয়ে দিলেন স্ত্রী, বেঘোরে মৃত্যু স্বামীর, নেপথ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তবে কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি যে রয়েছে, তা স্পষ্ট। শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলবিরোধী কাজের অভিযোগে গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ওয়াসিং খানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। AICC-র সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের সফরের পর পরই সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। বিজেপি যদিও কংগ্রেসে ভাঙন ধরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোয়ায় দলের মুখপাত্র সিদ্ধেশ নায়েক জানানস গিরীশের আমলেই গোয়ায় কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে। দলে দলে লোকজন বেরিয়ে আসেন। আরও পড়ুন: ‘অযোধ্যায় জমি কিনতে চাই’, গভীর রাতে ফোন অমিতাভ বচ্চনের, টাকাও পাঠিয়ে দেন রাতারাতিই, সামনে এল নয়া তথ্য নতুন গজিয়ে ওঠা যে ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’কে ঘিরে এত শোরগোল, তার সভাপতি ফ্রান্সিসকো অ্যান্টোনিও জাসিন্টো। তিনি মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত এবং অতীতে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংযোগ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ গোয়ায় তাঁর বাড়ির ঠিকানাই দলের কার্যালয় বলে চিহ্নিত এই মুহূর্তে। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা Indian Express-কে জানিয়েছেন, গিরীশকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনাতেই নতুন দল গঠনের দিকে ঝোঁকেন তাঁরা। দু’দশক দল করার পর তিনি নিজে কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ওই নেতা বলেন, “গোটা জীবন দলকে উৎসর্গ করেছি। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি আমরা। দলে পর পর ভাঙনের সময়ও নড়িনি। কিন্তু যাঁরা নিঃস্বার্থ ভাবে খেটে দলকে দাঁড় করিয়েছেন, তাঁদেরই কোণঠাসা করা হয়েছে। আনাগোনা বেড়েছে সন্দেহজনক লোকজনের। গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় নেই কংগ্রেস। সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না। গোয়ার মানুষ বিকল্প চান। এটি আঞ্চলিক শক্তি, যা দিল্লির দ্বারা চালিত করা যাবে না। গোয়ার মানুষের রায়ই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। আম আদমি পার্টি, তৃণমূল, রেভলিউশনারি গোয়ান্স পার্টি এবং কংগ্রেসের অনেকে, বিভিন্ন পেশার লোকজন এই সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন।” কিন্তু দলের নাম ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’ রাখা হল কেন? ওই ব্যক্তি জানান, কংগ্রেসের অর্থ সমমনস্ক মানুষ গোয়ার সমস্যাগুলি তুলে ধরবেন। দলের অধিকাংশ সদস্য প্রাক্তন কংগ্রেসি। তাই এমন নামকরণ। তাঁদের বিজেপি মদত জোগাচ্ছে বলে যে অভিযোগ করছে কংগ্রেস, তা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দলের সদস্যসংখ্যা কত, যথেষ্ট সদস্য আছে কি না, তার কিছুই খোলসা করেননি ওই নেতা। তবে কমিশনের কাছে স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র কোষাধ্যক্ষ ব্রুনো পেরেইরা জানিয়েছেন, তিনি কংগ্রেসকে সমর্থন করতেন এতদিন। কিন্তু এত বছর পর বিভ্রম কাটিয়ে উঠেছেন।