Gujarat Government: জবরদখলের অভিযোগ এখন অতীত, গুজরাতে সরকারি জমি উপহার দেওয়া হচ্ছে ইউসুফ পাঠানকে, তৃণমূল ছাড়তেই 'অচ্ছে দিন' NCPI সাংসদের
নয়াদিল্লি: বেআইনি ভাবে সরকারি জমি জবরদখলের অভিযোগ ছিল। হাইকোর্টেও ধাক্কা খেতে হয়েছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে। তবে তৃণমূল ছাড়ার পর পরই সেই বিতর্কিত জমি উপহার দিচ্ছে সরকার। ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা, যার মধ্য়ে অর্ধেক জনি একেবারে বিনামূল্যে পেয়ে যাচ্ছেন ইউসুফ। বাকি অর্ধে

নয়াদিল্লি: বেআইনি ভাবে সরকারি জমি জবরদখলের অভিযোগ ছিল। হাইকোর্টেও ধাক্কা খেতে হয়েছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে। তবে তৃণমূল ছাড়ার পর পরই সেই বিতর্কিত জমি উপহার দিচ্ছে সরকার। ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা, যার মধ্য়ে অর্ধেক জনি একেবারে বিনামূল্যে পেয়ে যাচ্ছেন ইউসুফ। বাকি অর্ধেক জমির দামেও বাজারমূল্যের তুলনায় ছাড় পাচ্ছেন ৫৫ শতাংশ। (Yusuf Pathan Land Row) গুজরাতের বদোদরা পুরসভার অন্তর্গত তান্দলজায় ইউসুফদের বাংলো লাগোয়া ওই জমিটির আয়তন প্রায় ১০০০ বর্গ মিটার। ২০১২ সালে ওই জমিটির উপর প্রথম মালিকানা দাবি করেন ইউসুফ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুরসভার ওই জমিটি দাবি করেন। (Gujarat Government) নিলামে না গিয়ে, সরাসরি ৯৯ বছরের ইজারায় জমিটি হাতে পেতে চেষ্টা চালান ইউসুফ। ২০১২ সালের মার্চ মাসে শেষ বার ভারতের জার্সি গায়ে ক্রিকেট খেলেছিলেন ইউসুফ। সেই সময় পাঠানের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল বদোদরা পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং জেনারেল বোর্ড। ৫৭,২৭০ টাকা অনুযায়ী, সেই সময় জমিটির বাজারমূল্য় ছিল ৫.৬ কোটি টাকা। পুরো টাকাই মেটাতে প্রস্তুত ছিলেন ইউসুফ। তবে পুরসভা রাজি হলেই হল না, নিলাম এড়িয়ে সরাসরি জমিটির মালিকানা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুজরাত সরকারের অনুমোদনও প্রয়োজন ছিল। ২০১৪ সালের জুন মাসে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় গুজরাত সরকরার নগরোন্নয়ন বিভাগ। এর পর বেআইনি ভাবে জমিটি জবরদখলের অভিযোগ ওঠে ইউসুফের বিরুদ্ধে। বদোদরা পুরসভা জানায়, প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পরও জমিটি জবরদখল করেছেন ইউসুফ, জমির চারিদিকে কাঁটাতার বসিয়েছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমুপুরে অধীররঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের টিকিটে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন ইউসুফ। এর ঠিক পর পরই, জুন মাসে ইউসুফকে নোটিস ধরায় বদোদরা পুরসভা। কাঁটাতার সরিয়ে নিতে বলা হয়। পুরসভার সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুজরাত হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দ্বারস্থ হন ইউসুফ। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। তারকা বলেই নিয়মের হেরফের হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন ইউসুফ। কিন্তু ২০২৬ সালের জুন মাসে গুজরাত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও ইউসুফের আবেদন খারিজ করে দেয়। মৌখিক পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, জবরদখল প্রমাণিত বলে ক্ষতিপূরণও চাপবে ইউসুফের ঘাড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রণীত নীতি অনুযায়ী দাবি পেশ করতে যদিও চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় তাঁকে। গত ৩১ অগাস্ট আদালতের রেকর্ডে লেখা হয় যে, আবেদনটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউসুফ। আদালতের বাইরে বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব বলে আইনজীবীকে জানান ইউসুফ। সেই মতো খারিজ হয়ে যায় মামলাটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণা হয়, যাতে বিজেপি-র কাছে পরাজিত হয় মমতার তৃণমূল। এর পর পরই, মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ইউসুফ-সহ দলের ২০ জন সাংসদ। শেষ পর্যন্ত ১৪ জুন NCPI-তে যোগ দেন তাঁরা। NDA-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে লোকসভায় আলাদা বসার অনুরোধ জানান। সেপ্টেম্বর মাসে NCPI-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন ইউসুফ। আর তার পরই ইউসুফের হাতে ওই বিতর্কিত জমিটি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল গুজরাত সরকার। গুজরাত সরকারের অনুমোদন পেয়ে বদোদরা পুরসভার তরফে সেই মতো প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। গুজরাত সরকারের প্রস্তাবটি ২৯ অগাস্ট পুরসভার হাতে পৌঁছয়। ইউসুফ আদালত থেকে মামলা তুলে নেওয়ার ঠিক দু’দিন আগে। প্রস্তাবটি তৈরি হয় ১৩ অগাস্ট। সরকারি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১০০০ বর্গ মিটার আয়তনের ওই জমির মধ্যে থেকে ৫০০ বর্গ মিটার উপহার দেওয়া হচ্ছে ইউসুফকে। বাকি ৪৭৮ বর্গ মিটার কিনতে হবে তাঁকে। তবে বাজারমূল্যের তুলনায় ইউসুফকে ওই ৪৭৮ বর্গ মিটার জমির দামে ৫৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বদোদরা পুরসভা এই মুহূর্তে বিজেপি-র দখলে। পুরসভার কমিশনার অরুণ মহেশবাবু ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অনুমোদন এসে গিয়েছে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর কথায়, “শর্তাবলী খুঁটি দেখতে হবে আমাদের। শীঘ্রই চূড়ান্ত হয়ে যাবে সব কিছু। পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে প্রস্তাবটি।” স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এ বছর জুলাই মাসে বিতর্কিত ওই জমিটি নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বদোদরা পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি। সেইসময় প্রতি বর্গ মিটারে দাম রাখা হয়েছিল ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ওই জায়গাটির বর্তমান বাজারমূল্য ২০.৫ কোটি টাকা। অর্ধেক যদি ধরা হয়, তাহলে ১০ কোটি টাকার জমি উপহার দেওয়া হচ্ছে ইউসুফকে। বেআইনি ভাবে জমি জবরদখলের জন্য যদি ক্ষতিপূরণ দিতে হতো ইউসুফকে, সেক্ষেত্রে ১৪ বছরের হিসেবে ৭.৫ কোটি টাকা মেটাতে হতো। অর্থাৎ তৃণমূল ছাড়ার পর এখন আর ক্ষতিপূরণও দিতে হচ্ছে না ইউসুফকে। অর্ধেক জমি বিনামূল্যে পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাকি অর্ধেকের দামেও ছাড় পাচ্ছেন।