Guptipara Rath Yatra: উল্টোরথের আগের দিন গুপ্তিপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী 'ভাণ্ডার লুট' দেখতে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী, ভক্তসমাগমে উৎসবের আবহ
সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি: জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা ঘিরে বর্ণিত আছে নানা কাহিনী। ওড়িশা (Odisha) জেলার পুরীর (Puri) শ্রী মন্দিরে মহাধূমধামে পালিত হয় রথযাত্রা (Rath Yatra), যা সর্বজনবিদিত। রথযাত্রা ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিভিন্ন জেলাও। মাহেশের রথ থেকে শুরু করে মহিষাদল রাজবাড়ির

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি: জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা ঘিরে বর্ণিত আছে নানা কাহিনী। ওড়িশা (Odisha) জেলার পুরীর (Puri) শ্রী মন্দিরে মহাধূমধামে পালিত হয় রথযাত্রা (Rath Yatra), যা সর্বজনবিদিত। রথযাত্রা ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিভিন্ন জেলাও। মাহেশের রথ থেকে শুরু করে মহিষাদল রাজবাড়ির, রথযাত্রা ঘিরে চোখে পড়ে উন্মাদনার ছবি। এই উৎসবে সামিল হন আট থেকে আশি - সব বয়সের মানুষ। তেমনই উল্টোরথের (Ulta Ratha Yatra) আগের দিন রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হয় গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডার লুট। হুগলির (Hooghly) গুপ্তিপাড়ার ২৮৬ বছরের প্রাচীন রথযাত্রা উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই অনন্য প্রথা। যা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রার পরতে পরতে রয়েছে ইতিহাস, যা আজও যেন সমানভাবে জীবন্ত। রথযাত্রার দিন প্রভু জগন্নাথ, বলরামদেব ও সুভদ্রা রথে চেপে গুপ্তিপাড়ার বড়বাজারে অবস্থিত মাসির বাড়িতে যান। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার দিন মাসির বাড়িতে গিয়ে বেশ কয়েকদিন সেখানেই থাকেন তাঁরা। বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও প্রভু গৃহে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন দেবী লক্ষ্মী। এরপর পঞ্চমীর দিন তিনি নিজেই মাসির বাড়িতে গিয়ে জগন্নাথদেবকে ফিরিয়ে আনার জন্য বহু অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু মাসির বাড়িতে নানা রকম সুস্বাদু খাবারের সম্ভার থাকায় প্রভু কিছুতেই ফিরতে রাজি হন না। এমনকি দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে আনা সরষে পোড়াও তাঁকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়। লোককথা অনুযায়ী, এই ঘটনার কথা জানতে পারেন তৎকালীন জমিদার বৃন্দাবন চন্দ্র ও কৃষ্ণচন্দ্র। এরপর তাঁরা লেঠেল পাঠিয়ে মাসির বাড়ির ভাণ্ডারে প্রতীকী লুটপাটের ব্যবস্থা করেন। ফলে খালি হয়ে যায় ভাণ্ডার। যেই ভাণ্ডার খালি হয়ে যায়, অমনি বাধ্য হয়ে প্রভু জগন্নাথ মাসির বাড়ি ত্যাগ করে নিজ গৃহে ফিরে আসেন। সেই রীতি উদযাপনে আজও উল্টোরথের আগের দিন গুপ্তিপাড়ায় পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডার লুট। আজ গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডার লুট প্রথার সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। প্রত্যক্ষ করেন ইতিহাস বিজড়িত এই ভাণ্ডার লুটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড। দেন 'জয় জগন্নাথ' ধ্বনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। ফি বছর এই প্রথা দেখতে গুপ্তিপাড়ায় ভিড় জমান হাজার হাজার ভক্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা ও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে গুপ্তিপাড়ার ভাণ্ডার লুট আজও বাংলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য রথযাত্রা উৎসবের আকর্ষণ। এবারও তার কোনও অন্যথা হয়নি। নেমেছে ভক্তের ঢল। ভিড় সামলাতে করা হয়েছে ব্যারিকেড। মোতায়েন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।