Gyanesh Kumar: 'রাজসাক্ষী হয়ে যান', জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা রাহুল গান্ধীর
নয়াদিল্লি: মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। এই আবহে চাঞ্চল্য়কর দাবি করেছেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে বলেন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর অবশ্য় কটাক্ষের সুরে বলেছেন জানি না রাহুল গান্ধীর কথায় হাসব, না কাঁদব! প্রতিব

নয়াদিল্লি: মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। এই আবহে চাঞ্চল্য়কর দাবি করেছেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে বলেন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর অবশ্য় কটাক্ষের সুরে বলেছেন জানি না রাহুল গান্ধীর কথায় হাসব, না কাঁদব! প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-আন্দোলন, পুলিশি ধরপাকড় থেকে প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রীদের আটক করা জ্ঞানেশ কুমারকে ব্য়বহার করে ভোট চুরির মধ্য়ে দিয়ে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের ক্ষমতায় টিকে থাকার অভিযোগে উত্তাল দিল্লি! ঐক্য়বদ্ধ বিরোধী থেকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন এই আবহেই সোমবার ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি করলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, 'রাজসাক্ষী হয়ে যান। খোলাখুলি বলি, আপনি আসল অপরাধী নন। আপনি একটা ভুল করেছেন। আপনি এই ভুলের পিছনে থাকা মাথা নন। এটা আপনার জন্য খুব সহজ, ইস্তফা দিন। বেরিয়ে যান। আমরা জানি, আপনার উপর প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, ডোভাল, আদানির চাপ আছে। বুঝতে পারছি যে আপনি কতটা চাপে রয়েছেন। আমরা মানুষকে ক্ষমা করে দিই। আমরা নিষ্ঠুর নই। কিন্তু আমরা সংবিধানকে সুরক্ষিত রাখবই।' এই নিয়ে পাল্টা খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হওয়ার অধিকার গণতন্ত্রে আছে। তবে একমত না হওয়া আর সাংবিধানিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মধ্য়ে অনেকটা ফারাক। অভিযোগ তুললে প্রমাণ তো দিতে হবে, যে কোন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, কোন নির্দেশ ভুল, সেটা তো বলুন। মিথ্য়ে অভিযোগ তুলবেন না। জনাদেশ পছন্দ হলে গণতন্ত্র, ভোটে হারলে ভোট-চুরি। রাহুল গান্ধীর কথায় হাসব, না কাঁদব জানি না! আমি আগেই বলেছি, এটা দেশের দুর্ভাগ্য় যে, এই দেশ কখনও এত অস্থির, দুর্বল, অরাজক বিরোধী দলনেতা দেখেনি।'মোদি সরকারের অন্দর থেকেই তাঁর কাছে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য় আসছে বলে দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ বলছেন, 'আপনারা অবাক হয়ে যাবেন, মোদিজি আমি আপনাদের বলছি, আপনার সরকারের ২০০ জন অফিসার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমাদের তথ্য় দিচ্ছেন। ED-র মধ্য়ে, CBI-এর মধ্য়ে, বিদেশমন্ত্রকের মধ্য়ে, সবাই আমাদের তথ্য় দিচ্ছেন।' রবিবার কলকাতায় এসে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছিলন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনার থেকে বিচারপতি, উপাচার্য, কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল, পুলিশ প্রধান, এমন সব লোকজনকে বসানো হবে, যারা সরকারের কব্জায় থাকবে। সবচেয়ে বিপজ্জনক পদ্ধতি হল, যাতে ওই ব্যক্তিরা কব্জা থেকে বেরোতেই পারবে না, এমন লোককে বসিয়ে দাও, যার ঠিকুজি-কুষ্ঠি আপনার হাতে থাকবে। অর্থাৎ এমন লোকজনকে বসানো হবে, যে বেআইনি কাজ করবে এবং তার প্রমাণ সরকারের হাতে থাকবে। জ্ঞানেশ কুমার এমনই একটি লোক।রাজনৈতিক দাবি পাল্টা দাবি, লড়াই-আক্রমণ চলছে! কিন্তু নানা মহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা-ভরসা অটুট থাকছে তো?