India China Border Conflict: অরুণাচলে মুখোমুখি ভারত ও চিন? বিবাদ চলছে এখনও? ITBP প্রধানের মন্তব্যে নতুন করে জলঘোলা, কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন কংগ্রেসের
নয়াদিল্লি: অরুণাচল সীমান্তে চিনের সঙ্গে মুখোমুখি বিবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে এবার মন্তব্য করলেন ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের প্রধান শত্রুজিৎ সিংহ কপূর। জানালেন, চিনের মোকাবিলা করতে নতুন একটি ‘কমব্যাট ইউনিট’ তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘শৌর্য কম্যান্ডোজ়’। অরুণাচলের একাধিক জায়গায় চিনে

নয়াদিল্লি: অরুণাচল সীমান্তে চিনের সঙ্গে মুখোমুখি বিবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে এবার মন্তব্য করলেন ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের প্রধান শত্রুজিৎ সিংহ কপূর। জানালেন, চিনের মোকাবিলা করতে নতুন একটি ‘কমব্যাট ইউনিট’ তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘শৌর্য কম্যান্ডোজ়’। অরুণাচলের একাধিক জায়গায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যে মুখোমুখি বিবাদ চলছে, তাতে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন শৌর্য কম্যান্ডোরা। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সীমান্তে চিনের সঙ্গে সংঘাত জারি থাকা নিয়ে কেন্দ্র কেন চুপ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। (India-China Faceoff in Arunachal) বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে এই মন্তব্য করেন ITBP প্রধান শত্রুজিৎ। তিনি বলেন, “আমাদের শৌর্য প্লাটুন খুব ভাল কাজ করছে। সম্প্রতি অরুণাচলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, কিছু জায়গায় মুখোমুখি বিবাদ হয়, যা এখনও চলছে। সেখানে শৌর্য কম্যান্ডো টিম ভাল কাজ করেছে। এটা একটা ভাল উদ্য়োগ ছিল। ITBP-র সূচনা হয়েছিল মাউন্টেন গেরিলা বাহিনী হিসেবে। এর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে চিন সীমান্ত সামলে আসছি আমরা। কিন্তু আসল যে লক্ষ্য ছিল, তা থেকে সরে আসার প্রয়োজন নেই। গেরিলা যুদ্ধের প্রয়োজন তেমন নেই আজকের দিনে। কিন্তু উঁচু জায়গাগুলিতে মাউন্টেন ফাইটিং ফোর্স হিসেবে নিজেদের বাকি CAPF এবং সেনার থেকে আলাদা নিজস্ব বিশেষ পরিচয় গড়ে তুলতে হবে আমাদের।” (India China Border Conflict) 🇮🇳 ITBP DG Confirms Face-Offs at Multiple Locations in Arunachal Pradesh ITBP Director General has officially confirmed ongoing face-offs at multiple locations in Arunachal Pradesh, praising the courage and operational performance of the force’s Shaurya Commando platoons. #ITBP #ArunachalPradesh #ShauryaCommandos #BorderSecurity #IndianDefence #RakshaSamachar — Raksha Samachar | रक्षा समाचार 🇮🇳 (@RakshaSamachar) October 23, 2026 আরও পড়ুন: জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত, মাটি কাঁপল চিনেরও, নেপালে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ITBP প্রধান শত্রুজিৎ জানিয়েছেন, চিনের সঙ্গে ৩৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে শৌর্য কম্যান্ডোদের, যাতে যুদ্ধের প্রস্তুতি আরও দৃঢ় করে তোলা সম্ভব হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, চিনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে চিরাচরিত যুদ্ধকৌশল যথেষ্ট নয়। বরং তা ভারতের দুর্বলতা প্রমাণিত হতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত শৌর্য কম্যান্ডোরা, তা বোঝাতে গিয়ে ITBP প্রধান জানান, সীমান্তরক্ষায় সর্বত্র পৃথক ড্রোন বাহিনী মোতায়েন রাখা হচ্ছে। ড্রোন ওড়ানো থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেনাকর্মীদের। কেন্দ্রের তরফে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ITBP-র জন্য। ওই টাকার ৭০ শতাংশই ড্রোন খাতের জন্য বরাদ্দ। পাশাপাশি, আধুনিকীকরণের জন্য ৪০০০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন মিলেছে, যার মধ্যে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে ড্রোন এবং অ্য়ান্টি ড্রোন সিস্টেমের জন্য। ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্য়কায় যে সংঘর্ষ বাধে দুই দেশের জওয়ানদের মধ্যে, তার জন্যও নতুন কোর্স আনা হয়েছে। ২০২৭ সাল শেষ হতে হতে গোটা বাহিনীকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ITBP প্রধান শত্রুজিতের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। অরুণাচল সীমান্তে কী চলছে, কেন সরকার মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। দলের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘স্বঘোষিত বিশ্বগুরুর চিন তোষণ নীতি অব্যাহত। অথচ অরুণাচলপ্রদেশে চিনাবাহিনীর সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ITBP-র জওয়ানরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ITBP প্রধান, যা যথার্থই প্রাপ্য তাঁদের। অথচ এই গোটা ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকার সম্পূর্ণ ভাবে নীরব। গতমাসে তাকসিংয়ে সংঘাতের পর অরুণাচলের ওয়াচা এবং দামাইতে কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয় দুই দেশের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লাদাখের মতো অরুণাচলেও বেশ কিছু টহলদারি এলাকা হারিয়েছি আমরা। লাগাতার অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নাম বদলে দিচ্ছে চিন। সেখানে ৬০০০০ মেগাওয়াট শক্তির বাঁধ নির্মাণ করছে তারা, যা পরিবেশগত ভাবে তো বটেই, আমাদের জল নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক’। আরও পড়ুন: ‘চিন চাপ বাড়াচ্ছে, সরকার ঠিক আচরণ করছে না’, লাদাখের প্রতি কেন্দ্রের আচরণে হতাশ সোনম ওয়াংচুক মোদির চিন-নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জয়রাম। তাঁর দাবি, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৯৯ বিলিয়ন ডলার। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কার্যত ‘চিন থেকে আমদানি’তে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে। ২০২০ সালের ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনকে ‘ক্লিনচিট’ না দিলে, আজ এই পরিস্থিতি দেখতে হতো না বলেও মত জয়রামের। ভারতের কোথাও চিন ঢোকেনি, কোনও পোস্ট দখল করেনি বলে কেন দাবি করেছিলেন মোদি, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।