Indranil Sen: কীভাবে আর্থিক দুর্নীতি? ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা? বিস্ফোরক তথ্য
কলকাতা: কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল আমলের তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে! তাঁকে ১০ নভেম্বর অবধি পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। যে যখন ক্ষমতায়, ইন্দ্রনীল সেন তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ! বাম আমলে তাঁর ওঠাবসা ছিল তৎকালীন শাসকের সঙ্গে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদি

কলকাতা: কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল আমলের তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে! তাঁকে ১০ নভেম্বর অবধি পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। যে যখন ক্ষমতায়, ইন্দ্রনীল সেন তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ! বাম আমলে তাঁর ওঠাবসা ছিল তৎকালীন শাসকের সঙ্গে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, 'তিনি যেমন আগে সিপিএমকে খাইয়ে খেতেন, সিপিএমের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পেনার ছিলেন...তারা পরবর্তীকালে সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার হচ্ছে।' রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই আবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন ইন্দ্রনীল সেন। ২০১৪ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে হারলেন! তারপর চন্দননগর থেকে জিতলেন! মন্ত্রী হলেন। ইন্দ্রনীল সেন তখন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে!কিন্তু, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে চন্দননগর কেন্দ্র থেকে ১৩ হাজার ৪৪১ ভোটে পরাজিত হন ইন্দ্রনীল সেন। রাজ্য়ে পালাবদলের পর থেকেই আবার সুর পাল্টাতে শুরু করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। কৌশলে রাজনীতি থেকে দূরত্ব বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেন তিনি! এর আগে, এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রনীল সেন বলেছিলেন, '৪ মে-ও ভাবিনি আমি চন্দননগরে ওখান থেকে হারব। ওখানকার মানুষ আমার থেকে হয়তো আমার থেকে আরও বেশি কিছু চেয়েছিলেন। আমি সেটা দিতে পারিনি।' ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কলকাতা পুলিশ এবং ED দুই এজেন্সিই তদন্ত চালাচ্ছে। কলকাতা পুলিশ খতিয়ে দেখছে, পুজোর পাসের নামে কীভাবে টাকা তোলা হয়েছে? আর ED খতিয়ে দেখছে, সেই টাকা হাত ঘুরে কোথায় কোথায় গেছে? প্রসঙ্গত, এই তদন্তেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিবৃতিতে উঠে আসে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম! সেখানে দাবি করা হয়, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা থেকে টাকা গেছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অ্য়াকাউন্টে! কোটি কোটি টাকা নয়ছয়! তার আগে অবশ্য় আরও বেশ কিছু লেনদেনের কথা উল্লেখ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট! প্রেস বিবৃতিতে ED জানায়, মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ, ধ্রবজ্য়োতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটিরও বেশি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেন। এরপরই দেখা যায়, ইন্দ্রনীল সেনের দুই ঘনিষ্ঠের সংস্থা থেকে টাকা পাঠানো হয় ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায়। ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সেই সংস্থা থেকে টাকা তোলা হয়। অন্য়দিকে অকটেভ রেকর্ডস নামে ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থায় জমা পড়ে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। এই অকটেভ রেকর্ডস-এর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। ED সূত্রে দাবি, টাকা লেনদেনের এই পুরো তথ্য় গোয়েন্দাদের স্ক্য়ানারে রয়েছে। ED জানায়, এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ইন্দ্রনীল সেন আগে দাবি করেছিলেন, রয়্য়ালটি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা গেছে। তাঁকে জেরা করে কি দুর্নীতির মানি-ট্রেল সম্পর্কে নতুন তথ্য় সামনে আসবে? সেটাই দেখার। আরও পড়ুন: ED Raid: কয়েকশো কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণা! ৫ জায়গায় তল্লাশি চালাল ED