Iran Nuclear Blast Warning: পরমাণু হামলার আশঙ্কা! ২৪ ঘণ্টা ঘরবন্দি, বন্ধ AC, জানলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ ইরানের
কলকাতা: পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা কি ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়? আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই এবার নাগরিকদের জন্য পরমাণু বিস্ফোরণ থেকে বাঁচার বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করল ইরান। শুধু সতর্কবার্তা নয়, কীভাবে প্রাণ বাঁচাতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে ক

কলকাতা: পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা কি ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়? আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই এবার নাগরিকদের জন্য পরমাণু বিস্ফোরণ থেকে বাঁচার বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করল ইরান। শুধু সতর্কবার্তা নয়, কীভাবে প্রাণ বাঁচাতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে কী করতে হবে—সবকিছু বোঝাতে তৈরি হয়েছে প্রায় আট মিনিটের একটি বিশেষ ভিডিও। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRNA-তে প্রকাশিত এই ভিডিওতে দেওয়া হয়েছে একাধিক জরুরি নির্দেশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, বিস্ফোরণ হলে জানলা থেকে দূরে থাকতে হবে, বন্ধ রাখতে হবে এয়ার কন্ডিশনার এবং অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। কিন্তু কেন হঠাৎ এমন নির্দেশিকা? আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত কি আরও ভয়াবহ মোড় নিতে চলেছে? কেন পরমাণু বিস্ফোরণ থেকে বাঁচার নির্দেশিকা প্রকাশ করল ইরান? ইরানের এই নির্দেশিকা প্রকাশের সময় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের গভীরে অবস্থিত পরমাণু পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে বাড়ছে জল্পনা। নাতানজের কাছে গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (Pickaxe Mountain) নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই এলাকায় হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও তিনি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার জন্য ট্রাম্পের উপর চাপ তৈরি করছেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। মার্কিন প্রশাসনের তরফেও এমন কোনও পরমাণু হামলার সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে নাগরিকদের জন্য পরমাণু বিস্ফোরণ মোকাবিলার নির্দেশিকা প্রকাশ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরমাণু বিস্ফোরণ হলে প্রথমেই কী করবেন? ইরানের জরুরি পরিষেবা বিভাগের প্রকাশিত ভিডিওতে পরমাণু বিস্ফোরণের চারটি প্রধান বিপদের কথা বলা হয়েছে। সেগুলি হল তীব্র আলোর ঝলকানি, বিস্ফোরণের অভিঘাত বা ব্লাস্ট ওয়েভ, প্রচণ্ড তাপ এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের ছড়িয়ে পড়া। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকানো যাবে না। কেউ যদি খোলা জায়গায় থাকেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কোনও বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কোনও শক্তপোক্ত আড়ালের পিছনে আশ্রয় নিতে হবে। মাটিতে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। বিস্ফোরণের প্রাথমিক অভিঘাত কেটে গেলে দ্রুত কাছের কোনও মজবুত বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়তে হবে। বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখতে দাঁড়িয়ে থাকা বা মোবাইলে ছবি তোলার চেষ্টা করা যাবে না। গাড়ির ভিতরেও আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ নয়। কেন বন্ধ রাখতে হবে AC? জানলা-দরজা বন্ধ রাখার নির্দেশ ইরানের নির্দেশিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাড়ির ভিতরে নিরাপদ আশ্রয় তৈরির উপর। বলা হয়েছে, সম্ভব হলে বাড়ির বেসমেন্ট বা মাঝের দিকের ঘরে আশ্রয় নিতে হবে। জানলা এবং বাইরের দেওয়াল থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ রাখতে হবে দরজা ও জানলা। বিশেষ করে যে এয়ার কন্ডিশনার বা ভেন্টিলেশন সিস্টেম বাইরে থেকে বাতাস টেনে ঘরের ভিতরে আনে, সেগুলি বন্ধ করে দিতে হবে। কেন এই নির্দেশ? কারণ পরমাণু বিস্ফোরণের পর বাতাসে তেজস্ক্রিয় কণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাইরের বাতাস ঘরের ভিতরে ঢুকলে সেই কণাগুলি মানুষের শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ, খাবার ও জল নিয়ে সতর্কতা ভিডিওতে নাগরিকদের অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বাড়িতে বোতলবন্দি জল এবং প্যাকেটজাত খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টা পার হলেই যে বিপদ কেটে যাবে, তা মনে করা যাবে না। পরিস্থিতি বুঝে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। প্রশাসনের তরফে নিরাপদে বেরনোর নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আশ্রয়স্থল ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। কোনও বাড়িতে আগুন লাগলে বা বাড়িটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অবশ্য নিরাপদ বিকল্প আশ্রয়ে যেতে হবে। কেন ব্যাটারিচালিত রেডিও রাখার পরামর্শ? পরমাণু বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে শুধু তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস বা EMP-ও বিপদের কারণ হতে পারে। এর প্রভাবে বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি ঘোষণা শোনার জন্য ব্যাটারিচালিত রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বা অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও যাতে প্রশাসনের নির্দেশ পাওয়া যায়, সেটাই এর উদ্দেশ্য। এই নির্দেশিকা কি আমেরিকার হামলার ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ইরানের এই নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে তাদের বার্ষিক Passive Defence Week-এর সময়। নাগরিকদের সম্ভাব্য বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত রাখাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে এবারের নির্দেশিকার বিশেষত্ব হল, পরমাণু বিস্ফোরণ এবং তেজস্ক্রিয় দূষণ মোকাবিলায় এত বিস্তারিতভাবে নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের ইসফাহান প্রদেশে রয়েছে নাতানজ পরমাণু কেন্দ্র। সেই এলাকার জরুরি পরিষেবা বিভাগ থেকেই এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই নির্দেশিকাকে আমেরিকার আসন্ন পরমাণু হামলার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখার একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। তবুও পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।