Jio Platforms IPO: জিও-র আইপিওতে ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটির বিড, ভারতীয় শেয়ার বাজারে একাধিক নতুন রেকর্ড
মুম্বই: রিলায়েন্স গোষ্ঠীর জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে বিপুল সাড়া বিনিয়োগকারীদের। তিন দিনের সাবস্ক্রিপশন পর্বে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের চাহিদা সহ মোট প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে। ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার এই আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি। শেষ পর্যন্ত আইপিওটি মোট ২২.

মুম্বই: রিলায়েন্স গোষ্ঠীর জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে বিপুল সাড়া বিনিয়োগকারীদের। তিন দিনের সাবস্ক্রিপশন পর্বে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের চাহিদা সহ মোট প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে। ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার এই আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি। শেষ পর্যন্ত আইপিওটি মোট ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। এই বিপুল চাহিদার জেরে ভারতের প্রাইমারি মার্কেটে একাধিক নতুন নজির তৈরি হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিডিং শুরু হওয়ার পর মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যেই আইপিওটি সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, খুচরো বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য শ্রেণির অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয়তার জেরেই শেষ দিনে চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বিডিং পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন বিনিয়োগকারীদের নজর শেয়ার বরাদ্দ এবং শেয়ার বাজারে জিও প্ল্যাটফর্মসের আত্মপ্রকাশের দিকে। Jio IPO-তে ১ কোটি ৩৮ লক্ষের বেশি আবেদন জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে এই প্রথম কোনও আইপিওতে আবেদনের সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি পেরিয়েছে। এর আগে বিশ্বজুড়ে আইপিওতে আবেদনের যে নজির ছিল, তার তুলনায় জিও প্ল্যাটফর্মসের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। ফলে এই আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়েছে। ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী—বিভিন্ন শ্রেণির অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ এই আইপিওকে ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত পাবলিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার ইস্যু, ভারতের বৃহত্তম IPO ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার ইস্যু সাইজ নিয়ে জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের বৃহত্তম আইপিওর নজির তৈরি করেছে। এই আইপিও সম্পূর্ণভাবে নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, পাবলিক অফারের মাধ্যমে সংস্থার বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করেননি। ২১ অক্টোবর আইপিওতে বিডিং শুরু হয়। প্রায় ১০০ মিনিটের মধ্যেই ইস্যুটি সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। প্রথম দিনের শেষে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩.১৬ গুণ। দ্বিতীয় দিনের শেষে তা বেড়ে হয় ৫.৫৭ গুণ। নজির সৃষ্টিকারী মাইলস্টোন ৩০,২১৩ কোটি টাকার আইপিও। রেকর্ড ১ কোটিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ভারতের বাজারে জিও-র এক নতুন মাইলফলক। এই আইপিও দেশের বিনিয়োগকারীদের ব্যুৎপত্তি এবং ক্রমবর্ধমান ব্যাপ্তিকে স্পষ্ট করে তোলে। #JioIPO #recordbreakingmilestone #JioPlatformsIPO #ABPananda — ABP Ananda (@abpanandatv) October 23, 2026 শেষ দিনে চাহিদা আরও জোরদার হয়। তিন দিনের বিডিং পর্ব শেষে মোট সাবস্ক্রিপশনের হার পৌঁছয় ২২.১৯ গুণে। অর্থাৎ, অফারে থাকা শেয়ারের তুলনায় বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল বহুগুণ বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিপুল চাহিদা জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চাহিদা দেখা গিয়েছে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা কোয়ালিফায়েড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার্স (QIB) শ্রেণিতে। এই শ্রেণিতে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়ে। QIB বিভাগটি মোট ৭০.৫৫ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। অন্যদিকে, নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (NII) বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের হার ছিল ১৪ গুণ। অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের বাদ দিয়ে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে। পাশাপাশি, অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের তরফে চাহিদার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এই দুই পরিসংখ্যান মিলিয়ে মোট বিডের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিশেষ করে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিপুল অংশগ্রহণ এই আইপিওর চাহিদাকে আরও জোরদার করেছে। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আইপিওতে মোট বিডের মূল্য এবং সংস্থার হাতে শেষ পর্যন্ত আসা অর্থ এক বিষয় নয়। ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের মোট বিডের অঙ্ক; এটি জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নয়। খুচরো বিনিয়োগকারী ও যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ শুধু বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই নন, জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গিয়েছে। খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৮ কোটি ৫০ লক্ষ শেয়ার। এর বিপরীতে বিড জমা পড়েছে ২৩ কোটিরও বেশি শেয়ারের জন্য। ফলে এই বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের হার দাঁড়িয়েছে ২.৭২ গুণ। যোগ্য রিলায়েন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষিত বিভাগটি ৭.৬০ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। অন্যদিকে, কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের হার ছিল ২.৯৩ গুণ। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে আগ্রহ শুধু বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। খুচরো বিনিয়োগকারী, যোগ্য শেয়ারহোল্ডার এবং সংস্থার কর্মীরাও এই ইস্যুতে অংশ নিয়েছেন। ২৬ অক্টোবর শেয়ার বরাদ্দ, ২৮ অক্টোবর তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা ২৩ অক্টোবর বিডিং পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল শেয়ার বরাদ্দ চূড়ান্ত করা এবং শেয়ার বাজারে সংস্থার তালিকাভুক্তি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর শেয়ার বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এরপর ২৮ অক্টোবর শেয়ার বাজারে জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবিত দিন। এখন বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন, কারা শেয়ার বরাদ্দ পাবেন এবং তালিকাভুক্তির দিন বাজারে শেয়ারের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা দেখার জন্য। আইপিওর বিপুল ইস্যু সাইজ, আবেদনের রেকর্ড সংখ্যা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভূতপূর্ব চাহিদা—সব মিলিয়ে জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার বাজারে প্রবেশ ভারতের প্রাইমারি মার্কেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেয়ার তালিকাভুক্তির পর বাজারে সংস্থাটির পারফরম্যান্সই হবে এই আইপিওর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।