Kakoli Ghosh Dastidar : আজ দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগেই বড় দাবি কাকলির, 'আমাদের সঙ্গে...'
কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, আশাবুল হোসেন ও বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা : তৃণমূলের দুই শিবিরের পরষ্পর বিরোধী দুই দাবি। একদিকে কুণাল ঘোষ বলছেন, "NCPI-এর ২০জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৬জন যোগাযোগ রেখে চলেছেন।" অন্যদিকে NCPI-এর কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করছেন, আরও ২-৩ জন সাংসদ, তাঁদের শিবিরে আসার জন্য় বলেছেন। এসবেরই মধ্যে

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, আশাবুল হোসেন ও বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা : তৃণমূলের দুই শিবিরের পরষ্পর বিরোধী দুই দাবি। একদিকে কুণাল ঘোষ বলছেন, "NCPI-এর ২০জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৬জন যোগাযোগ রেখে চলেছেন।" অন্যদিকে NCPI-এর কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করছেন, আরও ২-৩ জন সাংসদ, তাঁদের শিবিরে আসার জন্য় বলেছেন। এসবেরই মধ্যে মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে NCPI সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নদীর এক পাড় ভাঙে, অন্য পাড় গড়ে। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর, তৃণমূল যত ভাঙছে, বিজেপি তত শক্তিশালী হচ্ছে। আর এরইমধ্য়ে তৃণমূলের দুই শিবির নানা রকমের পরষ্পর বিরোধী দাবি করে চলেছে। 'কালীঘাট তৃণমূল' দাবি করছে, NCPI থেকে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের অন্তত ৬ জন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ প্রসঙ্গে 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "আমি এটুকু বলতে পারি, যে ২০ জন সাংসদ নিয়ে যে একটা বিষয় রয়েছে, তার অন্তত ৬জন তাঁরা কিন্তু আমাদের এদিকের সঙ্গে অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে যাঁরা করছেন, তাঁরা অন্তত ৬জন তাঁরা পুরোদস্তুর যোগাযোগ রেখে চলেছেন।" উল্টোদিকে NCPI দাবি করছে, 'কালীঘাট-তৃণমূল' থেকে আরও ২-৩ জন সাংসদ তাদের দিকে আসতে চাইছেন। এ প্রসঙ্গে NCPI-এর লোকসভার চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, "আমরা সবসময় কিন্তু ২০ জন একসঙ্গে আছি। যে কথাটা পোস্টে আপনারা বলছেন, আরও ২-১ জন সাংসদ, তাঁরাও আমাদের সঙ্গে কিন্তু যোগাযোগে আছেন। কোনও প্রবল চাপ নেই। স্ব-ইচ্ছায় সবাই এসেছেন। কেননা, এখানে যে বালিচুরি, মাটিচুরি, কয়লাচুরি, সোনাচুরি এগুলো তো কাগজে আসছে। এগুলো তো ডকুমেন্টেড অন্য়ায়।" শুধু সাংসদ কেন, বিধায়কদের নিয়েও নানা দাবি করা হচ্ছে। বিধায়ক সংখ্য়ার নিরিখে কালীঘাট-তৃণমূল এখন সংখ্য়ালঘু। ঋতব্রত-তৃণমূল সংখ্য়াগরিষ্ঠ। এই অবস্থায় নতুন দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, "এখানেও অন্তত মিনিমাম ৩০ প্লাস, ৩০-এর বেশি, সংখ্যাটা অনেক বেশি। কয়েকজন ফোন করছেন, যোগাযোগ থাকছে, আবার কয়েকজন দিদির সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।" পাল্টা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমার খালি ওঁকে বলার, যা পড়ে রয়েছে আর কী, যে বিধায়করা আছেন, মানে পাবলিকলি আছেন, সেই বিধায়কদের একটু নজরদারির মধ্যে রাখার অনুরোধ করব।" এসবের মধ্যেই মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে NCPI সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। NCPI সাংসদ (বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ) সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, "মুখ্য়মন্ত্রী আসছেন, আগের সপ্তাহে আসার কথা ছিল। তখন উনি কাকলি এবং শতাব্দীকে এটা বলে দেন, মূলত প্রত্য়েক সাংসদেরই এলাকায় নানাবিধ সমস্য়া দেখা দিচ্ছে। অনেকে এখনও বাড়ি ঢুকতে পারছে না। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে একটা বিস্তারিত আলোচনা করে, একটা কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।" রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী মিটিং করতেই পারেন তাঁদের সঙ্গে। বিজেপির কোনও সর্বোচ্চ নেতাও মিটিং করতে পারেন। তবে তাঁদের ওপর যে হিংসা হচ্ছে বা তাঁদের ওপর যে আক্রমণ হচ্ছে সেটার দায়িত্ব বিজেপি নিতে পারবে না। তৃণমূল যদি তৃণমূলকে ডিম ছোড়ে, অতীতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রসায়নের কারণে যদি কেউ আক্রান্ত হয়ে যান, সেখানে শুভেন্দু অধিকারী কী করবেন !" শেষ পর্যন্ত কি NCPI বিজেপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে ? অর্থাৎ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন ?