Kakoli vs Kalyan Controversy: "উনি নারী বিদ্বেষী", কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের, "বেইমান...ফালতু কথা", পাল্টা TMC সাংসদ
নয়াদিল্লি: ঘরে হোক বা বাইরে, বর্তমানে 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর যেন কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা। একদিকে, 'কালীঘাট তৃণমূল' বনাম 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিধানসভা। যার জেরে সাসপেন্ড হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। মার্শাল দিয়ে তাঁকে বিধানসভার কক্ষ থেকে বের করে দিলেন স্পিকার। অন্যদিকে, সেদিন

নয়াদিল্লি: ঘরে হোক বা বাইরে, বর্তমানে 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর যেন কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা। একদিকে, 'কালীঘাট তৃণমূল' বনাম 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর লড়াইয়ে উত্তপ্ত বিধানসভা। যার জেরে সাসপেন্ড হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। মার্শাল দিয়ে তাঁকে বিধানসভার কক্ষ থেকে বের করে দিলেন স্পিকার। অন্যদিকে, সেদিনই লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া তৃণমূলে 'গৃহযুদ্ধ' তো এখন নিত্যনৈমিত্তিক। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, চলতি অধিবেশনে কেন সাসপেন্ড করা হল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে? মূলত মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের পক্ষে তৃণমূল সাংসদকে সাসপেনশনের প্রস্তাব দেন অর্জুন মেঘাওয়াল। ভোটাভুটিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) সাসপেনশনের পক্ষেই সিলমোহর। ফলে যা হওয়ার ঠিক তাই হল। জানা যাচ্ছে, তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে চিঠি দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই চিঠিতে সই করেন ১৭ জন সাংসদ। একদা সতীর্থ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'নারী বিদ্বেষী' বলে অভিহিত করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, "উনি নারী বিদ্বেষী। কখনও সদনের ভিতর, কখনও সংসদের (Parliament) বাইরে তিনি মহিলাদেরকে বারংবার অসম্মান করেন, গালিগালাজ করেন। আজকেও তার অন্যথা হয়নি। উনি মহিলাদেরকে যে ভাষায় আক্রমণ করেন, তার প্রতিবাদে আজকে মাননীয় অধ্যক্ষের কাছে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে সম্পূর্ণ বাদল অধিবেশনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাসপেন্ড হয়েছেন।" কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সুরে সুর মিলিয়েই NCPI সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) বলেন, "উনি সবসময় এই ব্যবহারটা সবার সঙ্গে করেন। প্রত্যেকটি মহিলার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। আমার মনে হয় ওঁর কাউন্সেলিং দরকার। আমরা যখন দলে ছিলাম তখনও উনি মহুয়া, কাকলিদিকে গালিগালাজ করত। আমরা অনেকক্ষণ ধরেই চুপ ছিলাম। ঘাড়ের মধ্যে উঠে এসে বলছে। তখন বিজেপির তরফে প্রতিবাদ করা হয়। সকলে রুখে দাঁড়ায়। তাতে উনি চুপ করেছেন।" এদিকে, 'কালীঘাট তৃণমূল' পন্থী আরেক নেতা কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে বলেন, "কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বেইমানদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন বেশ করেছেন।" পাশাপাশি, লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হওয়া প্রসঙ্গে খোদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বেইমানকে বেইমান বলবই। তাতে যা আছে হবে। ফালতু কথা বলছে। কী মন্তব্য করেছি সেটা বলতে বলুন না। বেইমানদের বিরুদ্ধে আর বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।"