Kargil Diwas: ভারত মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাচ্ছে আর পাকিস্তান... কার্গিল দিবসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
দ্রাস: কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কার্গিল দিবসে (Kargil Diwas) পাকিস্তানকে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের। ২৬ জুলাই, ১৯৯৯। ভারতের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। সেদিনই কার্গিল যুদ্ধে বিজয়লাভ করে ভারত। সেই থেকে প্রত্যেক বছর ২৬ জুলাই দিনটি কার্গিল বিজয় দিবস হিসাবে উদযাপিত হয়।

দ্রাস: কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কার্গিল দিবসে (Kargil Diwas) পাকিস্তানকে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের। ২৬ জুলাই, ১৯৯৯। ভারতের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। সেদিনই কার্গিল যুদ্ধে বিজয়লাভ করে ভারত। সেই থেকে প্রত্যেক বছর ২৬ জুলাই দিনটি কার্গিল বিজয় দিবস হিসাবে উদযাপিত হয়। আজ, রবিবার ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবস। অপারেশন বিজয়ে যে ৫২৭ সৈনিক শহিদ হয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ করা হয় এই দিনে। দ্রাস সেক্টরে কার্গিল দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজনাথ বলেন, 'পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হলে তা হবে শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য় করে কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ভারতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না। তবে যদি কোনও আলোচনা হয়ও, তা হবে শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর বা PoK নিয়েই। যা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে পাকিস্তান।' পাশাপাশি কটাক্ষের সুরে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, 'ভারত যখন মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাচ্ছে তখনও সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি পাঠানোর চেষ্টায় ব্যস্ত পাকিস্তান। বর্তমানে সন্ত্রাসবাদকে জাতীয় নীতির অংশে পরিণত করেছে পাকিস্তান। সে দেশে সেনাবাহিনী ও জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে আর কোনও পার্থক্য নেই। শুধুমাত্র জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ই দেওয়াই নয়, তাদের সঙ্গে রীতিমতো সমন্বয় রেখে কাজ করে পাকিস্তানি সেনা। সে কারণেই 'অপারেশন সিঁদুর'-এ ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতা সরকারকে আলাদা করে দেখা হবে না।' ১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলেছিল কার্গিলে। লাদাখের কার্গিল, দ্রাস, বাটালিক, মুশকো ও কাকসারে হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ। সমুদ্রপৃষ্ঠের ৫ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় হয়েছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের লড়াই। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। সঙ্গে পাকিস্তানের অনুপ্রবেশকারী সেনা পর্বতশৃঙ্গে অনেক সুবিধাজনক জায়গা দখল করেছিল। ফলে লড়াই ছিল ভীষণ কঠিন। নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম না করে ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধ জিতেছিল, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল। ভারতের যে জয়কে কুর্নিশ করে গোটা বিশ্ব। কেন বেঁধেছিল যুদ্ধ? ১৯৯৮-৯৯ সালের প্রবল ঠাণ্ডায় কার্গিলের পাহাড়চূড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোস্টগুলি তখন ফাঁকা। ১৯৯৯ সালের লাহৌর চুক্তি ভেঙে অনুপ্রবেশ করে সেই পোস্টগুলি দখল করে পাকিস্তান। আরও পড়ুন: "কে কী বলছে কিছু এসে যায় না", ম্যাচের সেরা হয়ে কাকে নিশানা করলেন ঈশান কিষাণ? পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল সিয়াচেন সীমান্তে নিযুক্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। যাতে সড়কপথে তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না রাখতে পারে ভারতীয় সেনা। এতে করে কাশ্মীর নিয়ে নতুন করে ভারতের সঙ্গে দর কষাকষি করা যাবে বলে ধারণা ছিল পাকিস্তানের। ১৯৯৯ সালের ৩ মে প্রথমে জানা যায় যে, পাকিস্তান অনুপ্রবেশ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঘাঁটি কব্জা করেছে। সেগুলিকে দখলমুক্ত করতে আর পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে শুরু হয় অপারেশন বিজয়। ২ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় সেনাকে পাঠানো হয় যুদ্ধে। ভারতীয় স্থলসেনা যখন অপারেশন বিজয় চালাচ্ছে, তখন নৌসেনা শুরু করে সফেদ সাগর অভিযান। পাকিস্তানকে দুদিক থেকে সাঁড়াশি চাপ দিতে। কার্গিলে খাড়া শৃঙ্গ, অক্সিজেনের কম মাত্রা, আর সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা শত্রু - সব কিছুকে হার মানায় ভারতীয় সেনা। এক এক করে শৃঙ্গ জয় করতে থাকে ভারতীয় সেনা। ৪ জুলাই টাইগার হিল জয় করার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের কোমর ভেঙে দেয় ভারতীয় সেনা। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ী ঘোষণা করেন, অপারেশন বিজয় সফল। পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে ভারত। ২৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে জয় ঘোষণা করে ভারত। দুমড়ে মুচড়ে যায় পাকিস্তানের মনোবল।