Madhya Pradesh News: ১৫ বছরের সম্পর্ক! মালিকের মৃত্যু ‘মানতে’ পারেনি পোষ্য, শেষ যাত্রায় যা ঘটল...চোখে জল নেটপাড়ার
মধ্যপ্রদেশ : কথায় বলে, মানুষ বদলাতে পারে, কিন্তু এক বিশ্বস্ত পোষ্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কখনও তার মালিকের সঙ্গ ছাড়ে না। মধ্যপ্রদেশের বেতুল শহরে এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সামনে এসেছে, যা এই মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতে। মালিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ১৫ বছরের। দুগ্গু (Duggu) ছিল তার মালিকের সেরা বন্ধু এ

মধ্যপ্রদেশ : কথায় বলে, মানুষ বদলাতে পারে, কিন্তু এক বিশ্বস্ত পোষ্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কখনও তার মালিকের সঙ্গ ছাড়ে না। মধ্যপ্রদেশের বেতুল শহরে এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সামনে এসেছে, যা এই মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতে। মালিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ১৫ বছরের। দুগ্গু (Duggu) ছিল তার মালিকের সেরা বন্ধু এবং সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় প্রদীপ জৈনের। তারপর যা ঘটল, সত্যিই অবিশ্বাস্য। অন্তিম যাত্রায় উপস্থিত থাকা সকল মানুষের চোখে জল এনে দিয়েছে। পনেরো বছর ধরে দুগ্গু ছিল তার মালিকের সেরা বন্ধু এবং নিজের সন্তানের মত। কাজ থেকে ফেরার সময় হোক, বা বাড়ির বাইরে থেকে ঘরে ফেরার সময়, মধ্যপ্রদেশের বেতুলের বাসিন্দা প্রদীপ জৈনকে রোজ স্বাগত জানাতে সে দরজার সামনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। কাজ থেকে বাড়ি ফিরলেই বহুদিনের হারানো বন্ধুকে ফিরে পাওয়ার মতো তাঁর স্নেহময় কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ত সে। বহু সময় ধরে চলত আদর ও সারাদিন না পাওয়ার খামতির বহিঃপ্রকাশ। তেমনই একটি রবিবারেও সে এই আশায় অপেক্ষা করছিল। যে তার মালিক আগের মতোই সুস্থ ও সবল হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরবেন। তবে তার মনিব আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। তার কাছে সেই দিনের অপেক্ষা শুধু অপেক্ষাই থেকে গেল। ৬৭ বছর বয়সী প্রদীপ জৈন আট দিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। AIIMS-এ চিকিৎসা চলাকালীন তিনি মারা যান। রবিবার মরদেহ তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসা হয় শেষ বারের মত। তখনই দুগ্গু বুঝতে পারে তার এতদিনের কাছের বন্ধু আর নেই। বাড়ির লোকেদের মত তার অন্তরটাও কেঁদে ওঠে। সে এখন সঙ্গীহীন। যার জন্য সারাটা দিন সে অপেক্ষায় প্রহর গুনতো, সেই মানুষটিই আজ তাকে ছেড়ে পরলোকে পাড়ি দিয়েছে। এই নিঃসঙ্গতা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি সে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আত্মীয়-স্বজনরা যখন জড়ো হলেন, শোকাহত হয়ে মালিকের মরদেহের পাশে বসে থাকে সে। একবারও নড়েনি বা সরে যায়নি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি দেখে সে কষ্ট পাবে, এই ভেবে পরিবারের লোকেরা যখন পোষ্যটিকে অন্য একটি ঘরে রেখে আসে, তখন সে কষ্টে আকুল হয়ে একটানা গোঙাতে থাকে। অবশেষে, মরদেহ নিয়ে যখন শ্মশানের দিকে রওনা দেওয়া হল, সেও সবার সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা দেখার পর স্তম্ভিত হয়ে যায় সকলে। কিছুটা যাওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং মারা যায় দুগ্গু। এই ঘটনা শোকাবহ পরিবেশকে আবেগে আরও ভারাক্রান্ত করে তুলল। একসঙ্গে প্রদীপকে দাহ করা হয় এবং দুগ্গুকে শ্মশান চত্বরের মধ্যেই সমাহিত করা হয়। এই ঘটনা ইতিমধ্যেই চোখে জল এনেছে সকলের।