Meerut Case: পরকীয়ার কারণে স্বামীকে মেরে নীল ড্রামে, সাহিল-মুসকানকে ফাঁসির সাজা দিল আদালত
কলকাতা: মেরঠের চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা স্বামী হত্যা কাণ্ডের ঘটনা নিশ্চয়ই জানা আছে সবার। ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রনগরের নিজের বাড়িতে স্ত্রীর হাতে খুন হতে হয়েছিল মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে। শুধু খুন নয়, খুনের পর সৌরভের দেহ মোট ১৫টি টুকরো করে কাটা হয়েছিল। দেহগুলো লুকোনোর জন্য নিয়ে আসা

কলকাতা: মেরঠের চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা স্বামী হত্যা কাণ্ডের ঘটনা নিশ্চয়ই জানা আছে সবার। ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রনগরের নিজের বাড়িতে স্ত্রীর হাতে খুন হতে হয়েছিল মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে। শুধু খুন নয়, খুনের পর সৌরভের দেহ মোট ১৫টি টুকরো করে কাটা হয়েছিল। দেহগুলো লুকোনোর জন্য নিয়ে আসা হয় একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম। টুকরো টুকরো দেহের অংশ তাতে ভোরে বালি, জল, সিমেন্ট গুলে ঢেলে দেওয়া হয়। সিমেন্ট দিয়েই সিল করে দেওয়া হয় ড্রামের মুখ। এই পুরো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সৌরভের স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী ও তাঁর প্রেমিক সাহিল। বুধবার এই ঘটনার সাজা ঘোষণা করল আদালত। অতিরিক্ত জেলা আদালতের বিচারপতি দুই অভিযুক্তকেই ফাঁসির নির্দেশ দেন।মেরঠ জেলা আদালতে এই মামলার শুনানি চলছিল গত এক বছর ধরে। দু’সপ্তাহ আগে আদালত এই খুনের ঘটনায় মুসকান রস্তোগী ও তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলায় মোট ১২৬টি শুনানি হয়েছে। ২২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। অবশেষে, ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর সাজা ঘোষণা করল আদালত। বুধবার শুনানির শেষে, বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র জানান, সৌরভকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন মুস্কান এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল। খুন করার পর সৌরভের দেহ লোপাট করতে নীল ড্রামে ঢুকিয়ে সিমেন্ট ঢেলে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। বিচারকের মতে, এই ধরনের অপরাধ বৃহত্তর সমাজে ভীতির সৃষ্টি করে। তাই সবকিছু বিবেচনা করেই দু’জনকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছে।কীভাবে খুন হতে হয় সৌরভকে ?২০২৫ সালের ৩ মার্চ মেরঠের ইন্দ্রনগরের বাড়িতে স্বামীকে খুন করেন মুস্কান। ২০১৬ সালে মুসকান ভালবেসে বিয়ে করেন সৌরভকে। মুসকানকে সময় দিতে মার্চেন্ট নেভির চিকরিও ছেড়ে দেন সৌরভ। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অশান্তি শুরু হয় পরিবারে। এতে একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ২০১৯ সালে ভাড়াবাড়িতে উঠে যান সৌরভ। পরে লন্ডনের একটি বেকারিতে চাকরি নেন। গত তিন বছর ধরে সেখানেই ছিলেন। কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পরেই সৌরভ জানতে পারেন, তাঁর বন্ধু সাহিলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন মুসকান। যা নিয়ে অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ডিভোর্সের পথে এগিয়েও, সন্তানের কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন সৌরভ। কিন্তু এখানেই হয়ত সিদ্ধান্ত ভুল ছিল সৌরভের। মেয়ের জন্মদিনে বাড়ি আসেন তিনি। আর তাতেই খুন হতে হয় তাঁকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, প্রথমে সৌরভের খাবারে ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচৈতন্য করা হয়। তার পর সাহিল ও মুসকান মিলে কুপিয়ে খুন করেন মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে। দেহটি স্নানঘরে নিয়ে গিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটেন, মোট ১৫টি টুকরো করা হয় সেই দেহ। সেগুলো লুকোনোর জন্য নীল রঙের প্লাস্টিকের একটি বড় ড্রাম কিনে তাতে কাটা অংশগুলো রেখে বালি, জল, সিমেন্ট গুলে ঢেলে দেওয়া হয়। ঘটনা সামনে আসতে পরে নীল ড্রামটি কেটে সেখান থেকে বার করে আনা হয় দেহ।