Murshidabad : নিমেষে শেষ এত গুলো প্রাণ ! এই একজনের গাফিলতিতেই রেল দুর্ঘটনা ? কী তথ্য উঠে আসছে ?
বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের রেল দুর্ঘটনায় বেঘোরে প্রাণ গেছে অন্তত ৫জনের। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল স্কুল পড়ুয়া। কিন্তু, কার গাফিলতিতে এতগুলো প্রাণ চলে গেল? এই ঘটনায়, সংশ্লিষ্ট গেটম্যানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, এদিন ADRM- এর নেতৃত্বে হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদের ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শ

বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের রেল দুর্ঘটনায় বেঘোরে প্রাণ গেছে অন্তত ৫জনের। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল স্কুল পড়ুয়া। কিন্তু, কার গাফিলতিতে এতগুলো প্রাণ চলে গেল? এই ঘটনায়, সংশ্লিষ্ট গেটম্যানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, এদিন ADRM- এর নেতৃত্বে হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদের ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা তা দেখেও পড়ুয়া সমেত সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে পুলকার কিন্তু মাঝপথেই যে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুদূত, তা কে জানত? মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের আগেই লেভেল ক্রসিং-এ। চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল একাধিক পডু়য়ার। প্রাণ চলে গেল এক সাইকেল আরোহীরও। কিন্তু, কার গাফিলতিতে এতগুলো প্রাণ চলে গেল? ভুলটা ঠিক হয়েছিল কোথায়? মুর্শিদাবাদের রেল দুর্ঘটনায় এখন গেটম্যানের দিকেই সমস্ত অভিযোগের আঙুল। কিন্তু ট্রেন আসার নির্দেশিকা সত্ত্বেও কেন খোলা হল গেট? এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে এলাকায়। অভিযুক্ত গেটম্যানকে দীর্ঘক্ষণ কেবিনে আটকে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে RPF, GRP থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। ট্রেন দুর্ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পূর্ব রেলের তরফে সাসপেন্ড করা হয়েছে অভিযুক্ত গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা কী বলছেন ? স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, 'নবদ্বীপ ধাম পাস করল আর লেভেল ক্রসিং-এর গেট তুলে দিল। লেভেল ক্রসিং-এর গেটটা খোলা ছিল। তার জন্যই তো গাড়িটা ঢুকতে পেরেছে। না হলে ঢুকল কী করে? নবদ্বীপ বেরিয়ে গেছে আর গেট খুলে দিয়েছে।' আর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, লেভেল ক্রসিং-এর গেটটা খোলা ছিল। সোজাসুজি এসে ধাক্কা মারে।' অন্য এক বিক্ষোভকারী জানান, 'ডিপার্টমেন্টের যার যার আছে, যতজন জড়িত আছে, তাদের সাসপেনশন চাই। তাদের কড়া থেকে কড়া শাস্তি ও জেল যাতে হয় এটাই চাইছি।' সেই রাস্তা দিয়ে নিত্যদিনের এক যাত্রী জানান, 'আমি গতকাল কাজে যাচ্ছিলাম। গেট ফেলে রেখে ঘুমিয়ে ছিল। যাই খেয়ে হোক, মদ হোক, গাঁজা হোক। ঘুমাচ্ছিল। আমি মোটর সাইকেল এখানে রাখি, তারপর গিয়ে ডাকি। ডেকে তারপর উঠে গেট তোলে। প্রত্যেকদিন নেশা করে আসে।' কিন্তু ধৃত গেটম্যানের স্ত্রী জানান, ডিউটি করলে ড্রিঙ্ক সেভাবে করতেন না কিছু। গাফিলতি কার? রেলের তরফ থেকে কী জানান হচ্ছে?শুক্রবার সকালেই ADRM- এর নেতৃত্বে হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদে আসে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। তদন্তে আসেন রেল পুলিশের আধিকারিকেরাও। হাওড়া শাখার SRP ইন্দ্রজিৎ বসু জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি স্টেশনমাস্টারের তরফ থেকে। গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যা অ্যাকশন নেওয়ার আইনি অ্যাকশন নেওয়ার যেটা আছে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী জানিয়েছেন?মুখ্যমন্ত্রী জানান, ''গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি পুলিশকে বলেছি, উনি মদ্যপ ছিলেন কিনা মেডিক্যাল করাতে। রেলের পক্ষ থেকেও তারা ব্য়বস্থা নিচ্ছেন। এটা একদম পুরোপুরি হিউম্যান এরর, মানুষের ভুলের জন্য হয়েছে। এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ গেটম্যান করেছে। এখানে ক্ষমা করার মতো জায়গায় নেই।''