NEET Paper Leak: কীভাবে NEET প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল ? কোন কোন পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ? CBI-এর হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
কলকাতা: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বিশেষজ্ঞরাই NEET UG-র প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী। দায়ী NEET-এর নিয়ামক সংস্থা NTA-রই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করল CBI। NTA-র ৩ বিশেষজ্ঞর নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, কোনও প্রিন্টিং প্রেস নয়, প্রশ্ন ফাঁসের আঁতুড়ঘর ন্যাশনাল

কলকাতা: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বিশেষজ্ঞরাই NEET UG-র প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী। দায়ী NEET-এর নিয়ামক সংস্থা NTA-রই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করল CBI। NTA-র ৩ বিশেষজ্ঞর নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, কোনও প্রিন্টিং প্রেস নয়, প্রশ্ন ফাঁসের আঁতুড়ঘর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (National Testing Agency) অন্দরেই। গোপন অনুবাদ, ব্যাক ট্রান্সলেশন, প্রুফ রিডিংয়ের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে প্রশ্নপত্র। প্রশ্ন ফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্য়াতিসম্পন্ন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এবং যন্তরমন্তরে অনশনেও বসেন। আন্দোলনের চাপে পড়ে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। আগামী সোমবার CBI-চার্জশিট বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত উদ্ভিদবিদ্যা-প্রাণিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মনীষা গুরুনাথ মন্ধারে। রসায়ন বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রহ্লাদ ভিত্তলরাও কুলকার্নি। এবং পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মনীষা সঞ্জয় হাবলদার। CBI-এর চার্জশিট অনুযায়ী, গোপন অনুবাদ, প্রুফরিডিংয়ের কাজে নিজেদের অনুমোদিত সুযোগের অপব্যবহার করে ওই বিশেষজ্ঞরা প্রশ্নপত্র পাচার করেন। গত মে মাসে, মেডিক্যালের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা NEET-এর প্রশ্ন-ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। যার জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেওয়া হয় CBI তদন্তের নির্দেশ। সেই তদন্তের পর সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। সেখানে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে P V কুলকার্নি, মনীষা মন্ধার নিজেদের বাড়িতে 'স্পেশাল রিভিশন সেশন' আয়োজন করেন। সেখানে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে প্রশ্ন, ৪টি বিকল্প এবং সঠিক উত্তর মৌখিকভাবে জানানো হয়। কোনও ডিজিটাল প্রমাণ না রাখতে পরীক্ষার্থীদের সব কিছু হাতে লিখে নিতে বলা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া পরীক্ষার্থীদের নোটবুকের CFSL ও হ্যান্ডরাইটিং পরীক্ষা করে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় ৩ মে হওয়া NEET-UG-র প্রশ্নপত্র। সেগুলো হুবহু মিলে যায়। আরও পড়ুন - NEET প্রশ্নফাঁসে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কীভাবে কাজ করেছে ? চাঞ্চল্যকর তথ্য় CBI-এর হাতে এছাড়াও, তদন্তে অনলাইন লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ডও হাতে এসেছে। এর মধ্যে গোয়েন্দাদের আতস কাচের নীচে রয়েছে মনীষা হাবলদারের পরিবারের অ্যাকাউন্টে হওয়া আর্থিক লেনদেন। CBI-এর দাবি, অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার হয় মনীষার স্বামীর মোবাইল নম্বরে। প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে অন্যতম সন্দেহভাজন লাতুরের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মনোজ ভগবানরাও শিরুরের পরিবারের এক সদস্যের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলেও CBI সূত্রে দাবি। চার্জশিট অনুযায়ী, P V কুলকার্নি এবং মনীষা মন্ধারে, চিকিৎসকর মনোজ ভগবানরাও শিরুরের সঙ্গে মিলে কিছু পরীক্ষার্থীকে সিদ্ধিভিনায়ক হাসপাতালেও ডাকেন। যেখানে পরীক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ প্রশ্ন মুখস্থ করে নেন। কীভাবে প্রশ্নপত্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ল?চার্জশিটে সেই রুটেরও উল্লেখ করেছে CBI। চার্জশিটে বলা হয়েছে, মনীষা হাবলদার পুনের APMA-র পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক তেজস হর্ষদকুমার শাহকে প্রশ্ন বলে দিতেন। তেজস হর্ষদকুমার শাহ হাতে লেখা নোটগুলি পিডিএফ করে লাতুরের রেণুকাই কেরিয়ার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক শিবরাজ মোতেগাঁওকরের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। এইভাবে টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র মহারাষ্ট্র থেকে হরিয়ানা এবং হরিয়ানা থেকে রাজস্থানে যায়। মোটা টাকার বিনিময়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশে।