NEET Paper Leak: NEET প্রশ্নফাঁসে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কীভাবে কাজ করেছে ? চাঞ্চল্যকর তথ্য় CBI-এর হাতে
কলকাতা: একেই বলে, সর্ষের মধ্যে ভূত। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বিশেষজ্ঞরাই NEET UG-র প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী। দায়ী NEET-এর নিয়ামক সংস্থা NTA-রই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করল CBI। NTA-র ৩ বিশেষজ্ঞর নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, কোনও প্রিন্টিং প্রেস নয়, প্রশ

কলকাতা: একেই বলে, সর্ষের মধ্যে ভূত। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বিশেষজ্ঞরাই NEET UG-র প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী। দায়ী NEET-এর নিয়ামক সংস্থা NTA-রই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করল CBI। NTA-র ৩ বিশেষজ্ঞর নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, কোনও প্রিন্টিং প্রেস নয়, প্রশ্ন ফাঁসের আঁতুড়ঘর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (National Testing Agency) অন্দরেই। গোপন অনুবাদ, ব্যাক ট্রান্সলেশন, প্রুফ রিডিংয়ের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে প্রশ্নপত্র। CBI তদন্ত করার সময় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ-এর কথা জানতে পারে। আর এই সুত্র ধরে গভীরে যেতেই চমকে যান তদন্তকারীরা। গত বছরের নভেম্বরে 'ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬' নামে তৈরি করা আটজন ছাত্রছাত্রীর একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ষড়যন্ত্রের তদন্তে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত উদ্ভিদবিদ্যা-প্রাণিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মনীষা গুরুনাথ মন্ধারে। রসায়ন বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রহ্লাদ ভিত্তলরাও কুলকার্নি। এবং পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মনীষা সঞ্জয় হাবলদার। CBI-এর দাবি, পুনে-ভিত্তিক পিভি কুলকার্নি এবং মনীষা মানধারে নামে দুই মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে এবং বিশেষ কোচিং ক্লাসের মাধ্যমে কথিত ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলো কীভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা উদ্ঘাটন করতে সাহায্য করেছে এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। চলতি মাসের শুরুতে দিল্লির একটি আদালতে সিবিআই-এর দাখিল করা ২০,০০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে এই বিবরণগুলো উঠে এসেছে। কীভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি ব্যবহার করা হয়েছিল ? অভিযোগপত্রে উদ্ধৃত দুজন NEET পরীক্ষার্থীর গোপন জবানবন্দি অনুসারে, মানধারে বিশেষ জীবনবিজ্ঞান ক্লাস পরিচালনা করতে আট জনকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। ক্লাস শিডিউল, নিট-পরবর্তী খাতা মূল্যায়ন এবং নম্বর গণনা নিয়ে আলোচনার জন্যও গ্রুপটি ব্যবহৃত হতো। মনীষা ওয়াঘমারে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) কর্তৃক নিযুক্ত বিষয় বিশেষজ্ঞ কুলকার্নি ও মানধারের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইনে রসায়ন এবং উদ্ভিদবিদ্যার ক্লাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পুনে-ভিত্তিক বিউটিশিয়ান মনীষা ওয়াঘমারে এই গ্রুপে ছাত্র-ছাত্রী জোগাড় করতেন। সিবিআই-এর দাবি, মনীষা দাবি করতেন যে এই ক্লাসগুলো ছাত্রছাত্রীদেরকে নিট-ইউজি পরীক্ষার হুবহু প্রশ্ন সরবরাহ করবে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জীববিজ্ঞান ক্লাসের সময় অভিযুক্ত মনীষা ছাত্রছাত্রীদের তাদের নতুন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিতেন এবং বইয়ের পাশে লেখার জন্য প্রশ্নও বলে দিতেন। সেই প্রশ্নগুলো একটি পরিষ্কার খাতায় নকল করে রাখতেন ছাত্র-ছাত্রীরা। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তনও করা হত। কেন্দ্রীয় সংস্থা 'NEET 2026' নামে আরও একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে, যেখানে কুলকার্নি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাসের সময়সূচী এবং লিঙ্ক শেয়ার করেছিলেন।