New Dwarf Planet Discovery: সৌরজগতে নতুন বামনগ্রহের সন্ধান মিলল, প্লুটোর প্রতিবেশী, অনেক দূর থেকে প্রদক্ষিণ করছে সূর্যকে
নয়াদিল্লি: গ্রহের স্বীকৃতি হারিয়েছে প্লুটো। সেই নিয়ে কম বিতর্ক নেই। তার মধ্যেই প্লুটোর কক্ষপথের বাইরে, সৌরজগতের প্রান্তিক অংশে আরও একটি গ্রহের সন্ধান মিলল। সৌরজগতের একেবারে কিনারা ঘেঁষে অবস্থান ওই বামনগ্রহটির। (New Planet 2026 ED138) আপাতত গ্রহটির নাম রাখা হয়েছে ২০২৬ ED138. সেটি বামনগ্রহ বলেই মনে কর

নয়াদিল্লি: গ্রহের স্বীকৃতি হারিয়েছে প্লুটো। সেই নিয়ে কম বিতর্ক নেই। তার মধ্যেই প্লুটোর কক্ষপথের বাইরে, সৌরজগতের প্রান্তিক অংশে আরও একটি গ্রহের সন্ধান মিলল। সৌরজগতের একেবারে কিনারা ঘেঁষে অবস্থান ওই বামনগ্রহটির। (New Planet 2026 ED138) আপাতত গ্রহটির নাম রাখা হয়েছে ২০২৬ ED138. সেটি বামনগ্রহ বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এখনও পর্যন্ত খাতায়কলমে সিলমোহর পড়েনি। তবে স্বীকৃতি পাওয়া গেলে, এখনও পর্যন্ত সৌরজগতের ওই অংশে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বৃহদাকার বামনগ্রহ বলে গণ্য হবে সেটি। (New Dwarf Planet Discovery) চিলের Vera C. Rubin Observatory নতুন বামনগ্রহটি আবিষ্কার করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ডিজিটাল ক্যামেরার সাহায্য়ে মহাকাশে সমীক্ষা চালানো হচ্ছিল। আর তাতেই বামনগ্রহটির সন্ধান মেলে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, 2026 ED138 একটি ট্রান্স-নেপচুনিয়ান মহাজাগতিক বস্তু, অর্থাৎ নেপচুনেরও অনেক দূর থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে সেটি। প্লুটোর গ্রহের স্বীকৃতি হারানোর পর, সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহের স্বীকৃতি পেয়েছে নেপচুন। Rubin Operations টিমের সদস্যরা এই আবিষ্কার করেছেন। ওই টিমকে নেতৃত্ব দেন ‘সেন্টার ফর অ্য়াস্ট্রোফিজিক্সে’র সদস্য ম্যাথিউ হলম্যান। সমস্ত তথ্য ঘেঁটে দেখতে গিয়ে 2026 ED138-র ঔজ্জ্বল্য এবং আকার বিশেষ ভাবে নজর কাড়ে। হলম্যান বলেন, “খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। আবার বিশ্বাসও হচ্ছিল না। এই ধরনের জিনিস অত্যন্ত বিরল। তাই কোথাও ভুল হয়েছে কি না, বার বার যাচাই করে দেখি আমি।” বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে 2026 ED138 সৌরজতের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে সূর্য থেকে সেটির দূরত্ব ৪৬ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিট। সেটির কক্ষপথে ২৫ ডিগ্রি হেলানো। নেপচুনের অভিকর্ষীয় শক্তির সংস্পর্শে এসে বামনগ্রহটি আসল কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূর্যের থেকে দূরত্ব, ঔজ্জ্বল্য এবং পৃষ্ঠতলের আলো প্রতিফলিত করার ক্ষমতা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের ধারণা, বামনগ্রহটির ব্যাস হতে পারে ৬০০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে। আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কাছাকাছি অংশে খোঁজ মিলেছে 2026 ED138-এর। লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রে পরিপূর্ণ একটি ঘন অঞ্চল সেটি। সেই কারণেই এতদিন আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায়নি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই মুহূর্তে সৌরজগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় বামনগ্রহ প্লুটো। আগে যদিও সেটি গ্রহ বলেই গণ্য হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিয়ন গ্রহ হিসেবে সেটির স্বীকৃতি কেড়ে নেয়। বিজ্ঞানীদের যুক্তি ছিল, সৌরজগতের কিনারায় যে অসংখ্য মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে, তার মধ্যে একটি প্লুটো। আলাদা ভাবে গ্রহ বলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া নিষ্প্রয়োজন। ফলে ‘Haumea’, ‘Makemake’, ‘Eris’-এর মতো সৌরজগতের কিনারায় অবস্থিত বামনগ্রহের তালিকায় যুক্ত করা হয় প্লুটোকে। মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যবর্তী গ্রহাণু বলয়ের বৃহত্তম বস্তুগুলির মধ্যে ‘Ceres’ এবং ‘Vesta’ গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলি তুলনায় সূর্যের অনেক কাছেও। নেপচুন ছাড়িয়ে সৌরজগতের কিনারায় যত মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে, তার সবক’টিই বামনগ্রহ নয়। আকারে বড়, মাধ্য়াকর্ষণ শক্তি রয়েছে এবং দেখতে গোলাকার বস্তুগুলিকেই বামনগ্রহ বলে চিহ্নিত করেন বিজ্ঞানীরা। নেপচুন ছাড়িয়ে, সৌরজগতের কিনারায় অবস্থানকারী সবচেয়ে বৃহদাকার বামনগ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে 2026 ED138.