New York Durga Puja: নিউ ইয়র্কে দুর্গাপুজোর আমেজ, চোখ ধাঁধানো টাইমস স্কোয়ারের রাস্তা, জমজমাট উৎসবের উন্মাদনা
নিউ ইয়র্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দ কি শুধু কলকাতা কিংবা বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? একেবারেই নয়। সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়েও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন দুর্গোৎসবের আবেগ। তারই ছবি দেখা গেল নিউইয়র্কের বিশ্ববিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে। প্রতিকূল আবহাওয়াও দমাতে পারল না উৎসবের উন্মাদনা। পুজো, মহালয়ার আচার, বাংলা গান, ন

নিউ ইয়র্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দ কি শুধু কলকাতা কিংবা বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? একেবারেই নয়। সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়েও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন দুর্গোৎসবের আবেগ। তারই ছবি দেখা গেল নিউইয়র্কের বিশ্ববিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে। প্রতিকূল আবহাওয়াও দমাতে পারল না উৎসবের উন্মাদনা। পুজো, মহালয়ার আচার, বাংলা গান, নাচ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জমজমাট হয়ে উঠল দ্বিতীয় ‘টাইমস স্কোয়ার দুর্গা উৎসব’। ১০ ও ১১ অক্টোবর নিউইয়র্কের ফাদার ডাফি স্কোয়ারে আয়োজিত এই দু’দিনের উৎসবে যোগ দেন আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রবাসী বাঙালিরা। উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং নানা ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষও। বিদেশের মাটিতে দুর্গাপুজোর পরিচিত আবহে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়া, পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং শিকড়ের টান অনুভব করার সুযোগ পেয়েছিলেন বহু বাঙালি। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও উৎসবে ভাটা পড়েনি টাইমস স্কোয়ারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্থানে দুর্গোৎসবের আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের কাছে বিশেষ আবেগের। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পুজো দেখতে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভিড় জমে প্রথম দিন থেকেই। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলা গানের সঙ্গে নাচ, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা এবং নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। টাইমস স্কোয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল আশা গ্রুপ। সহযোগিতায় ছিল আপনাবাজার। আয়োজক, সহযোগী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব ক্ষেত্রেই উঠে আসে বাঙালির উৎসবের চেনা ছবি। দ্বিতীয় দিনে সংগীত, নৃত্য এবং বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠান ছিল অন্যতম আকর্ষণ। ‘দশ মহাবিদ্যা’ অবলম্বনে নৃত্যনাট্য এবং মেখলা দাশগুপ্ত ও দেয়াশিনী রায়ের সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের নজর কাড়ে। শিশু ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা ভাষা, গান এবং ঐতিহ্যের যোগ আরও একবার সামনে আসে। পাঁচ দশকের ঐতিহ্য, সম্মানিত আমেরিকার ৬ সংগঠন এ বারের দুর্গা উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আমেরিকায় দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ধরে রাখা ছ’টি সংগঠনকে সম্মান জানানো। অন্তত পাঁচ দশক ধরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসা এই সংগঠনগুলির অবদানকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সম্মানিত সংগঠনগুলি হল ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া প্রবাসী ইনকর্পোরেটেড, ইলিনয়ের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ গ্রেটার শিকাগো, ওহায়োর বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি, নিউইয়র্কের ইস্ট কোস্ট দুর্গাপুজো অ্যাসোসিয়েশন, নিউ জার্সির কল্লোল এবং পেনসিলভানিয়ার প্রগতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিদেশে বাংলা সংস্কৃতি, উৎসব এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই সংগঠনগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমেরিকায় বেড়ে ওঠা বাঙালি শিশু-কিশোরদের নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত রাখার প্রচেষ্টাকে এই সম্মাননার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিদেশের মাটিতে বাংলার উৎসব, মিলনের আবেগ আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, এই উৎসবের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন জোহরান মামদানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় প্রধান, মারিও ম্যাক্স। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের অংশগ্রহণ উৎসবকে সফল করেছে বলে জানান তাঁরা। আসলে দুর্গাপুজো শুধু কয়েক দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বাঙালির কাছে তা আবেগ, স্মৃতি, মিলন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। কলকাতার পুজোমণ্ডপ থেকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার—ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, ঢাকের ছন্দ, বাংলা গানের সুর আর মা দুর্গাকে ঘিরে আনন্দের টান যে একই রকম, তা আরও একবার প্রমাণ করল টাইমস স্কোয়ার দুর্গা উৎসব।