Prashant Kishor Victory: বাঁকীপুরে বিজয়ী প্রশান্ত কিশোর, প্রথমবার ভোটে লড়েই বিজেপি-র দুর্গে ধস নামালেন
পটনা: হিসেব মেলাতে পারেননি বিধানসভা নির্বাচনে। কিন্তু উপনির্বাচনে নিজে জয়ী হয়ে দেখালেন প্রশান্ত কিশোর। ৩০ বছর ধরে বিজেপি-র দখলে থাকা বাঁকীপুরে জয়ী হলেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই প্রথম নির্বাচনী সাফল্য পেল 'জন সুরাজ পার্টি'। তবে তাদের জন্য এই জয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পিকে-র কাছে এই হার ততটাই অস্বস্তিকর বিজেপি

পটনা: হিসেব মেলাতে পারেননি বিধানসভা নির্বাচনে। কিন্তু উপনির্বাচনে নিজে জয়ী হয়ে দেখালেন প্রশান্ত কিশোর। ৩০ বছর ধরে বিজেপি-র দখলে থাকা বাঁকীপুরে জয়ী হলেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই প্রথম নির্বাচনী সাফল্য পেল 'জন সুরাজ পার্টি'। তবে তাদের জন্য এই জয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পিকে-র কাছে এই হার ততটাই অস্বস্তিকর বিজেপি-র জন্য। কারণ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঁকীপুর আসনটি বিজেপি-র দখলে ছিল। মাত্র কয়েক মাস আগেই বাঁকীপুর থেকে জয়ী হন নিতিন নবীন, যিনি বর্তমানে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি। (Prashant Kishor Wins Bankipur) বিজেপি-র রাজ্যসভা সভাপতি নিযুক্ত হওয়ার পর বাঁকীপুর আসনটি ছেড়ে রাজ্যসভায় চলে যান নিতিন। সেই ফাঁকা আসনেই উপনির্বাচন হয়, যাতে ৬৩ হাজার ২০৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন প্রশান্ত। বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে হারিয়েছেন ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রার্থী রেখা গুপ্ত তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১৪ হাজার ৮৫। এই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম লেখান প্রশান্ত। আর প্রথম বারই বিজেপি-র দুর্গে ধস নামালেন তিনি। এবার বিহার বিধানসভায় দেখা যাবে তাঁকে। (Prashant Kishor Victory) আরও পড়ুন: বিজেপি-র ৩০ বছরের দুর্গে ধস, প্রথমবার ভোটে নেমেই বাজিমাত প্রশান্ত কিশোরের, মধ্যপ্রদেশেও জোর ধাক্কা গণনা শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই এদিন বাঁকীপুরের ফলাফলের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। একেবারে গোড়া থেকেই এগিয়ে ছিলেন প্রশান্ত। সময় যত এগোয়, ততই ব্যবধান বাড়িয়ে নেন প্রতিপক্ষদের থেকে। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই 'জন সুরাজ পার্টি'র দফতরের সামনে উচ্ছ্বাস শুরু হয়। হলুদ আবির উড়িয়ে উচ্ছ্বাস দেখেন কর্মীরা। মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন সকলে। জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রশান্ত। বলেন, "মানুষ যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা, আশীর্বাদ ধরে রাখাই আমাদের প্রধান কর্তব্য হবে। বাঁকীপুরের উন্নতির জন্য আমি নিজের সাধ্য মতো সব করব। আগামী দু'-তিন মাসের মধ্যেই পরিবর্তন দেখতে পাবেন আপনারা।" রাতারাতি বাঁকীপুরকে বেঙ্গালুরু না করতে পারলেও, তাঁর হাতে এলাকায় পরিবর্তন আসবে বলেও জানান। আরও পড়ুন: ক্যান্সারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ, নিজের জীবন বাজি রাখলেন মহীয়সী নারী, শুরু হল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল তাঁকে জিতিয়ে মানুষ আসলে বিজেপি-কেই বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি প্রশান্তর। তাঁর বক্তব্য, "বাঁকীপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছেন যে, দয়া করে ভাল কোনও মানুষকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী করুন। যাঁকেই নিয়োগ করা হোক না কেন, তিনি যেন যোগ্য হোন, সৎ হোন। বিহারের উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" বাঁকীপুরের ফলাফল প্রকাশের পর বিহারের বিজেপি সভাতি সঞ্জয় সরাওগী প্রশান্তকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "আমরা বাঁকীপুরের উন্নয়নের জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করেছি, আগামী দিনেও করব। কেন কম ভোট পড়ল, পর্যালোচনা করে দেখব আমরা।" রাজ্যের মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা বলেন, "আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি। মানুষের রায় মেনে নিচ্ছি। কোথায় খামতি রয়ে গেল দেখছি।" কয়েক মাস আগেই বিহারে যে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন, তা স্মরণ করিয়ে দেন সঞ্জয়। যদিও সেদিকে ইঙ্গিত করে বিজেপি-র অস্বস্তি বাড়াচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। SIR-এর বিহারে প্রথম বার সরকারে এসেছিল বিজেপি। মাত্র কয়েক মাস পরই বাঁকীপুরের মতো আসন হাতছাড়া হল কী করে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।