Prosenjit on Nana Patekar: 'পিঠ চাপড়ে বললেন, খুব ভাল কাজ করছো বেটা', নানা পাটেকরের স্মৃতিচারণায় প্রসেনজিৎ
কলকাতা: জন্ম নিয়েছিলেন, একেবারে সাধারণ পরিবারে। খুব অল্পবয়স থেকে, পড়াশোনার পাশাপাশি করতে হয়েছে উপার্জনের চিন্তাও। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে, পোস্টার এঁকে উপার্জন করা শুরু করেছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে, পা রাখেন রুপোলি পর্দায়। আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ এই মানুষটাই যে সিনেদুনিয়ায় অসাধারণ ছাপ রেখে যাবেন,

কলকাতা: জন্ম নিয়েছিলেন, একেবারে সাধারণ পরিবারে। খুব অল্পবয়স থেকে, পড়াশোনার পাশাপাশি করতে হয়েছে উপার্জনের চিন্তাও। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে, পোস্টার এঁকে উপার্জন করা শুরু করেছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে, পা রাখেন রুপোলি পর্দায়। আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ এই মানুষটাই যে সিনেদুনিয়ায় অসাধারণ ছাপ রেখে যাবেন, তা প্রথমে হয়তো ভাবতে পারেননি কেউই। আর তাই, নানা পাটেকরের (Nana Patekar) চলে যাওয়ার খবরে, চোখে জল গোটা দেশের মানুষের। অনুরাগীর সংখ্যা তাঁর নেহাৎ কম নয়। গোয়ায় শ্যুটিং করতে গিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সেখানে নিজের বাড়িতে থাকাকালীন, গভীর রাতে অসুস্থবোধ করেন তিনি। বন্ধুকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন, কিন্তু গভীর রাত হয়ে যাওয়ার কারণে, সেই মেসেজ দেখেননি বন্ধু। ভোরবেলা বর্ষীয়ান অভিনেতাকে তাঁর বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় অভিনেতাকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে, ১ ঘণ্টা CPR দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল অভিনেতাকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে এবং কাউকে খবর দিতে না পারার কারণে, চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়েছে অভিনেতার। নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নানা পাটেকরের প্রয়াণে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) বলছেন, 'এর চেয়ে খারাপ খবর আর হতে পারে না। আমি শ্যুটিংয়ে রয়েছি। সকালে উঠে খবরটা শোনার পর থেকে মন ভারাক্রান্ত হয়ে রয়েছে। এত গুণী একজন অভিনেতা! কাজ করছিলেন পুরোদমে, সুস্থ মানুষ ছিলেন। শুধু অভিনেতা নন, উনি একজন শিক্ষক ছিলেন। ভারতবর্ষের অভিনয়ের ধারা বদলে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সিনেমায় অসামান্য অবদান রয়ে গেল ওঁর। কয়েকটা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ওঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। মনে আছে, উনি কাঁধে হাত দিয়ে বলেছিলেন, 'তু আচ্ছা কাম কর রাহা হ্যায় বেটা, বহত আচ্ছা কাম কর রাহা হ্যায়।' (তুমি খুব ভাল কাজ করছো বেটা, খুব ভাল কাজ করছো') ওগুলোই আমাদের কাছে পাওনা। ওঁর অবদান অন্য মানের। একটা অদ্ভুত চরিত্র দিয়ে ওঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। তারপরে উনি নায়ক হয়ে গেলেন। একটা নেতিবাচক চরিত্র দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন উনি। নানা পাটেকরের কথা, শব্দ, গলার জন্য মানুষ পাগলের মতো যেতেন। 'প্রহার' ছবিটাকে ওঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবি বলে মনে হয়। দুর্দান্ত বানিয়েছিলেন। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ছবি পরিচালনা করা সহজ ছিল না।' আরও পড়ুন: Mithun on Nana Patekar: 'তারকা হয়েও অতি সাধারণ জীবনযাপন', নানা পাটেকরকে নিয়ে স্মৃতিচারণায় মিঠুন চক্রবর্তী