Quantum Physics: একই মানুষ ভিন্ন ভিন্ন রূপে বিরাজ করছেন সমান্তরাল মহাবিশ্বে, ভাগ্য নয়, সবই আসলে মাল্টিভার্সের খেলা, বলছে বিজ্ঞান
নয়াদিল্লি: জীবনের চড়াই-উতরাইয়ে নিজেকেই প্রধান চরিত্র মনে করি আমরা। কিন্তু জীবনের কতটুকু আমাদের হাতে থাকে, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে অনেকটাই। আবার অদৃশ্য শক্তি ভাগ্য নির্ধারণ করে বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা অদৃশ্য শক্তি

নয়াদিল্লি: জীবনের চড়াই-উতরাইয়ে নিজেকেই প্রধান চরিত্র মনে করি আমরা। কিন্তু জীবনের কতটুকু আমাদের হাতে থাকে, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে অনেকটাই। আবার অদৃশ্য শক্তি ভাগ্য নির্ধারণ করে বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা অদৃশ্য শক্তি নয়, বরং মহাবিশ্বই আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে মত অক্সফোর্ডের পদার্থবিদ ভ্লাতকো ভেডরাল। তাঁর মতে, মানুষ আসলে হাতের পুকুল। আমাদের সুতোয় বেঁধে রেখেছে প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্ব। যেভাবে চালনা করছে, আমরা সেভাবেই চালিত হচ্ছি। (Parallel Universe) Popular Mechanics জার্নালে Observer Effect-এর উপর জোর দিয়েছেন ভেডরাল। Observer Effect অর্থাৎ পর্যবেক্ষণের ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে থাকা প্রচলিত ধারণা। অনেকের মতে, কোয়ান্টাম অবজেক্ট, অর্থাৎ নির্দিষ্ট শক্তির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলি একসঙ্গে একাধিক অবস্থায় বিরাজ করে। নজর পড়ামাত্র অন্য সব কিছু মুছে গিয়ে কেবলমাত্র একটি অবস্থা তৈরি হয়। সেই জন্য মনে করা হয় যে, কেবল মাত্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই বাস্তব অবস্থার সৃষ্টি করে মানুষ। (Quantum Physics) আরও পড়ুন: তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাশিয়া, একটানা সাইরেন, মোবাইলে ৯.৯ তীব্রতায় কম্পনের সতর্কবার্তা জাপানে, আতঙ্কের মধ্যেই জানা গেল… কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান যে ওই ধারণাকে সমর্থন করে না। ভেডরাল জানিয়েছেন, পদার্থবিজ্ঞান অনুযায়ী, মিথস্ক্রিয়ার ফলেই শক্তির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলি নির্দিষ্ট অবস্থায় চলে আসে। সেটি পদার্থবিজ্ঞানের স্বাভাবিক নিয়ম। তার উপর মানুষের চেতনার বিশেষ ক্ষমতার দরুণ সেসব ঘটে না। সূর্যের আলো যখন সানগ্লাসের উপর এসে পড়ে, তা কাচ ভেদ করে যাবে, না প্রতিফলিত হবে, তা আলোর কণার অবস্থার উপর নির্ভর করে, মানুষের চেতনার উপর নয়। মহাবিশ্বে মানুষের অস্তিত্বকেও এই একই সূত্রে বেঁধেছেন ভেডরাল। তাঁর মতে, মহাবিশ্বে একজন মানুষের অস্তিত্ব একাধিক রূপে বিরাজ করছে। একটি রূপ, আর একটি রূপকে প্রভাবিত করছে। একই সময়ে ওই দু’টি রূপ বিরাজ করছে। সচেতন ভাবে যিনি সানগ্লাসের উপর এসে পড়া রোদকে পর্যবেক্ষণ করছেন, সেই মানুষের অন্য একটি রূপেরও অস্তিত্ব রয়েছে মহাবিশ্বের গভীরে। আসলে প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মিথস্ক্রিয়া থেকে কণার অসংখ্য নতুন গতিপথ তৈরি হচ্ছে, যা পৃথক সমান্তরাল মহাবিশ্বে ভাগ হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। ফলে প্রতি মুহূর্তে একই মানুষের অসংখ্য রূপ তৈরি হচ্ছে মহাবিশ্বে। আরও পড়ুন: ঘড়ির কাঁটা থেকে ১ সেকেন্ড বাদ দেওয়ার ভাবনা, থমকে যেতে পারে গোটা বিশ্ব? ইন্টারনেট, লেনদেনে প্রভাব? আপনার জন্য কি চিন্তার? সহজ ভাষায় বোঝাতে গিয়ে ভেডরাল জানান, শক্তির মধ্যে নিহিত উপাদানগুলিই আসল। আমার-আপনার মতো মানুষ মহাবিশ্বের যত্রতত্র সেগুলির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন। ফলে পৃথিবীর বুকে কেউ যদি অত্যন্ত কষ্টে জীবন কাটান, হতে পারে সমান্তরাল মহাবিশ্বের অন্যত্র তাঁর একটি রূপ অনেক ভাল জীবন কাটাচ্ছেন, তাঁর প্রতি ভাগ্যও অত্যন্ত প্রসন্ন।