Ranji Trophy Exclusive: বাংলা কোথায়, এ তো ভারতীয় দলের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে পরীক্ষা! তবু হুঁশিয়ারি দিলেন দিল্লির কোচ
সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: কয়েকদিন দফায় দফায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির পর দিনদুয়েক হল আকাশ মোটামুটিভাবে পরিষ্কার। রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে রঞ্জি ট্রফি। বাংলা দল তাদের অভিযান শুরু করছে ঘরের মাঠে, কল্যণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্য়াকাডেমিতে। ম্যাচের আগের দুদিন আবহাওয়া ভাল থাকায় প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটেনি। শুক্রবারের পর শনি

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: কয়েকদিন দফায় দফায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির পর দিনদুয়েক হল আকাশ মোটামুটিভাবে পরিষ্কার। রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে রঞ্জি ট্রফি। বাংলা দল তাদের অভিযান শুরু করছে ঘরের মাঠে, কল্যণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্য়াকাডেমিতে। ম্যাচের আগের দুদিন আবহাওয়া ভাল থাকায় প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটেনি। শুক্রবারের পর শনিবারও বাংলা ও দিল্লি - দুই দলই জোরকদমে সেরে নিল শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। নদিয়া জেলার সবুজে ঘেরা শহর কল্যাণীতে বেশ মনোরম পরিবেশ। রোদ থাকলেও, সেটা জ্বালাপোড়া ধরাচ্ছে না। শনিবার বিসিএ মাঠে প্র্যাক্টিসের শেষে তাই দিল্লির ক্রিকেটারদের অনেকেই পায়ে হেঁটে টিমহোটেলের দিকে রওনা দিলেন। নভদীপ সাইনি, তেজস্বী দাহিয়া, সাংসদ পাপ্পু যাদবের পুত্র স্বার্থক রঞ্জনরা পয়দলই পৌঁছে গেলেন মাঠ থেকে হোটেলে। বিজয় দাহিয়াও সেই পথই ধরলেন। দিল্লির প্র্যাক্টিসের শেষে ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক বেলা সাড়ে এগারোটা। পিঠে ব্যাগ চাপিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে ঢাকেশ্বরী গ্র্য়ান্ড হোটেলের দিকে রওনা দিলেন দিল্লির হেড কোচ। হাঁটাপথে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তায় সঙ্গী হল এবিপি লাইভ বাংলা। খোশমেজাজে গল্প করলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার। কী বললেন বিজয় দাহিয়া? পয়েন্ট করে করে তুলে ধরা হল... বাংলার পেস-শক্তি মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ। পেস ত্রিফলাকে দিল্লির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করছে বাংলা। প্রতিপক্ষের পেস-অস্ত্রকে সমীহ করছেন বিজয় দাহিয়াও। বলছেন, 'এটা তো পুরো ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণ হয়ে গিয়েছে। একদিক থেকে ভালই হয়েছে। আমি ছেলেদের বলেছি, তোমরা ভারতীয় দলের পেস বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলছো। নিজেদের সেরাটা দাও। আমি যদি রবিবার মাঠে নামতাম, এই ম্যাচেই বড় রান করার চেষ্টা করতাম। ভাল, শক্তিশালী বোলিংয়ের বিরুদ্ধে রান করলেই নিজেকে প্রমাণ করা যায়। রঞ্জি অভিযান শুরু হচ্ছে শক্তিশালী বাংলা দলের বিরুদ্ধে, এটা দলের পক্ষে ভালই হল। আমি ব্যাটার হিসাবে চাইতাম দেশের সেরা পেসারদের বিরুদ্ধে খেলতে।' জোরে বোলিংয়ে কি সেয়ানে সেয়ানে টক্কর? বাংলার হাতে শামি-মুকেশ-আকাশ থাকলে, দিল্লির ভাণ্ডারে রয়েছে নভদীপ সাইনি, সিমরজিৎ সিংহ, মানি গ্রেওয়ালের মতো পেসার। জোরদার টক্কর হবে? দাহিয়া বললেন, 'আমি এভাবে দেখি না। অভিজ্ঞতায় বাংলার পেস আক্রমণ অনেক এগিয়ে। ওদের সমীহ করতেই হয়। আমি বরং শামিকে বলেছি ম্যাচের শেষে এসে আমার পেসারদের সঙ্গে কথা বলে ওদের টিপস দিতে। ও রাজি হয়েছে। বড় প্লেয়ারদের থেকে শেখা উচিত। আমি তো অরুণ লালকেও বলেছি ড্রেসিংরুমে এসে দিল্লির তরুণদের সঙ্গে কথা বলতে। তবে আমার দলের পেসাররাও চমক দিতে পারে।' ব্যাটিং শক্তির আস্ফালন দলের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন করতেই দাহিয়ার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বললেন, 'সবাই অধিনায়ক আয়ূষ বাদোনি কিংবা অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী যশ ধূলের কথা বলছেন। আমি তো আরও দুই তরুণের কথা বলব। সনৎ সাঙ্গওয়ান ও আয়ূষ দোসেজা। দুজনই গত রঞ্জি ট্রফি ৯০০-র ওপর রান করেছে। ওরা কিন্তু বাংলার বোলিংকে স্বস্তি দেবে না। কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে।' পিচের মূল্যায়ন কল্যাণীর বাইশ গজ বেশ অবাক করেছেন দাহিয়াকে। বললেন, 'বাংলার পেস বোলিং যেরকম, যারা খেলছে, আমি ভেবেছিলাম উইকেটে আরও ঘাস রাখা হবে। সেটা নেই। আমি একটু অবাকই হয়েছি। জানি না গত রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে পরাজয়ের পর ওরা সতর্ক থাকছে বলে কি না। তবে হার্ড সারফেস। ভাল ক্রিকেট খেলা হবে। আমি তিন পেসার তো খেলাবই। বাকি দল কী হবে, সেটা রবিবার সকালে সিদ্ধান্ত নেব।' কোহলির টিপস বিরাট কোহলি দিল্লির ক্রিকেটার। এক মরশুম আগেও দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছিলেন। কোহলিকে কি প্লেয়ারদের উৎসাহ দিতে আসার জন্য মরশুমে কোনও এক সময় বলবেন? দাহিয়া বলছেন, 'বিরাট সম্প্রতি দিল্লির হয়ে খেলেছে। দলের অনেক ক্রিকেটারই ওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। আমি নিশ্চয়ই বলব সময় সুযোগ করে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে। তবে ও তো দেশে থাকে না। বিদেশে থাকে। তাই সময় বার করা কঠিন হবে। তবে ওকে কোনওভাবে কোনও সময় পাওয়া যায় কি না দেখব।' বিরাটের কোচ রাজকুমার শর্মার দিল্লি দলে ভূমিকা শুরুতেই দাহিয়া শুধরে দিলেন এটা বলে যে, রাজকুমার শর্মা দিল্লি ক্রিকেটের বয়সভিত্তিক সব দল দেখছেন। বললেন, 'রাজকুমার শর্মা শুধু রঞ্জি দলের সঙ্গেই যুক্ত নন, অন্য বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বও আছে। উনি দিল্লি দলের মেন্টর বা ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট কিছুই নন।' বোঝা গেল দুই গুরুর মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা উষ্ণ নয়। কল্যাণীতে প্রথমবার কলকাতায় অনূর্ধ্ব ১৮ থেকে ক্রিকেট খেলেছেন। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে সিএবি-র স্থানীয় ক্রিকেটে খেলেছিলেন। কোচ হিসাবে কেকেআরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দারুণ কিছু স্মৃতি রয়েছে দাহিয়ার। বললেন, 'তবে কল্যাণীতে প্রথমবার এলাম। খুব ভাল লাগছে এখানকার আবহ।' [yt]https://www.youtube.com/watch?v=PKwLsAu-z10[/yt]