Ranji Trophy: সুদীপ-অভিষেকের জোড়া সেঞ্চুরিতে কল্যাণীতে দিল্লি-বধের স্বপ্ন বাংলার, প্রথম ইনিংসের লিড
সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: দুজন গঙ্গার দুই পাড়ের বাসিন্দা। একজন নৈহাটির। অন্যজন চন্দননগরের। কার্যত মুখোমুখি দুই জনপদ। মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে নদী। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে নৈহাটির সুদীপ কুমার ঘরামি ও চন্দননগরের অভিষেক পোড়েলের যুগলবন্দিতে দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে চালকের আসনে

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: দুজন গঙ্গার দুই পাড়ের বাসিন্দা। একজন নৈহাটির। অন্যজন চন্দননগরের। কার্যত মুখোমুখি দুই জনপদ। মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে নদী। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে নৈহাটির সুদীপ কুমার ঘরামি ও চন্দননগরের অভিষেক পোড়েলের যুগলবন্দিতে দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে চালকের আসনে বাংলা। দিল্লির প্রথম ইনিংসে তোলা ২৪০ রান পেরিয়ে গিয়ে সোমবার, ম্যাচের দ্বিতীয় দিন বাংলার স্কোর ৭৯ ওভারে ৩০৪/৩। ৬৪ রানে এগিয়ে গিয়েছে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর প্রশিক্ষণাধীন দল। ম্যাচের এখনও ২ দিন বাকি। পিচ মন্থর হয়ে আসছে। তবু হাতে যখন মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার ত্রয়ী রয়েছে, তখন সরাসরি জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলা। সোমবার ইনিংস শুরু করে বাংলা প্রথমের দিকে চাপে ছিল। অভিষেক ম্যাচে নেমে ওপেনার অঙ্কুর পাল ব্যর্থ। ১৭ রান করে ফেরেন। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ করেন ৩৪ রান। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ফেরেন ২ রানে। ১০৫/৩ হয়ে যায় বাংলা। অনেকের মনে গত মরশুমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ম্যাচ ঘোরাফেরা করছিল। যেখানে এই মাঠেই ব্যাটিং ধস নেমেছিল বাংলার। তার ওপর অভিষেক পোড়েলের ২ রানে ক্যাচ পড়ল। স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বাঁচলেন ঘরামি। বাংলা শিবিরে উৎকণ্ঠা। সেই দুশ্চিন্তাইউ দিনের শেষে বদলে গেল স্বস্তিতে। অবিচ্ছেদ্য চতুর্থ উইকেটে ১৯৯ রান যোগ করেছেন সুদীপ ও অভিষেক। দুজনই সেঞ্চুরি করে অপরাজিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশম সেঞ্চুরি সুদীপের। অভিষেকের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৪ ঘণ্টা ১১ মিনিট সময় ক্রিজে কাটিয়ে ফেলেছেন। ৩১৮ বল খেলেছেন দুজনে। এই মাঠে পরপর ৩টি রঞ্জি ম্যাচে সেঞ্চুরি হয়ে গেল ঘরামির। দেব লাকড়ার বল কভারে ঠেলে ১ রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন তিনি। ১৭০ বলে। ১৪টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশম সেঞ্চুরি। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে পরপর তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি হল ঘরামির। গত বছরের রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে ও সেমিফাইনালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে এই মাঠেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে করেছিলেন ২৯৯ রান। জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ১৪৬। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ০ করে ফেরেন। দিনের খেলার শেষে ঘরামি বললেন, 'আমার বাড়ি খুব কাছেই, নৈহাটিতে। সেই অর্থে এটা আমার ঘরের মাঠ। উইকেট কিছুটা মন্থর হয়ে গিয়েছে। আমরা লিড পেয়েছি। চেষ্টা করব কাল যতটা সম্ভব লম্বা ইনিংস খেলার।' অভিষেকের সাফল্যেও উচ্ছ্বসিত ঘরামি। অভিষেকের সেঞ্চুরার রান নেওয়ার সময় তাঁকেও দেখা গেল সেলিব্রেট করতে। ঘরামি বললেন, 'ওর ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় গিয়েছে। মাঠে ফিরে ভাল খেলল বলে আনন্দ হচ্ছে দলের সকলেরই।'