Rejinagar By Election Counting: রেজিনগরে অবাককাণ্ড, গণনা শুরু হতেই বেরিয়ে গেলেন ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রার্থী, বললেন, ‘বাড়ি গিয়ে ঘুমাব’, ঘুম ভাঙলেও ফিরবেন কি? জানালেন…
রেজিনগর: প্রথম রাউন্ডে পোস্টাল ব্যালটের গণনাই দস্তুর। EVM গোনা শুরু হয় পরে। মিনিটে মিনিটে বদলায় সংখ্যা। তাই ভোটগণনার দিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে বসে থাকতে দেখা যায় প্রার্থীদের। কিন্তু রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগণনায় একেবারে উল্টো ছবি ধরা পড়ল। প্রথম রাউন্ডের পরই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে গেল

রেজিনগর: প্রথম রাউন্ডে পোস্টাল ব্যালটের গণনাই দস্তুর। EVM গোনা শুরু হয় পরে। মিনিটে মিনিটে বদলায় সংখ্যা। তাই ভোটগণনার দিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে বসে থাকতে দেখা যায় প্রার্থীদের। কিন্তু রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগণনায় একেবারে উল্টো ছবি ধরা পড়ল। প্রথম রাউন্ডের পরই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। কোনও রকম রাখঢাক না করেই জানালেন, বাড়ি চলে যাচ্ছেন তিনি। ঘুমাতে যাচ্ছেন। ঘুম ভাঙলেও ফিরতে না পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন। (Safiujjaman Seikh) শুক্রবার সকালে ৮টায় রেজিনগরে ভোটগণনা শুরু হয়। প্রথমে পোস্টাল ব্যালটের গণনা হয়। আর প্রথম রাউন্ডের পরই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় সফিউজ্জামানকে। কেন চলে যাচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, "পরিণতি যা হওয়ার হবে। প্রথম রাউন্ডে খাতা খুলেছি দেখলাম। দুই-তিন আসনে কিছু মানুষ ভোট দিয়েছেন। একেবারে জিরো করেননি। বিজেপি এখানকার শাসকদল। আমি আপাতত চলে যাচ্ছি। একটু রেস্ট নেব। ঘুমাব আমি। কাল সারারাত ঘুম হয়নি।" (Rejinagar By Election Counting) আরও পড়ুন: ভারতে ব্যবসায় বাধা ইলন মাস্ককে? সরাসরি কাদের দিকে আঙুল ধনকুবেরের? ধন্যবাদ জানালেন রাহুল গাঁধীকে ঘুম ভাঙলে কি গণনাকেন্দ্রে ফিরবেন সফিউজ্জামান? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ঘুম ভেঙে আসার প্রয়োজন হয় কি না, সেটাও প্রশ্ন। আমাদের চিন্তার কিছু নেই। চিন্তা-ফিকিরের কী আছে? মানুষ চিন্তা করেছেন। আমাদের তো চিন্তার কিছু নেই! আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। মানুষ চিন্তা করেছেন। চিন্তা তাঁদের ছিল। তাঁরা যাকে দিয়েছেন। আমাদের এখানে কী ভূমিকা আছে বলুন!" রেজিনগরে দ্বিতীয় রাউন্ডের পর এগিয়ে বিজেপি-র শাখারভ সরকার। প্রায় ১৫০০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী। কংগ্রেসের প্রার্থীকেও এদিন গণনাকেন্দ্রের বাইরে বেরিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ব্যাপক অশান্তি চোখে পড়ে। ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি, ছাপ্পাভোটের অভিযোগও ওঠে। সেই নিয়ে আম জনতে উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত বাধে। পুলিশ ভোট লুঠ করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন। পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধাক্কাধাক্কির জেরে তাঁকে আটকও করা হয়। পাঁচ মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন। নওদার আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। উপনির্বাচন প্রার্থী করেন ছেলে গোলাম নবীকে। কিন্তু ভোটের দিন কার্যত হাত তুলে নিতে দেখা যায় গোলামকে। আরও পড়ুন: ‘শুধু জ্ঞানেশ কুমার নন…সমস্যা অনেক গভীরে’, প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকাতেও প্রশ্ন, মুখ খুললেন প্রশান্ত কিশোর এদিন ভোটগণনা শুরু হলে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। গণনাকেন্দ্রে কোনও এজেন্ট পাঠায়নি তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের কোনও এজেন্টও যাননি সেখানে। কংগ্রেস এবং বামেদের এজেন্টকে দেখা গেলেও, একতরফা ভোটের অভিযোগ তোলেন তাঁরা। সেই আবহেই প্রথম রাউন্ডের পর গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন সফিউজ্জামান। এখনও পর্যন্ত সেই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ঋতব্রত-তৃণমূল। পালাবদলের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এমন পরিস্থিতি বেনজির বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।