Reliance Industries 1977 IPO : কীভাবে সাধারণ ভারতীয়দের বৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ধীরুভাই অম্বানি
Reliance Industries Limited : ১৯৭৭ সাল ছিল ভারতীয় কর্পোরেট ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেই সময় রিলায়েন্স ইল্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিয়ে এসেছিল ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)। যা ভারতবাসীকে ক্রমবর্ধমান ব্য়বসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিল। শেয়ার বাজারে যখন সাধারণ দেশবাসীর বিনিয়োগ খুব

Reliance Industries Limited : ১৯৭৭ সাল ছিল ভারতীয় কর্পোরেট ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেই সময় রিলায়েন্স ইল্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিয়ে এসেছিল ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)। যা ভারতবাসীকে ক্রমবর্ধমান ব্য়বসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিল। শেয়ার বাজারে যখন সাধারণ দেশবাসীর বিনিয়োগ খুব একটা প্রচলিত দৃষ্টান্ত ছিল না, তখন কোম্পানির প্রতিষ্টাতা ধীরুভাই অম্বানির আবেদন ভারতীয় পরিবারগুলির কাছ স্টকে বিনিয়োগের বিষয়ে নজর কাড়তে উৎসাহ জুগিয়েছিল। ABP News-এর প্রাইম টাইম টেলিভিশন প্রোগ্রাম 'জনহিত'-এ গতকাল সন্ধ্যায় সম্প্রচারিত হয়েছে এই বিষয়টি। এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন চিত্রা ত্রিপাঠি। ওই অনুষ্ঠানে দেখানো হয়, কীভাবে শুরুর দিকে রিলায়েন্সের তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ, কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ ভারতীয়র আর্থিক উচ্চাকাঙ্খাকে জুড়ে দিয়েছিল। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য় নতুন সুযোগ১৯৭৭ সালের রিলায়েন্সের IPO সাধারণ মানুষের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল। সেই সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক মহলের পাশেও সাধারণ মানুষ এই কোম্পানির আর্থিক বিকাশে সুযোগ পেয়েছিলেন। অনেক পরিবারের কাছে রিলায়েন্সের এই প্রস্তাব ছিল দারুণ সুযোগ। ভারতে ক্রমবর্ধমান কর্পোরেট সেক্টরের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার একটা নতুন রাস্তা ছিল রিলায়েন্সের এই IPO । যেসকল বিনিয়োগকারী রিলায়েন্সের এই শেয়ার ধরে রেখেছিলেন, তারা কোম্পানির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিলেন। যদিও বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত রিটার্ন তাদের হোল্ডিংস, বাজারের পরিস্থিতি ও ইনভেস্টমেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ধীরুভাই অম্বানির এই আহ্বান মূলধন সংগ্রহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোম্পনির একটা বড় যোগসূত্র গড়ে দেয়। সাদামাটা শুরু থেকে শিল্পখাতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনগুজরাতের একটি শিক্ষক পরিবারে জন্ম থেকে ধীরুভাই অম্বানি পরবর্তীকালে একটি বিশাল শিল্প সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হয়ে ওঠেন। তার শিল্প গড়ে তোলার এই যাত্রাপথে তিনি তথাকথিত বা প্রচলিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তাঁর ব্যবসায়িক দর্শন উচ্চাকাঙ্খা, সম্প্রসারণ ও কর্পোরেট জগতের বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ধীরুভাই অম্বানির কাজের এই পদ্ধতি কোম্পানির বিকাশ ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে রিলায়েন্সের পরিচয় বা ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিলায়েন্স একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। রিলায়েন্সের ইতিহাস দর্শায়, শেয়ারে দীর্ঘ সময়ে বিনিয়োগ তহবিল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বাজারের উত্থান-পতন ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলোর কথাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে কোম্পানির সিদ্ধান্তে। ১৯৭৭ সালের ধীরুভাই অম্বানির সেই মাইলফলক আজও কেন প্রাসঙ্গিকরিলায়েন্সের প্রথম IPO কোম্পানির বিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি ভারতে বৃহত্তর পরিসরে খুচরো বিনিয়োগে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। কীভাবে পাবলিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রসারে প্রতিষ্ঠানগুলি মূলধন সংগ্রহ করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হয়ে দাড়িয়েছিল ধীরুভাইয়ের এই উদ্যোগ। যেখানে সাধারণ মানুষও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির সুফল পেতে পারত। এবার সেই ইতিহাসই তুলে ধরা হয়েছে এবিপি নিউজের 'জনহিত' অনুষ্ঠানে। সেই সময়কার ঘটনপ্রবাহ ও ধীরুভাই অম্বানির দূরদর্শিতা ও রিলায়েন্স ইতিহাস উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রোগ্রামে। এই অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। কীভাবে কোম্পানির বৃদ্ধি সাধারণ নাগরিকের আর্থিক আকাঙ্খার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল ১৯৭৭ সালের এই প্রস্তাব।