Ritabrata TMC On Abhishek: "অভিষেককে 'সাইড' করলেই পুরনো সহযোগীদের পাশে পেতে পারেন মমতা..", মত ঋতব্রতপন্থী অনেক নেতার
শুভেন্দু ভট্টাচার্য, সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলে অভিষেক-বিরোধী স্বরের ছড়াছড়ি দেখেছে রাজ্য রাজনীতি। আর, 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর প্রদীপ যখন টিমটিম করে জ্বলছে, তখন অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর পথে পা

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলে অভিষেক-বিরোধী স্বরের ছড়াছড়ি দেখেছে রাজ্য রাজনীতি। আর, 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর প্রদীপ যখন টিমটিম করে জ্বলছে, তখন অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর পথে পা বাড়ানো 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর একদা বর্ষীয়ান নেতারা তো একেবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িকভাবে আলাদা করে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করছেন। ঋতব্রতপন্থী অনেক নেতারই আবার মত, একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'সাইড' করলেই পুরনো সহযোগীদের পাশে পেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। [yt]https://youtu.be/yw7Sp-9cG4w?si=0p2bQkk04LlegERp[/yt] আরও পড়ুন, তারকেশ্বরে 'শ্রাবণী মেলা' চলাকালীন ট্রেন চলাচলে বিশেষ ব্যবস্থা, ঘোষণা পূর্ব রেলের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অনুব্রত মণ্ডলের মতো প্রবীণ তৃণমূল নেতারাও এখন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের থেকে দূরে সরে গেছেন।ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে যে অভিষেক-বিরোধী ঝড় বইছিল, তা কার্যত এখন পরিণত হয়েছে সাইক্লোনে। প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, অভিষেককে কিছুদিনের জন্য তাকে আলাদা করে দেওয়া উচিত, সাইড করে দেওয়া উচিত। রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। দিদি যদি সংশোধন করে, মানুষের দাবির প্রতি যদি দিদি আস্থা দেখায়, অর্থাৎ অভিষেককে যদি সাইড করে দেয় দল থেকে তাহলে হয়তো আবারও সমস্ত নেতা-নেত্রী, MLA, MP আবার ফিরতে পারে দিদির পাশে।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। সেই জায়গায় এইরকমভাবে বীরভূমটা গোটাটা এই অবস্থা হল কেন? প্রশ্নে সিউড়ির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, সেটা তো আমার মনে হয় ওনার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রতি তো অনেকের শ্রদ্ধা, ভালবাসা সবই আছে। কিন্তু সেনাপতি, তাঁর প্রতি আমাদের ভরসা নেই।' ঋতব্রত-তৃণমূলে সদ্য পদ পেয়েছেন সন্তোষ কুমার সিং। তিনিও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে সরানোর সওয়াল করেছেন। শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা (ঋতব্রত-তৃণমূল) সভাপতি সন্তোষ কুমার সিং বলেন,'আমাদের পরিষ্কার কথা যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় যেভাবে কর্পোরেট তৃণমূলের নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, জানেন ৮০টার উপরে MLA কেটেছিল। যদি ২০০ সিটও তৃণমূল এবারে পেত ৮০ থেকে ৯০ জন MLA প্রথম মিটিং-এই যেত না। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যেদিন সরে যাবে দেখবেন, সেদিনটা দেখবেন। কী হয় দেখে নেবেন। সরকারটাকেই পুরো কব্জায় করে নিয়েছিল।' রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পাশাপাশি ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা কমিটিতে নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা আরেক ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন অনুব্রত মণ্ডলের। তিনিও আই প্য়াকের নাম করে ঘুরিয়ে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেই নিশানা করছেন। তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুলের জন্য হল। আইপ্যাক হয়ে গেছে ফেকপ্যাক। দিদির হাতে থাকলে দলটা যেতই না। আমি কারও নাম করতে রাজি নই। ছোট থেকে তো ও (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) রাজনীতি করেনি, দেওয়ালও লেখেনি, মিছিলও করেনি। সেটা আমরা করেছি। সেইভাবে তো ওঁকে করতে হয়নি।'ঘুরেফিরে নিশানায় একজনই, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কিন্তু, ভাঙা-গড়া-বিদ্রোহ-ঘনিষ্ঠদের দূরে সরে যাওয়া-এসবের মধ্য়েও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে সরানোর কোনও ইঙ্গিতই এখনও অবধি দেননি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।