Shiva Sharma Death Case: পছন্দ দামি উপহার, নেতাদের সঙ্গে যোগ শ্রদ্ধার! শিব শর্মা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে
লখনউয়ের শিব হত্যা মামলায় নয়া মোড়। পুলিশি তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবে শুধুমাত্র দামী উপহার পছন্দ করতেন এবং প্রতি বছর নিজের ফোন নম্বর পরিবর্তন করতেন। বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাদের স

লখনউয়ের শিব হত্যা মামলায় নয়া মোড়। পুলিশি তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবে শুধুমাত্র দামী উপহার পছন্দ করতেন এবং প্রতি বছর নিজের ফোন নম্বর পরিবর্তন করতেন। বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। তাদের ছবি দেখিয়ে প্রভাবিত করতেন শ্রদ্ধা। এমনকি তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেও এই ছবিগুলো ব্যবহার করতেন। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, শ্রদ্ধা তাঁর বোন রশ্মির সঙ্গে নেপালে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছিল তার এক পুরোনো পরিচিত, আমির। জিজ্ঞাসাবাদে আমির পুলিশকে জানায় যে ঘটনার দিন শ্রদ্ধা তাঁকে ফোন করে রুপাইদিহা সীমান্তে নামিয়ে দিতে বলেন। এরপর আমির তার নিজের সুইফট ডিজায়ার গাড়ি চালিয়ে কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারে যায়। সেখান থেকে দুই বোনকে নিয়ে নেপাল সীমান্তের কাছের এলাকা রুপাইদিহায় নিয়ে যায়। পুলিশ সন্দেহ করছে যে, দুই বোন এই পথ ধরেই নেপালে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। কে এই শ্রদ্ধা দুবে ? কেন ২০২২ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল ? শ্রদ্ধা দুবে রায়বেরেলির বাসিন্দা। ২০২০ সালে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে বিবাদের পর ২০২২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁদের এক ছেলে আছে। ছেলেটি তাঁর স্বামীর সঙ্গেই থাকে। বিবাহবিচ্ছেদের পর শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মি লখনউতে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তাঁরা দুজনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং ক্লাব ও পার্টিতে যেতে ভালোবাসতেন। লখনউয়ের হজরতগঞ্জ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে শিব-এর মৃত্যু হয়। যিনি, একটি ক্যাফের মালিকও ছিলেন। এই ঘটনায় একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা সহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবে, তার বোন রশ্মি দুবে এবং তাদের গাড়ির চালক। নিহত শিব, শ্রদ্ধার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন জানা গিয়েছে। শ্রদ্ধা ও তার বোন রশ্মি সামিট বিল্ডিং, প্যালাসিও মল এবং অন্যান্য বারে প্রায়ই যাতায়াত করতেন। তাঁরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। এভাবেই দুই বোন লোকজনকে প্রলুব্ধ করতেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেল করতেন। জানা যায়, তাঁরা এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেল করে ২৫ লক্ষ টাকা আদায় করেছিলেন। তদন্ত থেকে কী জানা যায় ? লখনউ পুলিশের একটি দল শ্রদ্ধার দীর্ঘদিনের বন্ধু আমিরের বাড়িতে অভিযান চালায়। জানা যায় যে, আমির ইলেকট্রনিক জিনিস কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে শ্রদ্ধা তার কাছ থেকে টাকা ধারও নিয়েছিল, যার ফলে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পুলিশের আরেকটি দল সীতাপুরে অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবের ড্রাইভার দানিশের বাড়িতেও অভিযান চালায়, কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। একটি দল রায়বরেলিতে শ্রদ্ধার বোনদের বাড়িতেও গিয়েছিল।